Dhaka ০১:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
নওগাঁ সদর থানার অভিযানে ৪৭ লিটার চোলাই মদসহ দুই মাদক কারবারি আটক জাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, মৌমিতা পরিবহনের ৬ বাস আটক কালীগঞ্জে বেড়েছে গরু চুরি, আতঙ্কে খামারিরা মাহি ছাড়াও যাদের উত্ত্যক্ত করতেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ মহাখালীতে পুরুষাঙ্গ কর্তনের পর যুবকের মৃত্যু, পরকীয়া প্রেমিকা আটক এইচএসসির প্রশ্ন কমন না পড়ায় কেন্দ্রে হুলুস্থুল, দলবেঁধে হামলা-ভাঙচুর স্বস্তির জয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়াল বাংলাদেশ কোটচাঁদপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের ওপর উঠে গেল বাস, নিহত ৫ বাংলাদেশিদের জন্য অভিবাসী ভিসা স্থগিতের কারণ জানাল যুক্তরাষ্ট্র

স্বস্তির জয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়াল বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৯:২৪:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • / 14

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তৃতীয় এবং সর্বশেষ ওয়ানডে ম্যাচে বীরের বেশে খেললো বাংলাদেশ। আগের দুই ম্যাচ হেরে সিরিজ হার নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল আগেই। এই ম্যাচ তাই ছিল কেবলই নিয়মরক্ষার। তবুও জয় তো এসেছে অবশেষে। জিম্বাবুয়েকে ৭ উইকেটে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়িয়েছে টাইগাররা। সিরিজ হেরেছে ২-১ ব্যবধানে।

হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে এদিনও টসে জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। জিম্বাবুয়ের হয়ে ওপেনিংয়ে নেমেছিলেন ব্রায়ান বেনেট এবং বেন কারান। ওপেনিং জুটিটা বেশিক্ষণ টেকেনি। দলের ১২ রানের মাথাতে সাজঘরে ফিরেছেন কারান। ১৩ বলে ২ রান করা বেন কারানকে ফিরিয়ে দেন শরিফুল ইসলাম। পরের ওভারেই বিদায় নিয়েছেন আরেক ওপেনার ব্রায়ান বেনেট। ১৯ বলে ৬ রান করা বেনেটকে ফিরিয়ে দেন তাসকিন আহমেদ।

এরপর ক্রিজে জুটি বাধেন ইনোসেন্ট কাইয়া এবং ক্রেইগ আরভিন। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন কিছুটা। আরভিন ভালো শুরু পেয়েছেন। তবে লম্বা করতে পারেননি ইনিংস। ২০ বলে ৫ রান করা আরভিনকে বিদায় করেছেন শরিফুল ইসলাম। দলের ২৭ রানের মাথাতে বিদায় নেন ক্রেইগ আরভিন।

কাইয়া ধীরে ধীরে রান বাড়িয়েছেন। উইকেটের চারপাশে খেলেছেন দারুণ সব শট। কার্যকরী ব্যাটিংয়ে এগিয়েছেন। কাইয়ার সাথে আরেক প্রান্তে জুটি বাঁধেন ওয়েসলি মাধেভেরে। সাবলীল ব্যাটিংয়ে এগিয়েছেন কাইয়া-মাধেভেরে। উইকেটের চারপাশে দারুণ সব শটে রান বের করেছেন। শুরুর ধাক্কা কিছুটা সামাল দিয়েছে জিম্বাবুয়ে।

সময়ের সাথে সাথে রানের গতি বাড়িয়েছেন কাইয়া এবং মাধেভেরে। কাইয়া কিছুটা সাবধানী ব্যাটিংয়ে এগিয়েছেন। মাধেভেরে চালিয়ে খেলেছেন। কাইয়া ভালো শুরু পেলেও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি সেভাবে। ৬৭ বলে ২৫ রানের ইনিংস খেলে দলের ৭৮ রানের মাথাতে বিদায় নিয়েছেন ইনোসেন্ট কাইয়া।

ছয়ে নেমে ক্রিজে আসেন সিকান্দার রাজা। যোগ দিয়েছেন মাধেভেরের সাথে। এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলে গেছেন মাধেভেরে। রাজাও শুরুটা ভালোই করেছিলেন। উইকেটের চারপাশে দুর্দান্ত সব শটে রান বের করেছেন মাধেভেরে। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দলের বোর্ডে রান তুলেছেন। সাথে স্ট্রাইক রোটেট করেছেন সিঙ্গেল বের করে। সুযোগ বুঝে বের করেছেন বাউন্ডারিও। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে দ্রুত রান তোলেন ওয়েসলি মাধেভেরে। ছুঁয়ে ফেলেন ফিফটিও।

ফিফটির পর রানের গতি আরও বাড়িয়েছেন মাধেভেরে। বাংলাদেশের বোলারদের বিপক্ষে সবচেয়ে সাবলীল মনে হয়েছে তাকেই। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে রান বের করেছেন তিনি। ছিলেন দারুণ কৌশলীও। ছয়ে নামা সিকান্দার রাজা এদিন ভালো শুরু পেলেও ইনিংস লম্বা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ২৫ বলে ১১ রানের ইনিংস খেলে দলের ১০৭ রানের মাথাতে বিদায় নিয়েছেন রাজা। তাকে ফিরিয়েছেন তানভীর ইসলাম।

রাজার বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন ক্লিভ মাদান্দে। ৫ বলে ১ রান করে সাজঘরে ফিরে যান মাদান্দে। তাকে বিদায় করেন শরিফুল ইসলাম।

এরপর ক্রিজে যোগ দিয়েছেন ব্র্যাড ইভান্স। ফিফটি হাঁকিয়ে ছুটতে থাকা মাধেভেরের সামনে সেঞ্চুরির সুযোগও ছিল। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি মাধেভেরে। ৭৪ বলে ৭৫ রানের ঝলমলে এক ইনিংস খেলে দলের ১৫১ রানের মাথাতে বিদায় নিয়েছেন ওয়েসলি মাধেভেরে। মেহেদী হাসান মিরাজের ক্যাচ বানিয়ে তাকে সাজঘরে ফিরিয়েছেন তানভীর ইসলাম।

শেষ দিকে দলের হাল ধরেছেন আগের ম্যাচে ঝড়ো ফিফটি হাঁকানো ব্র্যাড ইভান্স। এদিনও ধুমধাড়াক্কা মেজাজে রান বের করেছেন ইভান্স। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে তুলে নেন ফিফটিও। শেষ দিকে ইভান্সের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের সুবাদেই দুইশর খুব কাছাকাছি চলে যায় জিম্বাবুয়ে। যদিও শেষ পর্যন্ত দুইশ ছোঁয়া হয়নি। ফিফটি হাঁকানো ইভান্স ৪৩ বলে ৫০ রান করে থেমেছেন দলের ১৯৭ রানের মাথাতে। ৪৮.১ ওভার শেষে ১৯৯ রান করে অলআউট হয়েছে জিম্বাবুয়ে।

বাংলাদেশের হয়ে ৪ উইকেট শিকার করেছেন শরিফুল ইসলাম। ২টি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ এবং তানভীর ইসলাম। ১ উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। দারুণ ছন্দে ছিলেন টাইগার বোলাররা।

জবাব দিতে নেমে বাংলাদেশকে উড়ন্ত সূচনা এনে দিয়েছেন দুই ওপেনার সৌম্য সরকার এবং তানজিদ হাসান তামিম। শুরু থেকেই চালিয়ে খেলেছেন দুজন। উইকেটের চারপাশে খেলেছেন দারুণ সব শট। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে দলের বোর্ডে রান তুলেছেন। নিজেরাও বাড়িয়েছেন রান। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে জিম্বাবুয়ের বোলারদের তুলোধুনো করে এগিয়েছে তানজিদ এবং সৌম্য।

প্রথম পাওয়ারপ্লের ১০ ওভারে বিনা উইকেটে ৫৯ রান তোলে বাংলাদেশ। পাওয়ারপ্লে শেষেও ছুটেছে টাইগারদের ইনিংস। চলেছে সৌম্য-তানজিদের উইলোবাজি। দুজনের কার্যকরী ব্যাটিংয়ে ছুটে চলেছে বাংলাদেশের ইনিংসও, একদম অপ্রতিরোধ্য গতিতে। জিম্বাবুয়ের বোলারদের তেমন কোনো সুযোগ না দিয়ে রান বাড়িয়ে নিয়েছেন দুই ওপেনার। সিঙ্গেল-ডাবলসে স্ট্রাইক রোটেট করেছেন। সুযোগ পেলে মেরেছেন বাউন্ডারিও। দুজনের কৌশলী ব্যাটিংয়ে হেসেখেলে এগিয়েছে বাংলাদেশের ইনিংস।

ব্যাট হাতে ছন্দে ছিলেন দুই ওপেনার তানজিদ-সৌম্য। দুজনই ছুঁয়ে ফেলেন ফিফটি। দারুণ সাবলীল ব্যাটিংয়ে দলের রান বাড়িয়েছেন দুজন। ফিফটির পরেও চলেছে ব্যাটিং তাণ্ডব। ছুটেছে বাংলাদেশের ইনিংস। এদিন যেন দুই টাইগার ওপেনারকে থামানোর কেউ ছিল না জিম্বাবুয়ের শিবিরে। পুরো ফায়দা লুটে দ্রুত রান তুলেছেন সৌম্য-তানজিদ। আগের দুই ম্যাচ নিয়ে তাতে কিছুটা আফসোসও বাড়িয়েছেন। ইশ, এভাবে যদি আগের দুই ম্যাচেও ব্যাট করা যেত, কতই না ভালো হত!

তবে যা হয়নি তা নিয়ে আর অদ্ভুত কাল্পনিক আলাপ করে তো খুব একটা লাভ নেই। যা আছে তা নিয়েই সামনে তাকানো যাক। ফিফটির পরেও সামনে এগিয়েছেন সৌম্য-তানজিদ। দলকে নিয়ে যাচ্ছিলেন জয়ের খুব কাছে। বাজে বল পেলেই হাঁকিয়েছেন বাউন্ডারি। সাথে সিঙ্গেল-ডাবলস তুলেছেন। তাতেইব সচল ছিল রানের চাকা। জিম্বাবুইয়ান বোলারদের পিটিয়ে তক্তা বানিয়ে দলের রান বাড়িয়েছেন সৌম্য-তানজিদ। এভাবেই তো রান তাড়া করতে হয়। জিম্বাবুয়ে কিছু সুযোগ সৃষ্টি করেছিল যদিও। তবে ফিল্ডারদের মাখন গলানো হাতের সুবাদে ক্যাচ পড়েছে বেশ কিছু। যে কারণে সুযোগ সৃষ্টি করলেও উইকেটের দেখা পাচ্ছিলেন না জিম্বাবুয়ের বোলাররা।

দেড়শ পার করে ওপেনিং জুটি। তবে দেড়শ পার করেই যেন লাগে শনি। ১৫১ রানের মাথাতে সৌম্য সরকার এবং তানজিদ হাসান তামিমের ওপেনিং জুটি ভাঙে। তানাকা চিভাঙ্গার বলে বোল্ড হয়ে ৮২ বলে ৬৯ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরে যান সৌম্য সরকার।

তিনে নেমে তানজিদ হাসান তামিমের সাথে যোগ দিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। সেট ব্যাটার সৌম্যকে হারালেও অতটা সমস্যা হয়নি বাংলাদেশের। দেখেশুনে রান বের করেছেন শান্ত। শুরুটা দারুণ করেন তিনি। বের করেছেন বেশ কিছু বাউন্ডারিও। আরেক প্রান্তে তানজিদের আগ্রাসী ব্যাটিং চলছিল। বোলারের মাথার উপর দিয়ে হাঁকিয়েছেন অসাধারণ এক ছক্কাও। মেরেছেন একের পর এক চার।

শেষ দিকে কিছুটা দ্রুতই জয়ের কাছাকাছি যেতে থাকে বাংলাদেশ। তানজিদ চলে যান সেঞ্চুরির অনেক কাছে। শান্ত-তানজিদের উইলোবাজিতে ছুটেছে বাংলাদেশের ইনিংস।

তানজিদ সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েছিলেন। তবে শেষ দিকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ৯৪ রানের মাথাতে আউট হয়েছেন, মিস করেছেন সেঞ্চুরিটা। শেষ দিকে তাওহিদ হৃদয়ও বিদায় নেন, রানের খাতা খোলার আগেই। পাঁচে নামা নুরুল হাসান সোহানকে নিয়ে শান্ত বাকি কাজ সেরেছেন। ২৮ বলে ১৮ রান করে টিকে ছিলেন শান্ত। ৩ বলে ০ রান করে অপরাজিত ছিলেন সোহান। ৮৪ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটে জয়লাভ করে বাংলাদেশ দল।

জিম্বাবুয়ের হয়ে এরনেস্ট মাসুকু ২ উইকেট শিকার করেছেন। তানাকা চিভাঙ্গা নেন ১ উইকেট।

সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে হারালেও আগের দুই ম্যাচে হেরেছিল বাংলাদেশ। সিরিজ পরাজয় নিশ্চিত হয়ে যায় সেখানেই। ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ এড়িয়েছে টাইগাররা। হেরেছে ২-১ ব্যবধানে।

এবার তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে মাঠে নামার অপেক্ষায় দুই দল। ১৫, ১৭ এবং ১৯ জুলাই মাঠে গড়াচ্ছে টি-টোয়েন্টি সিরিজের তিন ম্যাচ, বুলাওয়েতে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

স্বস্তির জয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়াল বাংলাদেশ

প্রকাশের সময় : ০৯:২৪:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তৃতীয় এবং সর্বশেষ ওয়ানডে ম্যাচে বীরের বেশে খেললো বাংলাদেশ। আগের দুই ম্যাচ হেরে সিরিজ হার নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল আগেই। এই ম্যাচ তাই ছিল কেবলই নিয়মরক্ষার। তবুও জয় তো এসেছে অবশেষে। জিম্বাবুয়েকে ৭ উইকেটে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়িয়েছে টাইগাররা। সিরিজ হেরেছে ২-১ ব্যবধানে।

হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে এদিনও টসে জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। জিম্বাবুয়ের হয়ে ওপেনিংয়ে নেমেছিলেন ব্রায়ান বেনেট এবং বেন কারান। ওপেনিং জুটিটা বেশিক্ষণ টেকেনি। দলের ১২ রানের মাথাতে সাজঘরে ফিরেছেন কারান। ১৩ বলে ২ রান করা বেন কারানকে ফিরিয়ে দেন শরিফুল ইসলাম। পরের ওভারেই বিদায় নিয়েছেন আরেক ওপেনার ব্রায়ান বেনেট। ১৯ বলে ৬ রান করা বেনেটকে ফিরিয়ে দেন তাসকিন আহমেদ।

এরপর ক্রিজে জুটি বাধেন ইনোসেন্ট কাইয়া এবং ক্রেইগ আরভিন। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন কিছুটা। আরভিন ভালো শুরু পেয়েছেন। তবে লম্বা করতে পারেননি ইনিংস। ২০ বলে ৫ রান করা আরভিনকে বিদায় করেছেন শরিফুল ইসলাম। দলের ২৭ রানের মাথাতে বিদায় নেন ক্রেইগ আরভিন।

কাইয়া ধীরে ধীরে রান বাড়িয়েছেন। উইকেটের চারপাশে খেলেছেন দারুণ সব শট। কার্যকরী ব্যাটিংয়ে এগিয়েছেন। কাইয়ার সাথে আরেক প্রান্তে জুটি বাঁধেন ওয়েসলি মাধেভেরে। সাবলীল ব্যাটিংয়ে এগিয়েছেন কাইয়া-মাধেভেরে। উইকেটের চারপাশে দারুণ সব শটে রান বের করেছেন। শুরুর ধাক্কা কিছুটা সামাল দিয়েছে জিম্বাবুয়ে।

সময়ের সাথে সাথে রানের গতি বাড়িয়েছেন কাইয়া এবং মাধেভেরে। কাইয়া কিছুটা সাবধানী ব্যাটিংয়ে এগিয়েছেন। মাধেভেরে চালিয়ে খেলেছেন। কাইয়া ভালো শুরু পেলেও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি সেভাবে। ৬৭ বলে ২৫ রানের ইনিংস খেলে দলের ৭৮ রানের মাথাতে বিদায় নিয়েছেন ইনোসেন্ট কাইয়া।

ছয়ে নেমে ক্রিজে আসেন সিকান্দার রাজা। যোগ দিয়েছেন মাধেভেরের সাথে। এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলে গেছেন মাধেভেরে। রাজাও শুরুটা ভালোই করেছিলেন। উইকেটের চারপাশে দুর্দান্ত সব শটে রান বের করেছেন মাধেভেরে। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দলের বোর্ডে রান তুলেছেন। সাথে স্ট্রাইক রোটেট করেছেন সিঙ্গেল বের করে। সুযোগ বুঝে বের করেছেন বাউন্ডারিও। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে দ্রুত রান তোলেন ওয়েসলি মাধেভেরে। ছুঁয়ে ফেলেন ফিফটিও।

ফিফটির পর রানের গতি আরও বাড়িয়েছেন মাধেভেরে। বাংলাদেশের বোলারদের বিপক্ষে সবচেয়ে সাবলীল মনে হয়েছে তাকেই। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে রান বের করেছেন তিনি। ছিলেন দারুণ কৌশলীও। ছয়ে নামা সিকান্দার রাজা এদিন ভালো শুরু পেলেও ইনিংস লম্বা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ২৫ বলে ১১ রানের ইনিংস খেলে দলের ১০৭ রানের মাথাতে বিদায় নিয়েছেন রাজা। তাকে ফিরিয়েছেন তানভীর ইসলাম।

রাজার বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন ক্লিভ মাদান্দে। ৫ বলে ১ রান করে সাজঘরে ফিরে যান মাদান্দে। তাকে বিদায় করেন শরিফুল ইসলাম।

এরপর ক্রিজে যোগ দিয়েছেন ব্র্যাড ইভান্স। ফিফটি হাঁকিয়ে ছুটতে থাকা মাধেভেরের সামনে সেঞ্চুরির সুযোগও ছিল। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি মাধেভেরে। ৭৪ বলে ৭৫ রানের ঝলমলে এক ইনিংস খেলে দলের ১৫১ রানের মাথাতে বিদায় নিয়েছেন ওয়েসলি মাধেভেরে। মেহেদী হাসান মিরাজের ক্যাচ বানিয়ে তাকে সাজঘরে ফিরিয়েছেন তানভীর ইসলাম।

শেষ দিকে দলের হাল ধরেছেন আগের ম্যাচে ঝড়ো ফিফটি হাঁকানো ব্র্যাড ইভান্স। এদিনও ধুমধাড়াক্কা মেজাজে রান বের করেছেন ইভান্স। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে তুলে নেন ফিফটিও। শেষ দিকে ইভান্সের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের সুবাদেই দুইশর খুব কাছাকাছি চলে যায় জিম্বাবুয়ে। যদিও শেষ পর্যন্ত দুইশ ছোঁয়া হয়নি। ফিফটি হাঁকানো ইভান্স ৪৩ বলে ৫০ রান করে থেমেছেন দলের ১৯৭ রানের মাথাতে। ৪৮.১ ওভার শেষে ১৯৯ রান করে অলআউট হয়েছে জিম্বাবুয়ে।

বাংলাদেশের হয়ে ৪ উইকেট শিকার করেছেন শরিফুল ইসলাম। ২টি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ এবং তানভীর ইসলাম। ১ উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। দারুণ ছন্দে ছিলেন টাইগার বোলাররা।

জবাব দিতে নেমে বাংলাদেশকে উড়ন্ত সূচনা এনে দিয়েছেন দুই ওপেনার সৌম্য সরকার এবং তানজিদ হাসান তামিম। শুরু থেকেই চালিয়ে খেলেছেন দুজন। উইকেটের চারপাশে খেলেছেন দারুণ সব শট। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে দলের বোর্ডে রান তুলেছেন। নিজেরাও বাড়িয়েছেন রান। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে জিম্বাবুয়ের বোলারদের তুলোধুনো করে এগিয়েছে তানজিদ এবং সৌম্য।

প্রথম পাওয়ারপ্লের ১০ ওভারে বিনা উইকেটে ৫৯ রান তোলে বাংলাদেশ। পাওয়ারপ্লে শেষেও ছুটেছে টাইগারদের ইনিংস। চলেছে সৌম্য-তানজিদের উইলোবাজি। দুজনের কার্যকরী ব্যাটিংয়ে ছুটে চলেছে বাংলাদেশের ইনিংসও, একদম অপ্রতিরোধ্য গতিতে। জিম্বাবুয়ের বোলারদের তেমন কোনো সুযোগ না দিয়ে রান বাড়িয়ে নিয়েছেন দুই ওপেনার। সিঙ্গেল-ডাবলসে স্ট্রাইক রোটেট করেছেন। সুযোগ পেলে মেরেছেন বাউন্ডারিও। দুজনের কৌশলী ব্যাটিংয়ে হেসেখেলে এগিয়েছে বাংলাদেশের ইনিংস।

ব্যাট হাতে ছন্দে ছিলেন দুই ওপেনার তানজিদ-সৌম্য। দুজনই ছুঁয়ে ফেলেন ফিফটি। দারুণ সাবলীল ব্যাটিংয়ে দলের রান বাড়িয়েছেন দুজন। ফিফটির পরেও চলেছে ব্যাটিং তাণ্ডব। ছুটেছে বাংলাদেশের ইনিংস। এদিন যেন দুই টাইগার ওপেনারকে থামানোর কেউ ছিল না জিম্বাবুয়ের শিবিরে। পুরো ফায়দা লুটে দ্রুত রান তুলেছেন সৌম্য-তানজিদ। আগের দুই ম্যাচ নিয়ে তাতে কিছুটা আফসোসও বাড়িয়েছেন। ইশ, এভাবে যদি আগের দুই ম্যাচেও ব্যাট করা যেত, কতই না ভালো হত!

তবে যা হয়নি তা নিয়ে আর অদ্ভুত কাল্পনিক আলাপ করে তো খুব একটা লাভ নেই। যা আছে তা নিয়েই সামনে তাকানো যাক। ফিফটির পরেও সামনে এগিয়েছেন সৌম্য-তানজিদ। দলকে নিয়ে যাচ্ছিলেন জয়ের খুব কাছে। বাজে বল পেলেই হাঁকিয়েছেন বাউন্ডারি। সাথে সিঙ্গেল-ডাবলস তুলেছেন। তাতেইব সচল ছিল রানের চাকা। জিম্বাবুইয়ান বোলারদের পিটিয়ে তক্তা বানিয়ে দলের রান বাড়িয়েছেন সৌম্য-তানজিদ। এভাবেই তো রান তাড়া করতে হয়। জিম্বাবুয়ে কিছু সুযোগ সৃষ্টি করেছিল যদিও। তবে ফিল্ডারদের মাখন গলানো হাতের সুবাদে ক্যাচ পড়েছে বেশ কিছু। যে কারণে সুযোগ সৃষ্টি করলেও উইকেটের দেখা পাচ্ছিলেন না জিম্বাবুয়ের বোলাররা।

দেড়শ পার করে ওপেনিং জুটি। তবে দেড়শ পার করেই যেন লাগে শনি। ১৫১ রানের মাথাতে সৌম্য সরকার এবং তানজিদ হাসান তামিমের ওপেনিং জুটি ভাঙে। তানাকা চিভাঙ্গার বলে বোল্ড হয়ে ৮২ বলে ৬৯ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরে যান সৌম্য সরকার।

তিনে নেমে তানজিদ হাসান তামিমের সাথে যোগ দিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। সেট ব্যাটার সৌম্যকে হারালেও অতটা সমস্যা হয়নি বাংলাদেশের। দেখেশুনে রান বের করেছেন শান্ত। শুরুটা দারুণ করেন তিনি। বের করেছেন বেশ কিছু বাউন্ডারিও। আরেক প্রান্তে তানজিদের আগ্রাসী ব্যাটিং চলছিল। বোলারের মাথার উপর দিয়ে হাঁকিয়েছেন অসাধারণ এক ছক্কাও। মেরেছেন একের পর এক চার।

শেষ দিকে কিছুটা দ্রুতই জয়ের কাছাকাছি যেতে থাকে বাংলাদেশ। তানজিদ চলে যান সেঞ্চুরির অনেক কাছে। শান্ত-তানজিদের উইলোবাজিতে ছুটেছে বাংলাদেশের ইনিংস।

তানজিদ সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েছিলেন। তবে শেষ দিকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ৯৪ রানের মাথাতে আউট হয়েছেন, মিস করেছেন সেঞ্চুরিটা। শেষ দিকে তাওহিদ হৃদয়ও বিদায় নেন, রানের খাতা খোলার আগেই। পাঁচে নামা নুরুল হাসান সোহানকে নিয়ে শান্ত বাকি কাজ সেরেছেন। ২৮ বলে ১৮ রান করে টিকে ছিলেন শান্ত। ৩ বলে ০ রান করে অপরাজিত ছিলেন সোহান। ৮৪ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটে জয়লাভ করে বাংলাদেশ দল।

জিম্বাবুয়ের হয়ে এরনেস্ট মাসুকু ২ উইকেট শিকার করেছেন। তানাকা চিভাঙ্গা নেন ১ উইকেট।

সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে হারালেও আগের দুই ম্যাচে হেরেছিল বাংলাদেশ। সিরিজ পরাজয় নিশ্চিত হয়ে যায় সেখানেই। ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ এড়িয়েছে টাইগাররা। হেরেছে ২-১ ব্যবধানে।

এবার তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে মাঠে নামার অপেক্ষায় দুই দল। ১৫, ১৭ এবং ১৯ জুলাই মাঠে গড়াচ্ছে টি-টোয়েন্টি সিরিজের তিন ম্যাচ, বুলাওয়েতে।