শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
ব্যানারে জিয়ার ছবি নেই, শেখ মুজিবকে ‘জাতির পিতা’ বলায় মঞ্চ থেকে নামানো হলো বক্তাকে রিয়ালের পরবর্তী সভাপতি কি নাদাল, যা বলছে ক্লাবের নিয়ম শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে ক্ষমা চাওয়ানোর অভিযোগ জাবি ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের তীব্র প্রতিবাদে চট্টগ্রামের অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান থেকে বাদ পরীমনি আর্জেন্টিনার আপিলে শাস্তি কমল মলিনার, কমেনি পারেদেসের হৃদয়ের কাছেই রহস্যটা জানতে বললেন সিমন্স কালীগঞ্জে ২৫ জন অসহায় ব্যক্তিকে সরকারি আর্থিক সহায়তা প্রদান করলেন এমপি আবু তালিব নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে পালিত হলো জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস যেকোনো মূল্যে দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করব: প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলীকে নিয়ে সিরিজ, সাইফ–অক্ষয়ের সিনেমা, ওটিটিতে যা দেখবেন

শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে ক্ষমা চাওয়ানোর অভিযোগ জাবি ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

জাবি প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৫৮:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
  • / 23

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) দুই নারী অতিথিসহ এক শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধভাবে মারধর এবং জোর করে ক্ষমা চাওয়ানোর ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য সামিন ইয়াসার লাবিবের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম শিহাব বিশ্বাস। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব রিমোট সেন্সিং অ্যান্ড জিআইএসের ষষ্ঠ ব্যাচের নিয়মিত শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত সামিন ইয়াসার লাবিব পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং কাজী নজরুল ইসলাম হল সংসদের সাবেক নির্বাচিত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (এজিএস)।

এ ঘটনায় শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

অভিযোগপত্র ও ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, শুক্রবার দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে দুই নারী অতিথিকে নিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল সংলগ্ন ‘সুইজারল্যান্ড’ এলাকায় একটি মাচায় ছবি তুলতে যান শিহাব। কিছুক্ষণ অবস্থানের পর সামিন ইয়াসার লাবিবসহ আরেকজন এসে তাঁর পরিচয় জানতে চান। শিহাব বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র দেখালে তাঁকে দ্রুত সেখান থেকে চলে যেতে বলা হয়।

শিহাব জানান, তিনি ছবি তুলে অল্প সময়ের মধ্যেই চলে যাবেন। তবে লাবিব জায়গাটিকে নিজের দাবি করলে শিহাব পাল্টা যুক্তি দেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো স্থান ব্যক্তিগত হতে পারে না। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি হয়।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মাচা থেকে নেমে কিছুটা এগোতেই লাবিবের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন এসে তাঁকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে এলোপাতাড়ি মারধর করে। একপর্যায়ে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে বেধড়ক পেটানো হলে তাঁর নাক, মুখ ও কান দিয়ে রক্তপাত হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। এ সময় সঙ্গে থাকা দুই নারী অতিথির একজনের চশমা ভেঙে ফেলা হয়। এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে দিয়ে জোরপূর্বক একটি ভিডিও ধারণ করানো হয়, যেখানে মাচায় যাওয়াকে নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়।

মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে সামিন ইয়াসার লাবিব বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি আমি জেনেছি। সেখানে মারধরের কথা বলা হলেও বাস্তবে কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি। তাঁর সঙ্গে কেবল বাকবিতণ্ডা হয়েছিল।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. আব্দুল হালিম জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুজন সহকারী প্রক্টরকে ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে; প্রতিবেদন পেলে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে ক্ষমা চাওয়ানোর অভিযোগ জাবি ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

প্রকাশের সময় : ০৮:৫৮:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) দুই নারী অতিথিসহ এক শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধভাবে মারধর এবং জোর করে ক্ষমা চাওয়ানোর ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য সামিন ইয়াসার লাবিবের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম শিহাব বিশ্বাস। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব রিমোট সেন্সিং অ্যান্ড জিআইএসের ষষ্ঠ ব্যাচের নিয়মিত শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত সামিন ইয়াসার লাবিব পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং কাজী নজরুল ইসলাম হল সংসদের সাবেক নির্বাচিত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (এজিএস)।

এ ঘটনায় শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

অভিযোগপত্র ও ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, শুক্রবার দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে দুই নারী অতিথিকে নিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল সংলগ্ন ‘সুইজারল্যান্ড’ এলাকায় একটি মাচায় ছবি তুলতে যান শিহাব। কিছুক্ষণ অবস্থানের পর সামিন ইয়াসার লাবিবসহ আরেকজন এসে তাঁর পরিচয় জানতে চান। শিহাব বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র দেখালে তাঁকে দ্রুত সেখান থেকে চলে যেতে বলা হয়।

শিহাব জানান, তিনি ছবি তুলে অল্প সময়ের মধ্যেই চলে যাবেন। তবে লাবিব জায়গাটিকে নিজের দাবি করলে শিহাব পাল্টা যুক্তি দেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো স্থান ব্যক্তিগত হতে পারে না। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি হয়।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মাচা থেকে নেমে কিছুটা এগোতেই লাবিবের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন এসে তাঁকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে এলোপাতাড়ি মারধর করে। একপর্যায়ে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে বেধড়ক পেটানো হলে তাঁর নাক, মুখ ও কান দিয়ে রক্তপাত হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। এ সময় সঙ্গে থাকা দুই নারী অতিথির একজনের চশমা ভেঙে ফেলা হয়। এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে দিয়ে জোরপূর্বক একটি ভিডিও ধারণ করানো হয়, যেখানে মাচায় যাওয়াকে নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়।

মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে সামিন ইয়াসার লাবিব বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি আমি জেনেছি। সেখানে মারধরের কথা বলা হলেও বাস্তবে কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি। তাঁর সঙ্গে কেবল বাকবিতণ্ডা হয়েছিল।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. আব্দুল হালিম জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুজন সহকারী প্রক্টরকে ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে; প্রতিবেদন পেলে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।