দৌলতদিয়া-কুষ্টিয়া মহাসড়কে ঈদযাত্রা
দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে মহাসড়কের ৮০ মিটার অংশ
- প্রকাশের সময় : ০৭:১৫:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ জুন ২০২৫
- / 159
দৌলতদিয়া-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার চাঁদপুর রেলগেটের কাছে ৮০ মিটার ভাঙাচোড়া এলাকা ঈদযাত্রায় সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। এমনটিই আশঙ্কা করছেন যানবাহন চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এছাড়া মহাসড়কের বেশ কিছু পয়েন্টে খানা খন্দ, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক থাকায় দুর্ঘটনার শঙ্কা রয়ে গেছে। বৃষ্টি হলে এ সম্ভাবনা আরও বাড়তে পারে।
গত রোববার মহাসড়কের রাজবাড়ীর বড়পুল থেকে কালুখালী পর্যন্ত ঘুরে দেখা গেছে, বেশ কিছু জায়গায় খানাখন্দ। বাস, মাহেন্দ্র, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে। এর মধ্যে গরুবাহী ট্রাকের সংখ্যাই বেশি। এসব ট্রাকগুলো চলছিল বেপরোয়াভাবে। কোনো নিয়ম না মেনেই ট্রাকগুলোকে ওভারটেকিং করতে দেখা গেছে। চার লেনের পুরো অংশে চলন্ত যানগুলো একমুখি হয়ে যায় অনেক সময়। মহাসড়কের কালুখালী উপজেলার চাঁদপুর রেলক্রসিংয়ের দুই পাশের অবস্থা খুবই খারাপ। সড়ক ও জনপথ বিভাগ ভাঙাচোড়া ৮০ মিটার লম্বা অংশে সিমেন্ট ঢালাই করার উদ্যোগ নিয়েছে। দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে কাজটি করছে ওটিবিএল নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। চার লেন মহাসড়কের এক পাশে সিমেন্ট ঢালাই করা হয়েছে। তবে রাস্তা খুলে দেওয়া হয়নি। ঢালাই অংশে পানি ও কচুরিপানা দেওয়া আছে। ওই অংশ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। লম্বালম্বিভাবে দড়ির উপর লাল কাপড় টাঙানো হয়েছে। অপর পাশের অবস্থা খুবই শোচনীয়। সেখান দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। রাস্তার পাশে মাটিকাদা জমে আছে। যা দুর্ঘটনার শঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। জানা গেছে, গত কয়েকদিনে এ মহাসড়কে ছোট বড় বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার সোনাপুর মোড়ে গরুবাহী ট্রাক উল্টে দুজন মারা গেছেন। তার আগের দিন চাদপুর ব্রীজ এলাকায় একজন ব্যবসায়ী নিহত হন।
স্থানীয় একজন বাসিন্দা জানান, গত ছয় মাস ধরে মহাসড়কের এই বেহাল দশা। অথচ এক মাস আগে মেরামত কাজ শুরু করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। আরও আগে কাজ শুরু করলে এতদিন শেষ হয়ে যেত। সন্ধ্যার পরে যানবাহনের চাপ খুবই বেড়ে যায়। তখন আধা ঘণ্ট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত গাড়িগুলোকে অপেক্ষায় থাকতে হয়।
মাহেন্দ্র চালক পিয়াস জানান, তিনি রাজবাড়ী-পাংশা রুটে মাহেন্দ্র চালান। কালুখালীর এই অংশে ভাঙাচোড়া থকার কারণে তাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ঢালাই কাজ চলার কারণে এক পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। এই অংশ দিয়ে একই সাথে যানহবাহন আসা যাওয়া করতে পারছে না। এক পাশ বন্ধ থাকে। আরেক পাশ খোলা। ঈদের মধ্যে খুবই সমস্যায় পড়তে হবে। কারণ প্রতিদিনই গাড়ির চাপ বাড়বে। মানুষ ভোগান্তিতে পড়বে।
ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী গোল্ডেন লাইন পরিবহনের চালক অসিত বিশ^াস বলেন, ঈদের আগে কাজটি শেষ হলে ভালো হতো। ভাঙা অংশের কারণে বাস নিয়ে তাদের বসে থাকতে হয়। প্রচন্ড গরমে যাত্রীরা বিরক্ত হয়। তার চেয়ে বড় কথা যাত্রীদের সময় নষ্ট হচ্ছে বেশি। ঈদের সময় যত ঘনিয়ে আসবে এ সমস্যা তীব্র হবে।
রতনদিয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড মেম্বার মোক্তার হোসেন বলেন, চাঁদপুর রেলক্রসিংয়ে কাজের অগ্রগতি নেই। রাস্তার এক পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। ঈদের সময় মহাসড়কে চাপ একটু বেশিই পড়ে। অনেক যানবাহন এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকছে। এখানে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে। বৃষ্টি বাদল হলে সম্ভাবনা আরও বেশি। রাস্তার পাশে কাদা মাটি। মাঝে মধ্যে চাকা গেড়ে যায়। তিনি দ্রæত রাস্তাটি মেরামতের দাবি জানান।
পাংশার বাসিন্দা রাজবাড়ী ডা. আবুল হোসেন কলেজের শিক্ষক আলমগীর হোসেন জানান, তাকে প্রতিদিনই আসা যাওয়া করতে হয় মহাসড়ক দিয়ে। বৃষ্টি হলে এ মহাসড়ক খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। কালুখালীর ভাঙা অংশের কারণে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। প্রায়ই এটা হচ্ছে।
গান্ধীমারা হাইওয়ে থানার ওসি হারুন অর রশীদ বলেন, বৃষ্টি হলে মহাসড়কে দুর্ঘটনার শঙ্কা রয়েছে। এছাড়া মহাসড়কের চন্দনী বাজার, সোনাপুর মোড়, হেনা মোড়, নয়নের মোড় এলাকাগুলো বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। এসব স্থানে রোড সাইন থাকলেও চালকরা সেগুলো লক্ষ্য করেনা। ঈদকে সামনে রেখে দুর্ঘটনা এড়াতে মহাসড়কে নির্ধারিত গতিতে যান চালানোর জন্য তারা চালকদের কাছে নানাভাবে বার্তা দিয়েছেন। অতিরিক্ত গতিতে যান চালানোর জন্য প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫টি যানবাহনকে জরিমানা করা হচ্ছে। তারা নিয়মিত মহাসড়কে টহল দিচ্ছেন। নজরদারি রাখছেন। ডাকাতি যাতে না হয় এজন্য রাতে পুলিশের টিম টহল দিচ্ছে। কালুখালীর ভাঙা অংশে সার্বক্ষণিক পুলিশ রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রাজবাড়ী সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী রাজস খান বলেন, মহাসড়কের কালুখালী উপজেলার চাঁদপুর রেলক্রসিংয়ে কাছে ভারি যানগুলো ওখানে এসে ব্রেক করে থামে। এজন্য রাস্তার উপর চাপ পড়ে। চাপের কারণে রাস্তা ভেঙে গেছে। রেল ক্রসিংয়ের কাছেই এটা বেশি হয়ে থাকে। প্রতি বছরই রাস্তা নষ্ট হয় বলে ঢালাই রাস্তা করা হচ্ছে। বিটুমিনের পরিবর্তে সিমেন্টের ঢালাই করা হচ্ছে। সেখানে অর্ধেক অংশ ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে। তবে সেটা দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে সময় লাগবে। ঈদের আগে যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় মেরামত কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। ঈদের পরে অপর পাশেও ঢালাই করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, চলতি বছরের ২৫ মার্চ তারিখে রাস্তা মেরামতের চুক্তি হয়েছে। জুন মাসে তাদের কাজের চাপ বেশি থাকে। একারণে সময় মত করা যায়নি।






















