Dhaka ০৪:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
‘চ্যালেঞ্জ থাকলেও একটা ভালো ঈদযাত্রা ম্যানেজ করতে সক্ষম হয়েছি’ বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা, আদ-দ্বীনে বোম ডিসপোজাল ইউনিটের তদন্ত কাউন্টারে নয়, মাঝপথের যাত্রীদের বাড়তি ভাড়া নেয়া হচ্ছে: সেতুমন্ত্রী রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রে কর্মরত রুশ নাগরিকের রহস্যজনক মৃত্যু জাতীয় ঈদগাহে ৬ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইবোলার নতুন ধরন মোকাবিলায় টিকা তৈরি করেছে রাশিয়া ইসলাম পরিবহনের বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আকাশ বাসে ধাক্কা, নিহত ৪ একটা ভালো ঈদযাত্রা ম্যানেজ করতে সক্ষম হয়েছি : সড়কমন্ত্রী পুলিশের নজরদারিতে আদ-দ্বীন হাসপাতালের কর্মকর্তারা আদ–দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

তৃতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে এভারেস্ট জয় নুরুন্নাহার নিম্মির

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১০:৩৫:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
  • / 23

পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেছেন বাংলাদেশের পর্বতারোহী নুরুন্নাহার নিম্মি।

বুধবার (২৭ মে) ভোরে তিনি এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব।

এর মাধ্যমে নিশাত মজুমদার ও ওয়াসফিয়া নাজরীনের পর দীর্ঘ ১৪ বছর পর আবারও কোনো বাংলাদেশি নারী এভারেস্ট জয় করলেন। শেরপার সহায়তায় নেপাল সময় সকাল ৫টা ২৪ মিনিটে তিনি শিখরে পৌঁছান বলে জানা গেছে।

গত ১১ এপ্রিল ঢাকা থেকে নেপালে যান নিম্মি। কাঠমান্ডু থেকে লুকলা হয়ে পৌঁছান এভারেস্ট বেজক্যাম্পে। সেখানে ধাপে ধাপে উচ্চতার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নেন তিনি।

পর্বতারোহণের উপযুক্ত সময় হিসেবে মে মাসের ১৫ থেকে ৩০ তারিখ ধরা হয়। সেই অনুযায়ী ১৭ মে চূড়ান্ত অভিযানের জন্য বেজক্যাম্প ছাড়েন নিম্মি। ২৩ মে ক্যাম্প-৪ এ পৌঁছে শিখরের দিকে যাত্রা শুরু করলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তাকে নিচে নেমে আসতে হয়। পরে কয়েক দিন ক্যাম্প-২ এ অবস্থান করে আবহাওয়ার উন্নতির অপেক্ষা করেন। অবশেষে ২৫ মে আবারও যাত্রা শুরু করেন তিনি।

২৬ মে পুনরায় ক্যাম্প-৪ এ পৌঁছে রাতেই চূড়ান্ত শিখর অভিযানে বের হন নিম্মি। এরপর বুধবার ভোরে তিনি এভারেস্ট জয় করেন। অভিযানে তার সঙ্গে নেপালের এইটকে এক্সপেডিশনের একজন শেরপা ছিলেন।

নুরুন্নাহার নিম্মি বর্তমানে পূবালী ব্যাংক পিএলসি-এর জেনারেল ব্যাংকিং বিভাগে প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে কর্মরত। তার এভারেস্ট অভিযানের স্পনসরও ছিল প্রতিষ্ঠানটি। রংপুরে বেড়ে ওঠা নিম্মি পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর ভূতত্ত্ব বিভাগে।

২০০৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে ফিল্ডওয়ার্ক করতে গিয়ে পাহাড়ের প্রতি তার গভীর আগ্রহ তৈরি হয়। এরপর বান্দরবানের বিভিন্ন পাহাড়ে ঘুরে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। চাকরিজীবনে প্রবেশের পরও থেমে থাকেননি। ভুটান, ভারতের সিকিম ও নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলে ট্রেকিং করেন তিনি।

২০১৯ সালে নেপালের অস্ট্রেলিয়ান ক্যাম্প ভ্রমণের পর আরও উচ্চ শিখরে ওঠার স্বপ্ন দেখেন নিম্মি। এরপর ২০২০ সালে এভারেস্ট বেজক্যাম্প ট্রেক সম্পন্ন করেন। ২০২২ সালে ভারতের দার্জিলিংয়ে অবস্থিত হিমালয়ান মাউন্টেইনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণ নেন এবং একই বছর বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হন।

বাংলাদেশের প্রথম এভারেস্টজয়ী মুসা ইব্রাহীম, যিনি ২০১০ সালের ২৩ মে শিখরে পৌঁছান। এরপর এম এ মুহিত দুইবার এভারেস্ট জয় করেন। ২০১২ সালে নিশাত মজুমদার ও ওয়াসফিয়া নাজরীন ইতিহাস গড়েন। ২০১৩ সালে সজল খালেদ এভারেস্ট জয় করলেও ফেরার পথে মারা যান। পরে ২০২৪ সালে বাবর আলী এবং ২০২৫ সালে ইকরামুল হাসান শাকিল এভারেস্ট জয় করেন।

সবশেষে নুরুন্নাহার নিম্মি একমাত্র বাংলাদেশি নারী অভিযাত্রী হিসেবে আবারও এভারেস্টে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

তৃতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে এভারেস্ট জয় নুরুন্নাহার নিম্মির

প্রকাশের সময় : ১০:৩৫:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেছেন বাংলাদেশের পর্বতারোহী নুরুন্নাহার নিম্মি।

বুধবার (২৭ মে) ভোরে তিনি এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব।

এর মাধ্যমে নিশাত মজুমদার ও ওয়াসফিয়া নাজরীনের পর দীর্ঘ ১৪ বছর পর আবারও কোনো বাংলাদেশি নারী এভারেস্ট জয় করলেন। শেরপার সহায়তায় নেপাল সময় সকাল ৫টা ২৪ মিনিটে তিনি শিখরে পৌঁছান বলে জানা গেছে।

গত ১১ এপ্রিল ঢাকা থেকে নেপালে যান নিম্মি। কাঠমান্ডু থেকে লুকলা হয়ে পৌঁছান এভারেস্ট বেজক্যাম্পে। সেখানে ধাপে ধাপে উচ্চতার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নেন তিনি।

পর্বতারোহণের উপযুক্ত সময় হিসেবে মে মাসের ১৫ থেকে ৩০ তারিখ ধরা হয়। সেই অনুযায়ী ১৭ মে চূড়ান্ত অভিযানের জন্য বেজক্যাম্প ছাড়েন নিম্মি। ২৩ মে ক্যাম্প-৪ এ পৌঁছে শিখরের দিকে যাত্রা শুরু করলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তাকে নিচে নেমে আসতে হয়। পরে কয়েক দিন ক্যাম্প-২ এ অবস্থান করে আবহাওয়ার উন্নতির অপেক্ষা করেন। অবশেষে ২৫ মে আবারও যাত্রা শুরু করেন তিনি।

২৬ মে পুনরায় ক্যাম্প-৪ এ পৌঁছে রাতেই চূড়ান্ত শিখর অভিযানে বের হন নিম্মি। এরপর বুধবার ভোরে তিনি এভারেস্ট জয় করেন। অভিযানে তার সঙ্গে নেপালের এইটকে এক্সপেডিশনের একজন শেরপা ছিলেন।

নুরুন্নাহার নিম্মি বর্তমানে পূবালী ব্যাংক পিএলসি-এর জেনারেল ব্যাংকিং বিভাগে প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে কর্মরত। তার এভারেস্ট অভিযানের স্পনসরও ছিল প্রতিষ্ঠানটি। রংপুরে বেড়ে ওঠা নিম্মি পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর ভূতত্ত্ব বিভাগে।

২০০৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে ফিল্ডওয়ার্ক করতে গিয়ে পাহাড়ের প্রতি তার গভীর আগ্রহ তৈরি হয়। এরপর বান্দরবানের বিভিন্ন পাহাড়ে ঘুরে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। চাকরিজীবনে প্রবেশের পরও থেমে থাকেননি। ভুটান, ভারতের সিকিম ও নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলে ট্রেকিং করেন তিনি।

২০১৯ সালে নেপালের অস্ট্রেলিয়ান ক্যাম্প ভ্রমণের পর আরও উচ্চ শিখরে ওঠার স্বপ্ন দেখেন নিম্মি। এরপর ২০২০ সালে এভারেস্ট বেজক্যাম্প ট্রেক সম্পন্ন করেন। ২০২২ সালে ভারতের দার্জিলিংয়ে অবস্থিত হিমালয়ান মাউন্টেইনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণ নেন এবং একই বছর বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হন।

বাংলাদেশের প্রথম এভারেস্টজয়ী মুসা ইব্রাহীম, যিনি ২০১০ সালের ২৩ মে শিখরে পৌঁছান। এরপর এম এ মুহিত দুইবার এভারেস্ট জয় করেন। ২০১২ সালে নিশাত মজুমদার ও ওয়াসফিয়া নাজরীন ইতিহাস গড়েন। ২০১৩ সালে সজল খালেদ এভারেস্ট জয় করলেও ফেরার পথে মারা যান। পরে ২০২৪ সালে বাবর আলী এবং ২০২৫ সালে ইকরামুল হাসান শাকিল এভারেস্ট জয় করেন।

সবশেষে নুরুন্নাহার নিম্মি একমাত্র বাংলাদেশি নারী অভিযাত্রী হিসেবে আবারও এভারেস্টে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেন।