রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
ভালো ব্যাটসম্যানরা কি অন্ধকারেও দেখতে পান ‘প্রবাসীরা আসায় স্থানীয়দেরও উন্নতির তাগিদ তৈরি হয়েছে’ কোল্লাপাথর: মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথা ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞ সাত ব্যান্ডের মিলনমেলা, জেমস এলেন রাত ১০টায়… আট কারণে উদ্বোধনের আগেই ‘লেজেগোবরে’ সাফ জুলাই চেতনার মালিকানা দাবি করতে থাকলে নবীন বন্ধুরা নবীনই থেকে যাবেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজ টিভিতে যা যা দেখবেন (৬ নভেম্বর, ২০২৬) একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদীরা এক হয়ে ষড়যন্ত্র করছে: শামা ওবায়েদ খাজা বই লিখে কত টাকা পাচ্ছেন, অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা প্রশ্ন কোচের ‘আমি শুনেছি সেদিন তুমি’র সুর শাহরুখের সিনেমার গানে? মৌসুমীর ভিন্নমত

ভালো ব্যাটসম্যানরা কি অন্ধকারেও দেখতে পান

স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ১২:১৫:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • / 2
ভালো ব্যাটসম্যানরা কি অন্ধকারেও দেখতে পান

সব বল খেলার দরকার নেই। কিন্তু সব বলেই ব্যাটসম্যানের বিচার-বিবেচনাটা লাগে। খেলবেন কি খেলবেন না। খেললেও কীভাবে? আর এই খেলা কিংবা কীভাবে খেলবেন, সেই সিদ্ধান্তটা ঠিক হয় চোখের দেখায়। অর্থাৎ, বলটাকে দেখা। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আসলেই কি অত অল্প সময়ের মধ্যে বল দেখে সিদ্ধান্ত নিয়ে শট খেলা সম্ভব? নাকি অনুশীলন করতে করতে ব্যাটসম্যানরা অনুমানের ওপরই লাইন-লেংথ যাচাই করে ফেলেন? অস্ট্রেলিয়ার খ্যাতিমান ক্রিকেট সাংবাদিক ও লেখক জ্যারড কিম্বারের ‘দ্য আর্ট অব ব্যাটিং’ বইয়ের ‘আইজ’ অধ্যায়ে আছে এই প্রশ্নের উত্তর:

খেলার মাঠের প্রেক্ষাপট ও মূল মুহূর্ত

সাঈদ আনোয়ারের কখনো এমন লাগেনি। বলটা ঠিকমতো দেখা যাচ্ছে না! এমন না যে বলটা খুব জোরে আসছে। মন্থর গতি। কিন্তু হাত থেকে বের হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। কিছু একটা বাধা দিচ্ছে। পাকিস্তান ব্যাটসম্যানের জীবনে কম অভিজ্ঞতা হয়নি। কিন্তু এমন কিছু এই প্রথম।তাঁর মাপের খেলোয়াড়ের জন্য এটা আর যাই হোক স্বাভাবিক নয়। টেস্টে ওপেনার হিসেবে গড় পঞ্চাশের ওপরে। ১১ বছরে ৫৫ ম্যাচ ছোটখাটো ক্যারিয়ারের সাক্ষ্য দিলেও ৪৫.৫০ গড়ে ৪ হাজার রান তার বিপরীতে দাঁড়িয়ে। অভিষেকে ‘পেয়ার’ মেরে তিন বছর দলের বাইরে না থাকলে ম্যাচসংখ্যা আরও বাড়তে পারত। আনোয়ার তাঁর প্রতিভার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ম্যাচগুলো খেলতে পারলে গ্রেট হতেন—এই কথার অর্থ হলো, নব্বই দশকে ২ হাজার রান করা ওপেনারদের মধ্যে দ্বিতীয় সেরা গড়ের ব্যাটসম্যানকে ছাড়াই অনেক টেস্ট খেলেছে পাকিস্তান।

ওপেনারদের মান যাচাই করার একটা পথ হলো ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকায় তাদের পারফরম্যান্স। নতুন বলে ওসব জায়গাই সবচেয়ে কঠিন কন্ডিশন। এই তিন জায়গা মিলিয়ে আনোয়ারের  গড় ৪২। অস্ট্রেলিয়ায় তিন ম্যাচে একটি সেঞ্চুরিও আছে। ঘরের চেয়ে বাইরে তাঁর গড় বেশি, এশিয়ার কোনো ওপেনারের জন্য অচিন্তীয়।যে কজন ওপেনার ওয়ানডে খেলার ধাঁচ পাল্টেছেন, তাদের মাঝে আনোয়ারের নামটা এখন আর বলা হয় না। সবাই ভুলে গেছে। শ্রীলঙ্কার হয়ে সনাৎ জয়াসুরিয়া ওপেন করার আগে ৮৫ স্ট্রাইক রেটে তাঁর হাজার রান ছিল; ওয়ানডেতে তখন যেটা বিঘৎ ব্যবধানে দ্রুততম।তবে সাঈদ আনোয়ার মানে শুধু সংখ্যা নয়। ২০২০ সালে ওসমান সামিউদ্দিন যেমন ‘ইজ সাঈদ আনোয়ার ক্রিমিনালি আন্ডাররেটেড’ লেখায় বলেছেন—

‘পা নড়ে না। জোর নেই। শুধু একটা ঝটকা ছোঁয়া। ব্যাটটা সামান্য কাত হলো, আর বলটা ছুটে বাউন্ডারি হলো থার্ডম্যানের চোখ ধাঁধিয়ে। এমন অল্পতে তুষ্টির শটেও কেমন নান্দনিকতা!’সাঈদ আনোয়ার তাই শেন ওয়ার্নের কাছে তাঁর বোলিংয়ের মুখোমুখি হওয়া সেরা পাকিস্তানি। ওয়ার্নও সংখ্যায় তাকাননি। আত্মজীবনীতে লিখেছিলেন, ‘সংখ্যা নয় ওর স্টাইলটা মনে থাকে।’কিন্তু সাঈদ আনোয়ার একজন বোলারকে পড়তে পারতেন না। শ্রীলঙ্কান জাদুকর মুত্তিয়া মুরালিধরন।

ম্যাচের বিশ্লেষণ ও পরবর্তী প্রতিক্রিয়া

ঘণ্টায় ১০০ মাইল—শোয়েব আখতারের রেকর্ড গড়া সেই দ্রুততম বলের গল্প

টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যত না পাল্টালে মুরালির ৮০০ উইকেটের রেকর্ড কেউ ভাঙতে পারবে না। তাঁর হালকা ছন্দের রান আপ দেখে ক্রিজে দাঁড়িয়ে বোঝা যেত না কী আসছে। অ্যাকশন? পৃথিবীতে তাঁর মতো বোলিং অ্যাকশন আর কারও নেই। তাঁর কনুই বাঁকত কি? সেটা কি নো বল ডাকার মতো যথেষ্ট? এসবে মনোযোগ ছিল বেশির ভাগের। সেই ফাঁকে কিছু একটা যে উল্টে যেত, তা চোখে পড়েছে কজনের? পেসারদের কবজির নিচটা থাকে ব্যাটসম্যানের মুখোমুখি, লেগ স্পিনারের কবজির ডান ব্যাটসম্যানের দিকে থাকলেও বোলিংয়ের সময় উল্টে যায় আর অফ স্পিনাররা তার উল্টো। কবজির ডান দিকটা ব্যাটসম্যানের দিকেই থাকে। আনোয়ার টেস্ট দলে আসতে আসতে এসব তাঁর মস্তিস্কে গেঁথে যায়। অবচেতনভাবেও বুঝে যেতেন কী আসছে, কোথায় দেখতে হবে। 

মুরালিও অফ স্পিনার। তবে প্রচলিতদের থেকে আলাদা। প্রচলিতরা বল ছাড়েন আঙুলের ভেতরে বল ঘুরিয়ে, কোমরও বাঁকে অনেক। কিন্তু মুরালি ছাড়েন ‘রং ওয়ান’ এর মতো, ব্যাক অব দ্য হ্যান্ড। খেলার সময় তাঁর হাতের উল্টো পিঠ দেখতে হচ্ছে।বলটা আসত হাতের পেছন থেকে। (ব্যাটসম্যানের) দেখায় আঙুলগুলো ছিল একরকম প্রতিবন্ধকতা। বুঝতে একটু দেরি হলেই একদম নিখুঁত লেংথের বড় বড় বাঁক নেওয়া ডেলিভারির মুখোমুখি হতে হবে। সাঈদ আনোয়ারের ক্ষেত্রে এটাই ঘটেছিল। মুরালিকে খেলায় ভয় এতটাই ছিল যে যেতে হয়েছিল চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে।খেলার জন্য ব্যাটসম্যানকে তো আগে বলটা দেখতে হবে, তাই না? ঝামেলা হলো শুধু বলটা দেখলেই হয় না। ব্যাটসম্যানের কাজটা আরও জটিল।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ভালো ব্যাটসম্যানরা কি অন্ধকারেও দেখতে পান

প্রকাশের সময় : ১২:১৫:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

সব বল খেলার দরকার নেই। কিন্তু সব বলেই ব্যাটসম্যানের বিচার-বিবেচনাটা লাগে। খেলবেন কি খেলবেন না। খেললেও কীভাবে? আর এই খেলা কিংবা কীভাবে খেলবেন, সেই সিদ্ধান্তটা ঠিক হয় চোখের দেখায়। অর্থাৎ, বলটাকে দেখা। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আসলেই কি অত অল্প সময়ের মধ্যে বল দেখে সিদ্ধান্ত নিয়ে শট খেলা সম্ভব? নাকি অনুশীলন করতে করতে ব্যাটসম্যানরা অনুমানের ওপরই লাইন-লেংথ যাচাই করে ফেলেন? অস্ট্রেলিয়ার খ্যাতিমান ক্রিকেট সাংবাদিক ও লেখক জ্যারড কিম্বারের ‘দ্য আর্ট অব ব্যাটিং’ বইয়ের ‘আইজ’ অধ্যায়ে আছে এই প্রশ্নের উত্তর:

খেলার মাঠের প্রেক্ষাপট ও মূল মুহূর্ত

সাঈদ আনোয়ারের কখনো এমন লাগেনি। বলটা ঠিকমতো দেখা যাচ্ছে না! এমন না যে বলটা খুব জোরে আসছে। মন্থর গতি। কিন্তু হাত থেকে বের হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। কিছু একটা বাধা দিচ্ছে। পাকিস্তান ব্যাটসম্যানের জীবনে কম অভিজ্ঞতা হয়নি। কিন্তু এমন কিছু এই প্রথম।তাঁর মাপের খেলোয়াড়ের জন্য এটা আর যাই হোক স্বাভাবিক নয়। টেস্টে ওপেনার হিসেবে গড় পঞ্চাশের ওপরে। ১১ বছরে ৫৫ ম্যাচ ছোটখাটো ক্যারিয়ারের সাক্ষ্য দিলেও ৪৫.৫০ গড়ে ৪ হাজার রান তার বিপরীতে দাঁড়িয়ে। অভিষেকে ‘পেয়ার’ মেরে তিন বছর দলের বাইরে না থাকলে ম্যাচসংখ্যা আরও বাড়তে পারত। আনোয়ার তাঁর প্রতিভার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ম্যাচগুলো খেলতে পারলে গ্রেট হতেন—এই কথার অর্থ হলো, নব্বই দশকে ২ হাজার রান করা ওপেনারদের মধ্যে দ্বিতীয় সেরা গড়ের ব্যাটসম্যানকে ছাড়াই অনেক টেস্ট খেলেছে পাকিস্তান।

ওপেনারদের মান যাচাই করার একটা পথ হলো ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকায় তাদের পারফরম্যান্স। নতুন বলে ওসব জায়গাই সবচেয়ে কঠিন কন্ডিশন। এই তিন জায়গা মিলিয়ে আনোয়ারের  গড় ৪২। অস্ট্রেলিয়ায় তিন ম্যাচে একটি সেঞ্চুরিও আছে। ঘরের চেয়ে বাইরে তাঁর গড় বেশি, এশিয়ার কোনো ওপেনারের জন্য অচিন্তীয়।যে কজন ওপেনার ওয়ানডে খেলার ধাঁচ পাল্টেছেন, তাদের মাঝে আনোয়ারের নামটা এখন আর বলা হয় না। সবাই ভুলে গেছে। শ্রীলঙ্কার হয়ে সনাৎ জয়াসুরিয়া ওপেন করার আগে ৮৫ স্ট্রাইক রেটে তাঁর হাজার রান ছিল; ওয়ানডেতে তখন যেটা বিঘৎ ব্যবধানে দ্রুততম।তবে সাঈদ আনোয়ার মানে শুধু সংখ্যা নয়। ২০২০ সালে ওসমান সামিউদ্দিন যেমন ‘ইজ সাঈদ আনোয়ার ক্রিমিনালি আন্ডাররেটেড’ লেখায় বলেছেন—

‘পা নড়ে না। জোর নেই। শুধু একটা ঝটকা ছোঁয়া। ব্যাটটা সামান্য কাত হলো, আর বলটা ছুটে বাউন্ডারি হলো থার্ডম্যানের চোখ ধাঁধিয়ে। এমন অল্পতে তুষ্টির শটেও কেমন নান্দনিকতা!’সাঈদ আনোয়ার তাই শেন ওয়ার্নের কাছে তাঁর বোলিংয়ের মুখোমুখি হওয়া সেরা পাকিস্তানি। ওয়ার্নও সংখ্যায় তাকাননি। আত্মজীবনীতে লিখেছিলেন, ‘সংখ্যা নয় ওর স্টাইলটা মনে থাকে।’কিন্তু সাঈদ আনোয়ার একজন বোলারকে পড়তে পারতেন না। শ্রীলঙ্কান জাদুকর মুত্তিয়া মুরালিধরন।

ম্যাচের বিশ্লেষণ ও পরবর্তী প্রতিক্রিয়া

ঘণ্টায় ১০০ মাইল—শোয়েব আখতারের রেকর্ড গড়া সেই দ্রুততম বলের গল্প

টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যত না পাল্টালে মুরালির ৮০০ উইকেটের রেকর্ড কেউ ভাঙতে পারবে না। তাঁর হালকা ছন্দের রান আপ দেখে ক্রিজে দাঁড়িয়ে বোঝা যেত না কী আসছে। অ্যাকশন? পৃথিবীতে তাঁর মতো বোলিং অ্যাকশন আর কারও নেই। তাঁর কনুই বাঁকত কি? সেটা কি নো বল ডাকার মতো যথেষ্ট? এসবে মনোযোগ ছিল বেশির ভাগের। সেই ফাঁকে কিছু একটা যে উল্টে যেত, তা চোখে পড়েছে কজনের? পেসারদের কবজির নিচটা থাকে ব্যাটসম্যানের মুখোমুখি, লেগ স্পিনারের কবজির ডান ব্যাটসম্যানের দিকে থাকলেও বোলিংয়ের সময় উল্টে যায় আর অফ স্পিনাররা তার উল্টো। কবজির ডান দিকটা ব্যাটসম্যানের দিকেই থাকে। আনোয়ার টেস্ট দলে আসতে আসতে এসব তাঁর মস্তিস্কে গেঁথে যায়। অবচেতনভাবেও বুঝে যেতেন কী আসছে, কোথায় দেখতে হবে। 

মুরালিও অফ স্পিনার। তবে প্রচলিতদের থেকে আলাদা। প্রচলিতরা বল ছাড়েন আঙুলের ভেতরে বল ঘুরিয়ে, কোমরও বাঁকে অনেক। কিন্তু মুরালি ছাড়েন ‘রং ওয়ান’ এর মতো, ব্যাক অব দ্য হ্যান্ড। খেলার সময় তাঁর হাতের উল্টো পিঠ দেখতে হচ্ছে।বলটা আসত হাতের পেছন থেকে। (ব্যাটসম্যানের) দেখায় আঙুলগুলো ছিল একরকম প্রতিবন্ধকতা। বুঝতে একটু দেরি হলেই একদম নিখুঁত লেংথের বড় বড় বাঁক নেওয়া ডেলিভারির মুখোমুখি হতে হবে। সাঈদ আনোয়ারের ক্ষেত্রে এটাই ঘটেছিল। মুরালিকে খেলায় ভয় এতটাই ছিল যে যেতে হয়েছিল চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে।খেলার জন্য ব্যাটসম্যানকে তো আগে বলটা দেখতে হবে, তাই না? ঝামেলা হলো শুধু বলটা দেখলেই হয় না। ব্যাটসম্যানের কাজটা আরও জটিল।