Dhaka ১১:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বালিয়াকান্দিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজে লোকসানের শঙ্কায় কৃষক

ইমদাদুল হক রানা,বালিয়াকান্দি
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৪৮:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / 290

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের নতুনচর গ্রামের কৃষকরা বলছেন, এবছর মুড়িকাটা চাষ করে লোকসান গুনতে হচ্ছে। অন্যদিকে হালি পেঁয়াজের চাষ করা হলেও বিভিন্ন রোগ বালাইয়ে মাঠে পাওয়া যাচ্ছে না কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের। সব মিলিয়ে দুর্বিসহ অবস্থায় পড়েছে এই অঞ্চলের প্রনতিক কৃষক। বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসের বক্তব্য আবার অন্যরকম। তারা বলছেন, উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ প্রতিনিয়ত কৃষকের সেবা প্রদান করে আসছেন।

সরেজমিনে জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের নতুনচর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের বেশ কয়েকজন প্রান্তিক কৃষক মুড়িকাটা পেঁয়াজ উত্তোলন করছেন। তারা বলেন, আমরা এবছরে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষ করে মনে করেছিলাম একটু হলেও লাভবান হতে পারবো। পেঁয়াজ রোপনের সময় প্রতিমণ পেঁয়াজ বীজ সাড়ে ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায় ক্রয় করে রোপন করতে হয়েছে। এরপর সার, কীটনাশক, শ্রমিক, পানি দেওয়ায় খরচ হয়েছে অনেক। প্রতি পাখি (২২ শতাংশ) মুড়িকাটা চাষ করতে সবমিলিয়ে উত্তোলন পর্যন্ত ব্যয় হবে প্রায় ৭০ হাজার টাকা। বর্তমানে হাটে প্রতিমণ মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকায়। উৎপাদন পরিমান প্রতি পাখি (২২ শতাংশ) ৫০ মণ। সর্বোসাকুল্লে বিক্রি হচ্ছে ৬০ হাজার টাকা।

মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষি নতুনচর গ্রামের মোঃ কবির শেখ বলেন, আমি এই বছরে মানুষের নিকট থেকে ৪৪ শতাংশ জমি লিজ গ্রহণ করেছি ৪৪ হাজার টাকা দিয়ে। এই জমিতে মুড়িকাটা বীজ রোপন করেছি ১০ মণ। যার তৎকালীন বাজার মুল্য ছিল ১ লাখ টাকা। শ্রমিক, সার, কীটনাশক, পানিসহ অন্যান্য খরচ হয়েছে আনুমানিক দেড় লাখ টাকা। পেঁয়াজ উৎপাদন হবে আনুমানিক ১০০ মণ। যার বর্তমান বাজার মুল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এই চাষ করে লোকসান গুনতে হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা।

তিনি আরও বলেন, মাঠে চাষাবাদ করতে কৃষি অফিসের পরামর্শ প্রয়োজন হয়। আমরা বøক সুপারভাইজারদের পাইনা। কৃষি অফিসের সাহায্য সহযোগিতা কোনটাই আমাদের জোটে না। বাইরের পেঁয়াজ আনা একটু বন্ধ হলে আমাদের মতো কৃষকরা বেঁচে যেতো।

এবিষয়ে বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, কৃষক অনেক সময় অনেক কিছু বলবে। আসলে আমরা সব সময় কৃষকের পাশে আছি। যখন যেখানে কৃষক সমস্যায় পড়ে আমাদের ডাকে আমরা তাৎক্ষণিক সেখানে গিয়ে সমাধানের চেষ্টা করি। কৃষকদের নিয়েই আমাদের কাজ। একজন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার পক্ষে সম্ভব নয় সব এলাকা দেখভাল করা। তবুও আমাদের উপ-সহকারী কর্মকর্তাগণ যথেষ্ট পরিমানে পরিশ্রম করে থাকেন। হয়তো সব কৃষকের সাথে দেখা হয় না।

তিনি আরও বলেন, আমরা কৃষি অফিসের পক্ষে থেকে প্রতিনিয়ত কৃষি মাঠদিবস, কৃষি প্রশিক্ষণ, কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি করা সহ সব ধরনের কাজ করে থাকি। মাঠ পর্যায়ে কাজ করে ফসলের ফলন বৃদ্ধির বিষয়ে আমরা পরামর্শ প্রদান করে আসছি। কৃষি সম্প্রদায়ের অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষি উপকরণ প্রদান করে কৃষকের কৃষিতে মানোন্নয়নে কাজ করে আসছি। সব মিলিয়ে বালিয়াকান্দি উপজেলাকে কৃষিতে উন্নতি কল্পে যা করার তা করছি।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

বালিয়াকান্দিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজে লোকসানের শঙ্কায় কৃষক

প্রকাশের সময় : ০৮:৪৮:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের নতুনচর গ্রামের কৃষকরা বলছেন, এবছর মুড়িকাটা চাষ করে লোকসান গুনতে হচ্ছে। অন্যদিকে হালি পেঁয়াজের চাষ করা হলেও বিভিন্ন রোগ বালাইয়ে মাঠে পাওয়া যাচ্ছে না কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের। সব মিলিয়ে দুর্বিসহ অবস্থায় পড়েছে এই অঞ্চলের প্রনতিক কৃষক। বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসের বক্তব্য আবার অন্যরকম। তারা বলছেন, উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ প্রতিনিয়ত কৃষকের সেবা প্রদান করে আসছেন।

সরেজমিনে জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের নতুনচর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের বেশ কয়েকজন প্রান্তিক কৃষক মুড়িকাটা পেঁয়াজ উত্তোলন করছেন। তারা বলেন, আমরা এবছরে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষ করে মনে করেছিলাম একটু হলেও লাভবান হতে পারবো। পেঁয়াজ রোপনের সময় প্রতিমণ পেঁয়াজ বীজ সাড়ে ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায় ক্রয় করে রোপন করতে হয়েছে। এরপর সার, কীটনাশক, শ্রমিক, পানি দেওয়ায় খরচ হয়েছে অনেক। প্রতি পাখি (২২ শতাংশ) মুড়িকাটা চাষ করতে সবমিলিয়ে উত্তোলন পর্যন্ত ব্যয় হবে প্রায় ৭০ হাজার টাকা। বর্তমানে হাটে প্রতিমণ মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকায়। উৎপাদন পরিমান প্রতি পাখি (২২ শতাংশ) ৫০ মণ। সর্বোসাকুল্লে বিক্রি হচ্ছে ৬০ হাজার টাকা।

মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষি নতুনচর গ্রামের মোঃ কবির শেখ বলেন, আমি এই বছরে মানুষের নিকট থেকে ৪৪ শতাংশ জমি লিজ গ্রহণ করেছি ৪৪ হাজার টাকা দিয়ে। এই জমিতে মুড়িকাটা বীজ রোপন করেছি ১০ মণ। যার তৎকালীন বাজার মুল্য ছিল ১ লাখ টাকা। শ্রমিক, সার, কীটনাশক, পানিসহ অন্যান্য খরচ হয়েছে আনুমানিক দেড় লাখ টাকা। পেঁয়াজ উৎপাদন হবে আনুমানিক ১০০ মণ। যার বর্তমান বাজার মুল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এই চাষ করে লোকসান গুনতে হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা।

তিনি আরও বলেন, মাঠে চাষাবাদ করতে কৃষি অফিসের পরামর্শ প্রয়োজন হয়। আমরা বøক সুপারভাইজারদের পাইনা। কৃষি অফিসের সাহায্য সহযোগিতা কোনটাই আমাদের জোটে না। বাইরের পেঁয়াজ আনা একটু বন্ধ হলে আমাদের মতো কৃষকরা বেঁচে যেতো।

এবিষয়ে বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, কৃষক অনেক সময় অনেক কিছু বলবে। আসলে আমরা সব সময় কৃষকের পাশে আছি। যখন যেখানে কৃষক সমস্যায় পড়ে আমাদের ডাকে আমরা তাৎক্ষণিক সেখানে গিয়ে সমাধানের চেষ্টা করি। কৃষকদের নিয়েই আমাদের কাজ। একজন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার পক্ষে সম্ভব নয় সব এলাকা দেখভাল করা। তবুও আমাদের উপ-সহকারী কর্মকর্তাগণ যথেষ্ট পরিমানে পরিশ্রম করে থাকেন। হয়তো সব কৃষকের সাথে দেখা হয় না।

তিনি আরও বলেন, আমরা কৃষি অফিসের পক্ষে থেকে প্রতিনিয়ত কৃষি মাঠদিবস, কৃষি প্রশিক্ষণ, কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি করা সহ সব ধরনের কাজ করে থাকি। মাঠ পর্যায়ে কাজ করে ফসলের ফলন বৃদ্ধির বিষয়ে আমরা পরামর্শ প্রদান করে আসছি। কৃষি সম্প্রদায়ের অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষি উপকরণ প্রদান করে কৃষকের কৃষিতে মানোন্নয়নে কাজ করে আসছি। সব মিলিয়ে বালিয়াকান্দি উপজেলাকে কৃষিতে উন্নতি কল্পে যা করার তা করছি।