Dhaka ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
সাংবাদিকদের ‘পেটানোর হুমকি’, ক্ষমা চাইতে এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে আইনি নোটিশ শিক্ষার্থীদের অনুপযুক্ত স্পর্শ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় : মিজানুর রহমান আজহারি লং মার্চ-মিছিল না করে আলোচনায় আসুন, বিরোধী দলকে চিফ হুইপ শ্রেণিভেদ নির্মূল করে মানবতার কল্যাণের কথা বলেছেন গৌতম বুদ্ধ: রিজভী ডোপ টেস্টের কিট কিনতে কালীগঞ্জ থানাকে ৫০ হাজার টাকা দিল মোটর মালিক সমিতি সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন সীমান্তে ‌‌‘বিএসএফের ছেড়ে দেওয়া’ বাঘের আক্রমণে নারীসহ আহত ৩ চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন চারটি পাঠ্যবই অনুমোদন ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন পুলিশকে শক্তিশালী না করলে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা সম্ভব নয় : আইজিপি

ইরানের হামলায় গ্যাস উৎপাদন বন্ধ কাতারের, সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৩৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
  • / 156

ইরানের ড্রোন হামলার পর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে কাতার। সোমবার ইরানের দুটি ড্রোন দেশটির দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানে। এর একটি মেসাইদ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পানির ট্যাংকে এবং অন্যটি কাতার এনার্জি-এর লাস রাফফান শিল্পাঞ্চলে আঘাত করে। লাস রাফফান বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর একটি।

হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গ্যাস উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। লাস রাফফান থেকে উৎপাদিত গ্যাস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়, ফলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ ঘটনার সময়ই ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত জ্বালানির প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে। বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, প্রণালী এলাকায় অন্তত ১৫০টি জাহাজ নোঙর করে আছে, যার মধ্যে গ্যাসবাহী জাহাজও রয়েছে। গ্যাস সরবরাহ ইতোমধ্যে ৮৬ শতাংশ কমে গেছে এবং প্রায় ৭০০টি জাহাজ দুই প্রান্তে অপেক্ষায় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্বে মোট গ্যাস রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ আসে কাতার থেকে। উৎপাদন বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, কাতারের সরবরাহ ব্যাহত হলে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, কারণ এই দেশগুলো কাতার থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এলএনজি আমদানি করে।

চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানিকারক হলেও তাদের প্রায় ৩৪ শতাংশ গ্যাস আসে অস্ট্রেলিয়া থেকে।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়-এর জ্বালানি বিশেষজ্ঞ মাকসিম সোনিন বলেন, কাতারের উৎপাদন বন্ধ থাকলে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বাড়বে, তবে বর্তমান পরিস্থিতিকে সরাসরি বড় ধরনের সংকট বলা যাচ্ছে না। তবে অবকাঠামো বা প্রধান উৎপাদন কেন্দ্রে বড় আঘাত এলে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বৈশ্বিক বাজারে ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

বর্তমানে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি গ্যাস রপ্তানি করে যুক্তরাষ্ট্র, এরপর অস্ট্রেলিয়া এবং তারপর কাতার। ২০২২ সালের আগে রাশিয়া ছিল বৃহত্তম গ্যাস রপ্তানিকারক দেশ। ইউক্রেনে হামলার পর অনেক দেশ রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানি কমিয়ে দেয় বা বন্ধ করে দেয়।

সূত্র: আল জাজিরা

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ইরানের হামলায় গ্যাস উৎপাদন বন্ধ কাতারের, সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশ

প্রকাশের সময় : ০৯:৩৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

ইরানের ড্রোন হামলার পর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে কাতার। সোমবার ইরানের দুটি ড্রোন দেশটির দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানে। এর একটি মেসাইদ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পানির ট্যাংকে এবং অন্যটি কাতার এনার্জি-এর লাস রাফফান শিল্পাঞ্চলে আঘাত করে। লাস রাফফান বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর একটি।

হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গ্যাস উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। লাস রাফফান থেকে উৎপাদিত গ্যাস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়, ফলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ ঘটনার সময়ই ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত জ্বালানির প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে। বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, প্রণালী এলাকায় অন্তত ১৫০টি জাহাজ নোঙর করে আছে, যার মধ্যে গ্যাসবাহী জাহাজও রয়েছে। গ্যাস সরবরাহ ইতোমধ্যে ৮৬ শতাংশ কমে গেছে এবং প্রায় ৭০০টি জাহাজ দুই প্রান্তে অপেক্ষায় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্বে মোট গ্যাস রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ আসে কাতার থেকে। উৎপাদন বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, কাতারের সরবরাহ ব্যাহত হলে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, কারণ এই দেশগুলো কাতার থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এলএনজি আমদানি করে।

চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানিকারক হলেও তাদের প্রায় ৩৪ শতাংশ গ্যাস আসে অস্ট্রেলিয়া থেকে।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়-এর জ্বালানি বিশেষজ্ঞ মাকসিম সোনিন বলেন, কাতারের উৎপাদন বন্ধ থাকলে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বাড়বে, তবে বর্তমান পরিস্থিতিকে সরাসরি বড় ধরনের সংকট বলা যাচ্ছে না। তবে অবকাঠামো বা প্রধান উৎপাদন কেন্দ্রে বড় আঘাত এলে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বৈশ্বিক বাজারে ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

বর্তমানে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি গ্যাস রপ্তানি করে যুক্তরাষ্ট্র, এরপর অস্ট্রেলিয়া এবং তারপর কাতার। ২০২২ সালের আগে রাশিয়া ছিল বৃহত্তম গ্যাস রপ্তানিকারক দেশ। ইউক্রেনে হামলার পর অনেক দেশ রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানি কমিয়ে দেয় বা বন্ধ করে দেয়।

সূত্র: আল জাজিরা