Dhaka ০২:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
বিএসএফের হাতে আটক দুই পুলিশ সদস্যকে ফেরাতে আলোচনা চলছে : বিজিবি সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচন: বিএনপির ২১টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, প্যারিসে এক মাসে গ্রেপ্তার ১ হাজার ২৬০ জন যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনে স্কুলে বন্দুক হামলা, হামলাকারীসহ নিহত ৫ বাজারে ২০০ টাকার টমেটো, কম দামে মিলছে শুধু পেঁপে-মিষ্টিকুমড়া বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের ২৯ শতাংশ বেকার: আইএমএফ শারদীয় দুর্গাপূজার ষষ্ঠী আজ, দেশজুড়ে ৩৩ হাজার ৮৫১ মণ্ডপে আয়োজন দুর্গাপূজায় সীমান্তবর্তী জেলার বাইরে গোপালগঞ্জসহ ৩ জেলায় বিজিবি মোতায়েন নওগাঁয় ৫০ পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা তদারকিতে বিজিবি রাজধানীর মোহাম্মদপুরে দু’পক্ষের গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ ১

বিয়েতে প্রেমিকের ‘না’, প্রেমিকার ‘আত্মহত্যা’, বাবার দাবি ধর্ষণ পরবর্তী হত্যা

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৫০:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ মার্চ ২০২৫
  • / 183

বিয়ের চাপ দেওয়ায় প্রেমিক রাজি না হওয়ায় ঘুমের ওষুধ খেয়ে এক স্কুলছাত্রী ‌‘আত্মহত্যা’ করেছেন। তবে ওই ছাত্রী বাবা দাবি করেছেন প্রেমিক ধর্ষণ পরবর্তী তাকে হত্যা করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের গঙ্গানগর গ্রামে।

নিহত স্কুল ছাত্রী জান্নাতুল মীম (১৪)। তিনি জাফরগঞ্জ গঙ্গানগর এলাকায় বসবাসকারী ডিস লাইন কর্মচারী সবুজ মিয়ার বড় মেয়ে। সে জাফরগঞ্জ মাজেদা আহসান মূন্সী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল। তার বাবা সবুজ মিয়া জাফরগঞ্জ গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেনের ভাই হেলালের ডিস ও ওয়াইফাই লাইনের কর্মচারী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেয়ে জান্নাতুল মীম (১৪) সবার বড়, সে জাফরগঞ্জ মাজেদা আহসান মূন্সী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীতে পড়তো। স্কুলে আসা যাওয়া পথে পার্শ্ববর্তী ছগুরা গ্রামের সেলিম মিয়ার পুত্র বখাটে শাহেদ (১৬) নামে এক কিশোর তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যাক্ত করতো। এ নিয়ে একাধিক সালিশ হলেও শাহেদ শান্ত হয়নি। মীম প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তার বাড়িতে এসে একাধিকবার মারধর করে। বাবা সবুজ বাধা দিলে তাকেও একাধিকবার মারধর এবং বাসা ভাংচুর করে। প্রায় ৭ মাস পূর্বে পরিবারের নিরাপত্তাহীনতায় বাসা ছেড়ে ফতেহাবাদ ইউনিয়নের মোকামবাড়ি সরকার বাড়িতে ভাড়া বাসায় চলে যান তারা। এরই মধ্যে মীমের সাথে শাহেদের প্রেমের সম্পর্ক গভীর হয়ে উঠে।

বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) সকাল ১০ টায় জান্নাতুল মীম গঙ্গানগর গ্রামে নানার বাড়িতে বেড়াতে আসার কথা বলে প্রেমিকের সাথে দেখা করতে ছগুরা গ্রামে শাহেদের বাড়িতে চলে আসে। শাহেদকে বিয়ে করতে চাঁপ প্রয়োগ করে। শাহেদ এতে রাজী না হওয়ায় মীম আত্মহত্যার হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে মীম তার সাথে রাখা ঘুমের ৩০টি টেবলেট সেবন করে ফেলে। এতে মীম অসুস্থ হয়ে পড়লে শাহেদ তার বন্ধুদের সহযোগীতায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। ওখানে তার পাকস্থলি ওয়াস করার সময় বিকেল পৌনে ৫টায় সে মারা যায়।

নিহত মীমের বাবা সবুজ মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় তার নানার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে বের হয় মীম। দুপুরে তার কথিত প্রেমিক শাহেদের নেতৃত্বে কিশোর গ্যাংই তার মেয়েকে তুলে নিয়ে ধর্ষণপরবর্তী হত্যা করে মুখে বিষ ঢেলে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার করে।

তিনি আরো জানান, দুপুর সাড়ে ১২টায় শাহেদ ফোনে জানায় তার মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে। তারপর থেকে শাহেদ ফোন কন্ধ করে দেয়। সন্ধ্যায় কুমেক হাসপাতালে যেয়ে দেখেন তার মেয়ে মেঝেতে মৃত অবস্থায় পড়ে আছে।

এ ব্যপারে দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ শামসুদ্দিন মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, মেয়েটি প্রেমের টানে তার প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের চাপ দিচ্ছিল, রাজী না হওয়ায় সে বিষপানে আত্মহত্যা করে। বয়সে দু’জনই কিশোর কিশোরী। পরে কুমেক হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যায়। নিহতের বাবার দাবি তাকে নেশাজাতীয় ঔষধ সেবনে ধর্ষণ শেষে হত্যা করে মুখে বিষ ঢেলে দিয়েছে। কোতয়ালী থানা পুলিশ তার সুরতহাল রিপোর্টে আঘাতের কোন চিহ্ন পায়নি। রিপোর্ট তৈরীপূর্বক ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। রিপোর্ট আসার পরই সঠিকটা বলা যাবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

বিয়েতে প্রেমিকের ‘না’, প্রেমিকার ‘আত্মহত্যা’, বাবার দাবি ধর্ষণ পরবর্তী হত্যা

প্রকাশের সময় : ০৮:৫০:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ মার্চ ২০২৫

বিয়ের চাপ দেওয়ায় প্রেমিক রাজি না হওয়ায় ঘুমের ওষুধ খেয়ে এক স্কুলছাত্রী ‌‘আত্মহত্যা’ করেছেন। তবে ওই ছাত্রী বাবা দাবি করেছেন প্রেমিক ধর্ষণ পরবর্তী তাকে হত্যা করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের গঙ্গানগর গ্রামে।

নিহত স্কুল ছাত্রী জান্নাতুল মীম (১৪)। তিনি জাফরগঞ্জ গঙ্গানগর এলাকায় বসবাসকারী ডিস লাইন কর্মচারী সবুজ মিয়ার বড় মেয়ে। সে জাফরগঞ্জ মাজেদা আহসান মূন্সী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল। তার বাবা সবুজ মিয়া জাফরগঞ্জ গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেনের ভাই হেলালের ডিস ও ওয়াইফাই লাইনের কর্মচারী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেয়ে জান্নাতুল মীম (১৪) সবার বড়, সে জাফরগঞ্জ মাজেদা আহসান মূন্সী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীতে পড়তো। স্কুলে আসা যাওয়া পথে পার্শ্ববর্তী ছগুরা গ্রামের সেলিম মিয়ার পুত্র বখাটে শাহেদ (১৬) নামে এক কিশোর তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যাক্ত করতো। এ নিয়ে একাধিক সালিশ হলেও শাহেদ শান্ত হয়নি। মীম প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তার বাড়িতে এসে একাধিকবার মারধর করে। বাবা সবুজ বাধা দিলে তাকেও একাধিকবার মারধর এবং বাসা ভাংচুর করে। প্রায় ৭ মাস পূর্বে পরিবারের নিরাপত্তাহীনতায় বাসা ছেড়ে ফতেহাবাদ ইউনিয়নের মোকামবাড়ি সরকার বাড়িতে ভাড়া বাসায় চলে যান তারা। এরই মধ্যে মীমের সাথে শাহেদের প্রেমের সম্পর্ক গভীর হয়ে উঠে।

বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) সকাল ১০ টায় জান্নাতুল মীম গঙ্গানগর গ্রামে নানার বাড়িতে বেড়াতে আসার কথা বলে প্রেমিকের সাথে দেখা করতে ছগুরা গ্রামে শাহেদের বাড়িতে চলে আসে। শাহেদকে বিয়ে করতে চাঁপ প্রয়োগ করে। শাহেদ এতে রাজী না হওয়ায় মীম আত্মহত্যার হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে মীম তার সাথে রাখা ঘুমের ৩০টি টেবলেট সেবন করে ফেলে। এতে মীম অসুস্থ হয়ে পড়লে শাহেদ তার বন্ধুদের সহযোগীতায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। ওখানে তার পাকস্থলি ওয়াস করার সময় বিকেল পৌনে ৫টায় সে মারা যায়।

নিহত মীমের বাবা সবুজ মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় তার নানার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে বের হয় মীম। দুপুরে তার কথিত প্রেমিক শাহেদের নেতৃত্বে কিশোর গ্যাংই তার মেয়েকে তুলে নিয়ে ধর্ষণপরবর্তী হত্যা করে মুখে বিষ ঢেলে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার করে।

তিনি আরো জানান, দুপুর সাড়ে ১২টায় শাহেদ ফোনে জানায় তার মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে। তারপর থেকে শাহেদ ফোন কন্ধ করে দেয়। সন্ধ্যায় কুমেক হাসপাতালে যেয়ে দেখেন তার মেয়ে মেঝেতে মৃত অবস্থায় পড়ে আছে।

এ ব্যপারে দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ শামসুদ্দিন মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, মেয়েটি প্রেমের টানে তার প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের চাপ দিচ্ছিল, রাজী না হওয়ায় সে বিষপানে আত্মহত্যা করে। বয়সে দু’জনই কিশোর কিশোরী। পরে কুমেক হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যায়। নিহতের বাবার দাবি তাকে নেশাজাতীয় ঔষধ সেবনে ধর্ষণ শেষে হত্যা করে মুখে বিষ ঢেলে দিয়েছে। কোতয়ালী থানা পুলিশ তার সুরতহাল রিপোর্টে আঘাতের কোন চিহ্ন পায়নি। রিপোর্ট তৈরীপূর্বক ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। রিপোর্ট আসার পরই সঠিকটা বলা যাবে।