Dhaka ০২:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস, থামবে যেসব স্টেশনে আ. লীগের সঙ্গে বৈঠক: সারজিসকে বহিষ্কার, হাসনাতকে শোকজ করেন নাহিদ মোবাইল ফোনে গেম খেলার সময় বিস্ফোরণ, আহত ২ ৫০০ টাকা বাজিতে জীবন্ত শালিক খাওয়ার ভিডিও ভাইরাল কালুখালীর বীর মুক্তিযোদ্ধা আজাহার মোল্লা আর নেই টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ১৮ ইউনিট ভোলায় ভূমি কর্মকর্তার ঘুষ দাবির দরকষাকষির ভিডিও ভাইরাল দেশের বাজারে আজকের স্বর্ণের দাম প্রথম ধাপে ৮শ’ ইউপিতে ভোট, প্রভাব বিস্তার ও বিশৃঙ্খলায় তাৎক্ষণিক শাস্তির বিধান ঢাকা থেকে সৌদিগামী ৮৬টি ফ্লাইট বাতিল, অনিশ্চয়তায় ১৩ হাজার ৪৯০ যাত্রী

এবার নাটোরে গমের নাড়া পোড়াতে গিয়ে আগুনে পুড়ল ১৫ বিঘা জমির ফসল

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১১:৫০:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / 139

এবার নাটোরের বাগাতিপাড়ায় নাড়া পোড়ানোর সময় আগুন লেগে প্রায় ১৫ বিঘা জমির পাকা গম পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে এলাকায় শোক ও হতাশার ছায়া নেমে এসেছে। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় কৃষকরা সাড়ে ৪ লাখ টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের গাঁওপাড়া বিল এলাকায় শুক্রবার (৩ এপ্রিল) এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা দ্রুত সরকারি সহায়তা কামনা করেছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে খড় পোড়ানো নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানায়, পার্শ্ববর্তী রাজশাহীর বাঘা উপজেলার ঝিনা গ্রামের কৃষক রহম আলী তার জমিতে গম কাটার পর অবশিষ্ট খড় (নাড়া) পোড়াতে আগুন দেন। কিন্তু প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত গাঁওপাড়া বিলের বিস্তীর্ণ গমক্ষেতে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে স্থানীয়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেও তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। মুহূর্তের মধ্যেই পাকা গম পুড়ে কয়লায় পরিণত হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মশিউর রহমান বাবু জানান, স্থানীয়রা রহম আলীকে বাতাস ও রোদ বেশি থাকায় নাড়া পোড়াতে নিষেধ করলেও তিনি তা অমান্য করেন। এর ফলে ভয়াবহ এই ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। তার আড়াই বিঘা জমির পুরো গম পুড়ে গেছে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় জালাল আলীর ৩ বিঘা, আজগর আলীর আড়াই বিঘা, শাহবাজ আলীর দেড় বিঘা, মনসুর আলীর ১০ কাঠাসহ আরও অনেক কৃষকের পাকা গম পুড়ে গেছে। এতে তাদের প্রায় ৪ লাখ টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. ভবসিন্ধু রায় জানান, এটি একটি অপরাধমূলক ঘটনা এবং দুই উপজেলার সংশ্লিষ্টতা থাকায় প্রতিকার পেতে হলে আইনের আশ্রয় নিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদেরকে সরকারি প্রণোদনার আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, গত বৃহস্পতিবার মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় পৃথক এক অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১০০ বিঘা ফসল পুড়ে গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খড় পোড়ানো বা অসতর্কতার কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়ে তা দ্রুত আশপাশের মাঠে ছড়িয়ে পড়ে। এতে গমসহ বিভিন্ন ফসল মুহূর্তের মধ্যে পুড়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, আগুন লাগার পর স্থানীয়রা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও প্রবল বাতাসের কারণে তা সম্ভব হয়নি। এতে কয়েক লাখ টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গাংনী উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

এবার নাটোরে গমের নাড়া পোড়াতে গিয়ে আগুনে পুড়ল ১৫ বিঘা জমির ফসল

প্রকাশের সময় : ১১:৫০:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

এবার নাটোরের বাগাতিপাড়ায় নাড়া পোড়ানোর সময় আগুন লেগে প্রায় ১৫ বিঘা জমির পাকা গম পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে এলাকায় শোক ও হতাশার ছায়া নেমে এসেছে। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় কৃষকরা সাড়ে ৪ লাখ টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের গাঁওপাড়া বিল এলাকায় শুক্রবার (৩ এপ্রিল) এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা দ্রুত সরকারি সহায়তা কামনা করেছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে খড় পোড়ানো নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানায়, পার্শ্ববর্তী রাজশাহীর বাঘা উপজেলার ঝিনা গ্রামের কৃষক রহম আলী তার জমিতে গম কাটার পর অবশিষ্ট খড় (নাড়া) পোড়াতে আগুন দেন। কিন্তু প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত গাঁওপাড়া বিলের বিস্তীর্ণ গমক্ষেতে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে স্থানীয়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেও তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। মুহূর্তের মধ্যেই পাকা গম পুড়ে কয়লায় পরিণত হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মশিউর রহমান বাবু জানান, স্থানীয়রা রহম আলীকে বাতাস ও রোদ বেশি থাকায় নাড়া পোড়াতে নিষেধ করলেও তিনি তা অমান্য করেন। এর ফলে ভয়াবহ এই ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। তার আড়াই বিঘা জমির পুরো গম পুড়ে গেছে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় জালাল আলীর ৩ বিঘা, আজগর আলীর আড়াই বিঘা, শাহবাজ আলীর দেড় বিঘা, মনসুর আলীর ১০ কাঠাসহ আরও অনেক কৃষকের পাকা গম পুড়ে গেছে। এতে তাদের প্রায় ৪ লাখ টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. ভবসিন্ধু রায় জানান, এটি একটি অপরাধমূলক ঘটনা এবং দুই উপজেলার সংশ্লিষ্টতা থাকায় প্রতিকার পেতে হলে আইনের আশ্রয় নিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদেরকে সরকারি প্রণোদনার আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, গত বৃহস্পতিবার মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় পৃথক এক অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১০০ বিঘা ফসল পুড়ে গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খড় পোড়ানো বা অসতর্কতার কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়ে তা দ্রুত আশপাশের মাঠে ছড়িয়ে পড়ে। এতে গমসহ বিভিন্ন ফসল মুহূর্তের মধ্যে পুড়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, আগুন লাগার পর স্থানীয়রা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও প্রবল বাতাসের কারণে তা সম্ভব হয়নি। এতে কয়েক লাখ টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গাংনী উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।