রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
ভালো ব্যাটসম্যানরা কি অন্ধকারেও দেখতে পান ‘প্রবাসীরা আসায় স্থানীয়দেরও উন্নতির তাগিদ তৈরি হয়েছে’ কোল্লাপাথর: মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথা ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞ সাত ব্যান্ডের মিলনমেলা, জেমস এলেন রাত ১০টায়… আট কারণে উদ্বোধনের আগেই ‘লেজেগোবরে’ সাফ জুলাই চেতনার মালিকানা দাবি করতে থাকলে নবীন বন্ধুরা নবীনই থেকে যাবেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজ টিভিতে যা যা দেখবেন (৬ নভেম্বর, ২০২৬) একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদীরা এক হয়ে ষড়যন্ত্র করছে: শামা ওবায়েদ খাজা বই লিখে কত টাকা পাচ্ছেন, অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা প্রশ্ন কোচের ‘আমি শুনেছি সেদিন তুমি’র সুর শাহরুখের সিনেমার গানে? মৌসুমীর ভিন্নমত

খাজা বই লিখে কত টাকা পাচ্ছেন, অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা প্রশ্ন কোচের

স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ১০:০০:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
  • / 8
খাজা বই লিখে কত টাকা পাচ্ছেন, অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা প্রশ্ন কোচের

পুরোনো ক্ষত শুকিয়ে গিয়েছিল। অন্তত ড্যারেন লেম্যানের কাছে তা-ই মনে হচ্ছিল। ২০১৮ সালের কেপটাউন টেস্টের বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারি পেছনে ফেলে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটও এগিয়ে গেছে অনেকটা পথ। কিন্তু উসমান খাজার আসন্ন আত্মজীবনী যেন আবার খুলে দিয়েছে সেই পুরোনো ক্ষত। বইয়ে নতুন কিছু তথ্য সামনে আনার কথা জানিয়েছেন খাজা। আর তাতেই অস্বস্তিতে পড়েছেন সেই সময়ের অস্ট্রেলিয়া কোচ লেম্যান।খাজার দাবি, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেই টেস্টে বল টেম্পারিংয়ের ঘটনা দলের সবাই জানতেন। তবে খাজার এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন লেম্যান। শুধু তা-ই নয়, আত্মজীবনীতে এসব কথা প্রকাশের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর ধারণা, বইয়ে এসব লেখার জন্য খাজা ‘অনেক টাকা’ পাচ্ছেন।

খেলার মাঠের প্রেক্ষাপট ও মূল মুহূর্ত

অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম এবিসি গ্র্যান্ডস্ট্যান্ডকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লেম্যান বলেছেন, দলের সবাই বল টেম্পারিংয়ের ঘটনা সম্পর্কে জানতেন বলে তিনি মনে করেন না। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বল টেম্পারিং নতুন কিছু নয় বলেও স্বীকার করেছেন তিনি। লেম্যানের ভাষায়, ‘বল টেম্পারিং ১৫০ বছর ধরেই হয়ে আসছে। কিন্তু কীভাবে করা হচ্ছে, সেটাই আসল বিষয়।’খাজার আত্মজীবনী ‘সবর’ প্রকাশিত হবে আগামী মঙ্গলবার। বইটি প্রকাশের আগে নাইন নিউজপেপারসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ২০১৮ সালের ঘটনা নিয়ে খাজা বলেন, ‘এটা আমাদের সবার ব্যাপার ছিল।’ তাঁর দাবি, বল টেম্পারিংয়ের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন সম্পর্কে শুধু স্টিভ স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নার ও ক্যামেরন ব্যানক্রফটই জানতেন, বিষয়টি এমন নয়।বইয়ে আরও একটি নতুন দাবি করেছেন খাজা। তাঁর ভাষ্য, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টেও বল টেম্পারিং নিয়ে আলোচনা হয়েছিল এবং তা প্রয়োগও করা হয়েছিল। এমন দাবি আগে কখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

তবে দ্বিতীয় টেস্টে বল টেম্পারিং নিয়ে কোনো আলোচনা তাঁর জানা ছিল না বলে জানিয়েছেন লেম্যান। তাঁর ব্যাখ্যা, ‘না, না। তবে ক্রিকেট নিয়ে নানা বিষয়ে সব সময়ই আলোচনা হয়। রিভার্স সুইং কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, তা নিয়ে কথা হয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকা খুব ভালো রিভার্স সুইং করাচ্ছিল। কিন্তু নির্দিষ্টভাবে বল টেম্পারিং নিয়ে কোনো আলোচনার কথা আমার জানা নেই।’কেপটাউন টেস্টের তৃতীয় দিন টেলিভিশন ক্যামেরায় সিরিশ কাগজ দিয়ে বল বিকৃত করার দৃশ্য ধরা পড়েছিল ব্যানক্রফটের। খাজার দাবি, সেই দৃশ্য প্রকাশ্যে আসার আগে এক কোচের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছিল ব্যানক্রফটের। তবে সেই কোচ যে লেম্যান নন, সেটি স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। ব্যানক্রফটের সঙ্গে এমন কোনো কথোপকথনের কথাও তাঁর জানা নেই।ঘটনার দিন ড্রেসিংরুমে খাজা সতীর্থদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়ে দলীয়ভাবে ঘটনার দায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে। সেটিও মনে করতে পারেননি লেম্যান। তবে এমন কিছু ঘটেনি, তা-ও বলেননি তিনি। তাঁর ব্যাখ্যা, সেদিন নিউল্যান্ডসে দুটি আলাদা ড্রেসিংরুম ছিল। বিভিন্ন জায়গায় বৈঠক চলছিল। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গেও তাঁকে অনেক সময় কাটাতে হয়েছে।

২০১৮ সালের সেই কেলেঙ্কারিতে স্মিথ ও ওয়ার্নারকে এক বছরের এবং ব্যানক্রফটকে ৯ মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। ঘটনার সময় অস্ট্রেলিয়ার কোচ ছিলেন লেম্যান। সিরিজের শেষ টেস্টের আগে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। তবে বরাবরই বলে এসেছেন, সিরিশ কাগজ ব্যবহারের পরিকল্পনা সম্পর্কে কিছুই জানতেন না।খাজার বই প্রকাশের খবর সামনে আসার পর পুরোনো ঘটনা আবার মনে পড়ছে লেম্যানের। মানসিকভাবেও অস্বস্তিতে পড়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, ঘটনার পর চার মাস বাড়ি থেকে বের হননি। এ বিষয়ে খাজার সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগও হয়নি।

ম্যাচের বিশ্লেষণ ও পরবর্তী প্রতিক্রিয়া

বইয়ে পুরোনো ঘটনা সামনে আনার পেছনে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলেই মনে করছেন লেম্যান। এ নিয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘বই তো বিক্রির জন্যই লেখা হয়। সে অবসর নিয়েছে, এখন এসব বলছে। আমি জানি না, এসব লেখার জন্য সে কত টাকা পাচ্ছে। তবে সম্ভবত অনেক টাকা পাচ্ছে। এটা কি আদৌ সার্থক? জানি না। হয়তো আমিও একটা বই লিখব।’তবে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মানুষের কাছে আবারও ক্ষমা চেয়েছেন লেম্যান। স্বীকার করেছেন, সেদিন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দেশকে হতাশ করেছিল। একই সঙ্গে তাঁর বিশ্বাস, ক্রিকেটের স্বার্থেই এখন অতীতের সেই ঘটনা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়া উচিত।

‘সব দলই বল টেম্পারিং করত, পাকিস্তানিরা একটু বেশিই’

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

খাজা বই লিখে কত টাকা পাচ্ছেন, অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা প্রশ্ন কোচের

প্রকাশের সময় : ১০:০০:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

পুরোনো ক্ষত শুকিয়ে গিয়েছিল। অন্তত ড্যারেন লেম্যানের কাছে তা-ই মনে হচ্ছিল। ২০১৮ সালের কেপটাউন টেস্টের বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারি পেছনে ফেলে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটও এগিয়ে গেছে অনেকটা পথ। কিন্তু উসমান খাজার আসন্ন আত্মজীবনী যেন আবার খুলে দিয়েছে সেই পুরোনো ক্ষত। বইয়ে নতুন কিছু তথ্য সামনে আনার কথা জানিয়েছেন খাজা। আর তাতেই অস্বস্তিতে পড়েছেন সেই সময়ের অস্ট্রেলিয়া কোচ লেম্যান।খাজার দাবি, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেই টেস্টে বল টেম্পারিংয়ের ঘটনা দলের সবাই জানতেন। তবে খাজার এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন লেম্যান। শুধু তা-ই নয়, আত্মজীবনীতে এসব কথা প্রকাশের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর ধারণা, বইয়ে এসব লেখার জন্য খাজা ‘অনেক টাকা’ পাচ্ছেন।

খেলার মাঠের প্রেক্ষাপট ও মূল মুহূর্ত

অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম এবিসি গ্র্যান্ডস্ট্যান্ডকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লেম্যান বলেছেন, দলের সবাই বল টেম্পারিংয়ের ঘটনা সম্পর্কে জানতেন বলে তিনি মনে করেন না। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বল টেম্পারিং নতুন কিছু নয় বলেও স্বীকার করেছেন তিনি। লেম্যানের ভাষায়, ‘বল টেম্পারিং ১৫০ বছর ধরেই হয়ে আসছে। কিন্তু কীভাবে করা হচ্ছে, সেটাই আসল বিষয়।’খাজার আত্মজীবনী ‘সবর’ প্রকাশিত হবে আগামী মঙ্গলবার। বইটি প্রকাশের আগে নাইন নিউজপেপারসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ২০১৮ সালের ঘটনা নিয়ে খাজা বলেন, ‘এটা আমাদের সবার ব্যাপার ছিল।’ তাঁর দাবি, বল টেম্পারিংয়ের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন সম্পর্কে শুধু স্টিভ স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নার ও ক্যামেরন ব্যানক্রফটই জানতেন, বিষয়টি এমন নয়।বইয়ে আরও একটি নতুন দাবি করেছেন খাজা। তাঁর ভাষ্য, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টেও বল টেম্পারিং নিয়ে আলোচনা হয়েছিল এবং তা প্রয়োগও করা হয়েছিল। এমন দাবি আগে কখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

তবে দ্বিতীয় টেস্টে বল টেম্পারিং নিয়ে কোনো আলোচনা তাঁর জানা ছিল না বলে জানিয়েছেন লেম্যান। তাঁর ব্যাখ্যা, ‘না, না। তবে ক্রিকেট নিয়ে নানা বিষয়ে সব সময়ই আলোচনা হয়। রিভার্স সুইং কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, তা নিয়ে কথা হয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকা খুব ভালো রিভার্স সুইং করাচ্ছিল। কিন্তু নির্দিষ্টভাবে বল টেম্পারিং নিয়ে কোনো আলোচনার কথা আমার জানা নেই।’কেপটাউন টেস্টের তৃতীয় দিন টেলিভিশন ক্যামেরায় সিরিশ কাগজ দিয়ে বল বিকৃত করার দৃশ্য ধরা পড়েছিল ব্যানক্রফটের। খাজার দাবি, সেই দৃশ্য প্রকাশ্যে আসার আগে এক কোচের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছিল ব্যানক্রফটের। তবে সেই কোচ যে লেম্যান নন, সেটি স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। ব্যানক্রফটের সঙ্গে এমন কোনো কথোপকথনের কথাও তাঁর জানা নেই।ঘটনার দিন ড্রেসিংরুমে খাজা সতীর্থদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়ে দলীয়ভাবে ঘটনার দায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে। সেটিও মনে করতে পারেননি লেম্যান। তবে এমন কিছু ঘটেনি, তা-ও বলেননি তিনি। তাঁর ব্যাখ্যা, সেদিন নিউল্যান্ডসে দুটি আলাদা ড্রেসিংরুম ছিল। বিভিন্ন জায়গায় বৈঠক চলছিল। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গেও তাঁকে অনেক সময় কাটাতে হয়েছে।

২০১৮ সালের সেই কেলেঙ্কারিতে স্মিথ ও ওয়ার্নারকে এক বছরের এবং ব্যানক্রফটকে ৯ মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। ঘটনার সময় অস্ট্রেলিয়ার কোচ ছিলেন লেম্যান। সিরিজের শেষ টেস্টের আগে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। তবে বরাবরই বলে এসেছেন, সিরিশ কাগজ ব্যবহারের পরিকল্পনা সম্পর্কে কিছুই জানতেন না।খাজার বই প্রকাশের খবর সামনে আসার পর পুরোনো ঘটনা আবার মনে পড়ছে লেম্যানের। মানসিকভাবেও অস্বস্তিতে পড়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, ঘটনার পর চার মাস বাড়ি থেকে বের হননি। এ বিষয়ে খাজার সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগও হয়নি।

ম্যাচের বিশ্লেষণ ও পরবর্তী প্রতিক্রিয়া

বইয়ে পুরোনো ঘটনা সামনে আনার পেছনে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলেই মনে করছেন লেম্যান। এ নিয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘বই তো বিক্রির জন্যই লেখা হয়। সে অবসর নিয়েছে, এখন এসব বলছে। আমি জানি না, এসব লেখার জন্য সে কত টাকা পাচ্ছে। তবে সম্ভবত অনেক টাকা পাচ্ছে। এটা কি আদৌ সার্থক? জানি না। হয়তো আমিও একটা বই লিখব।’তবে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মানুষের কাছে আবারও ক্ষমা চেয়েছেন লেম্যান। স্বীকার করেছেন, সেদিন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দেশকে হতাশ করেছিল। একই সঙ্গে তাঁর বিশ্বাস, ক্রিকেটের স্বার্থেই এখন অতীতের সেই ঘটনা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়া উচিত।

‘সব দলই বল টেম্পারিং করত, পাকিস্তানিরা একটু বেশিই’