শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত, কমছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি
কালীগঞ্জে পোল্ট্রি খামারের দুর্গন্ধে বাইরে পাঠদান
- প্রকাশের সময় : ০৫:০৫:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
- / 8
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারপাখিয়া দাখিল মাদ্রাসার পাশে গড়ে ওঠা পোল্ট্রি খামারের দুর্গন্ধে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। দুর্গন্ধের কারণে অধিকাংশ সময় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে মাদ্রাসার সুপার ও শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষের বাইরে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন।
বারপাখিয়া গ্রামের প্রবাসী জসিম উদ্দিনের স্ত্রী মলিনা বেগম নিজ বাড়িতে পোল্ট্রি খামারটি গড়ে তুলেছেন। মাদ্রাসার কাছাকাছি হওয়ায় খামার থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধে নিয়মিত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। এতে পড়াশোনার পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হারও কমতে শুরু করেছে বলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
মাদ্রাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুরসালি বলেন, ‘দুর্গন্ধের কারণে শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনা করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। বাতাসে সব সময় দুর্গন্ধ ভেসে বেড়ায়। বেশ কিছুদিন ধরে এমন অবস্থা চললেও কোনো সমাধান হয়নি।’
মাদ্রাসার সুপার আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। তাঁর পরামর্শে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সামাজিকভাবেও সমাধানের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন তারা। প্রচণ্ড দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিকভাবে ক্লাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে খামারি মলিনা বেগম বলেন, তিনি নিজ বাড়িতে অল্প পরিমাণে পোল্ট্রি মুরগি পালন করেন। এক মাস বয়স হলে মুরগিগুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, প্রথম ২০ দিন তেমন দুর্গন্ধ থাকে না; শেষের দিকে প্রায় ১০ দিন কিছুটা দুর্গন্ধ হয়। এ সময়টুকু শিক্ষার্থীরা সহ্য করলে কী এমন হয়।
কয়েকজন অভিভাবক বলেন, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে এ ধরনের পোল্ট্রি খামার থাকা কাম্য নয়। দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে। তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে খামারটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, ‘মাদ্রাসা থেকে শিক্ষকরা আমার কাছে এসেছিলেন। বর্তমানে বিষয়টি কী পর্যায়ে আছে, তা খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
ঝিনাইদহ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কমল কুমার বর্মন বলেন, তিনি প্রতিষ্ঠানটিতে গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।






















