মেয়েকে হত্যা করে বস্তাবন্দী লাশ সড়কে ফেলে দেন বাবা-মা
- প্রকাশের সময় : ০৪:০৫:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
- / 10
খুলনা নগরীর প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় কিশোরীর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নিহতের মা আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতে দেওয়া তার জবানবন্দিতে তিনি নিজের মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। হত্যার পর মেয়ের মরদেহ সড়কে ফেলে দেন বাবা-মা। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আলিম হোসেন আকাশ পলাতক রয়েছেন।
আজ শনিবার (১১ জুলাই) প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান প্রেস ব্রিফিং করেন।
গত ৮ জুলাই রাত আনুমানিক ৯টার দিকে প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর রোডে একটি প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর থেকে অজ্ঞাতনামা কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয় এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করে সদর থানা-পুলিশ।
তদন্তের শুরুতেই পুলিশ নিহতের পরিচয় শনাক্তে সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে। একপর্যায়ে নিহতের পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর গতকাল শুক্রবার (১০ জুলাই) পুলিশ বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে।
তদন্ত কার্যক্রমের বিষয় উল্লেখ করে পুলিশ কমিশনার বলেন, নিহত কিশোরীর নাম আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬)। পরে তার মা আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। পরে হত্যার দায় স্বীকার করেন।
জবানবন্দিতে দেওয়া সিমার বক্তব্য উল্লেখ করে পুলিশ জানায়, বিভিন্ন ছেলের সঙ্গে মেয়ের সম্পর্ক নিয়ে পারিবারিক কলহের জেরে তিনি নিজের মেয়েকে হত্যা করেন। হত্যার পর মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি সড়কে ফেলে রেখে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেন।
পুলিশ কমিশনার বলেন, ঘটনার মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কাঠের লাঠিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।




















