Dhaka ০২:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
রাজবাড়ীতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পদ্মায় অবাধে ইলিশ শিকার অনেক বাচ্চাকে চুমা দিয়েছি, আমারে মারার সাহস আছে: ক্বারী তাশরীফ শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে নগদ টাকা, স্বর্ণ ও ১৮ দেশের মুদ্রা তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে ‘ভাইস প্রেসিডেন্ট’ পদ সৃষ্টির প্রস্তাব এসেছে জড়িয়ে ধরতেই ভেঙে গেল স্ত্রীর বুকের একাধিক পাঁজর, ভিডিও ভাইরাল আলেমদের জন্য রক্ত দিতেও দ্বিধা করব না: ধর্মমন্ত্রী সীমান্তে ভ্যানচালককে মারধর, বিএসএফকে ক্ষমা চাইতে বিজিবির কড়া বার্তা ‘অর্থনীতির শক্তিশালী খাত হতে পারে ‌সৃষ্টিশীল কাজের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা’ কালীগঞ্জে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে জাতিসংঘের জোরালো ভূমিকা চায় বাংলাদেশ
১৩ বছরের ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষক পলাতক

নিজে অসুস্থ বলে মাদ্রাসাছাত্রীদের পরিচালক স্বামীর কাছে পাঠাতেন স্ত্রী, অতঃপর…

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৮:০১:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / 22

ঢাকার সাভারে ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ধর্ষণে সহায়তা ও ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে তাঁর স্ত্রী ও মাদ্রাসার পরিচালক তোহফাতুল জান্নাহকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক রয়েছেন।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের ছোট কালিয়াকৈর এলাকার তোহফাতুল জান্নাহ মহিলা মাদ্রাসার একটি কক্ষে এ ঘটনা ঘটে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে মাদ্রাসার একটি কক্ষে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন আব্দুল বারী। পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে তাঁর স্ত্রী তোহফাতুল জান্নাহর মাধ্যমে ছাত্রীর প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সন্ধ্যা পর্যন্ত ছাত্রীকে মাদ্রাসার ভেতরে আটকে রাখা হয় এবং বিষয়টি কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে মাদ্রাসার এক নারী রান্নার সহকারীর সহযোগিতায় সেখান থেকে বের হয়ে বাড়ি ফিরে দাদাকে ঘটনাটি জানায় ছাত্রীটি।

ভুক্তভোগীর পরিবারের মাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার রাতে উত্তেজিত জনতা মাদ্রাসা ও অভিযুক্ত শিক্ষকের বাসভবন ঘেরাও করে তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে বিক্ষুব্ধ লোকজন পুলিশের কাজে বাধা দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে মাদ্রাসা ও শিক্ষকের বাসভবনের দুটি কক্ষে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত ৯টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্য, তোহফাতুল জান্নাহ ও তাঁর ছোট ছেলেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এলাকায় নতুন করে বিশৃঙ্খলা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা মতিউর রহমান অন্য ছাত্রীদের বরাত দিয়ে অভিযোগ করেন, শারীরিক অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে আব্দুল বারীর স্ত্রী মাদ্রাসার ছাত্রীদের তাঁর স্বামীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে চাপ দিতেন। তবে এ অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল আলম জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রীর দাদার দায়ের করা মামলায় আব্দুল বারীর স্ত্রীকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মূল অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রীর সুনির্দিষ্ট ভূমিকা কী ছিল, তা জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

১৩ বছরের ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষক পলাতক

নিজে অসুস্থ বলে মাদ্রাসাছাত্রীদের পরিচালক স্বামীর কাছে পাঠাতেন স্ত্রী, অতঃপর…

প্রকাশের সময় : ০৮:০১:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকার সাভারে ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ধর্ষণে সহায়তা ও ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে তাঁর স্ত্রী ও মাদ্রাসার পরিচালক তোহফাতুল জান্নাহকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক রয়েছেন।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের ছোট কালিয়াকৈর এলাকার তোহফাতুল জান্নাহ মহিলা মাদ্রাসার একটি কক্ষে এ ঘটনা ঘটে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে মাদ্রাসার একটি কক্ষে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন আব্দুল বারী। পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে তাঁর স্ত্রী তোহফাতুল জান্নাহর মাধ্যমে ছাত্রীর প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সন্ধ্যা পর্যন্ত ছাত্রীকে মাদ্রাসার ভেতরে আটকে রাখা হয় এবং বিষয়টি কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে মাদ্রাসার এক নারী রান্নার সহকারীর সহযোগিতায় সেখান থেকে বের হয়ে বাড়ি ফিরে দাদাকে ঘটনাটি জানায় ছাত্রীটি।

ভুক্তভোগীর পরিবারের মাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার রাতে উত্তেজিত জনতা মাদ্রাসা ও অভিযুক্ত শিক্ষকের বাসভবন ঘেরাও করে তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে বিক্ষুব্ধ লোকজন পুলিশের কাজে বাধা দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে মাদ্রাসা ও শিক্ষকের বাসভবনের দুটি কক্ষে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত ৯টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্য, তোহফাতুল জান্নাহ ও তাঁর ছোট ছেলেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এলাকায় নতুন করে বিশৃঙ্খলা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা মতিউর রহমান অন্য ছাত্রীদের বরাত দিয়ে অভিযোগ করেন, শারীরিক অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে আব্দুল বারীর স্ত্রী মাদ্রাসার ছাত্রীদের তাঁর স্বামীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে চাপ দিতেন। তবে এ অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল আলম জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রীর দাদার দায়ের করা মামলায় আব্দুল বারীর স্ত্রীকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মূল অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রীর সুনির্দিষ্ট ভূমিকা কী ছিল, তা জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।