সাত জটিল রোগে আক্রান্তরা পাবেন এক লাখ টাকা, আবেদন করবেন যেভাবে

- প্রকাশের সময় : ১১:০৬:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
- / 14
ক্যান্সার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, প্যারালাইসিস, হৃদরোগ, লিউকেমিয়া ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসায় এককালীন এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে সরকার। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সমাজসেবা অধিদপ্তর এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ কর্মসূচির আওতায় ৬৫ হাজার রোগীকে সহায়তা দিতে ৬৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর এসব জটিল রোগে আক্রান্ত তিন লাখের বেশি মানুষ নতুন করে আক্রান্ত হন এবং প্রায় তিন লাখ মানুষ এসব রোগে মারা যান। ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে অনেক রোগীর পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে অসচ্ছল রোগীদের চিকিৎসা গ্রহণের সক্ষমতা বাড়ানো এবং তাঁদের পরিবারের আর্থসামাজিক দুরবস্থা কমানোই এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।
যাঁরা পাবেন সহায়তা
ক্যান্সার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, প্যারালাইসিস, হৃদরোগ, লিউকেমিয়া ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত দরিদ্র ও অসহায় ব্যক্তিরা এ সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট রোগের চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
রোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে দরিদ্র ও অসচ্ছল ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। যাঁদের দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন এবং জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি শিশু, নারী, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী রোগীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা রয়েছে।
কর্মসূচির নীতিমালায় আর্থিক ও সামাজিকভাবে অসহায় ব্যক্তিদেরও অগ্রাধিকার দেওয়ার বিধান রয়েছে। এ ক্ষেত্রে পারিবারিক আয়-ব্যয় ও আর্থসামাজিক অবস্থা বিবেচনা করা হবে।

অনলাইনে আবেদন যেভাবে
আর্থিক সহায়তা পেতে রোগী নিজে অথবা তাঁর পরিবারের কোনো সদস্য, অভিভাবক কিংবা আইনানুগ অভিভাবক অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
আবেদন করতে হবে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে। আবেদনপত্র যথাযথভাবে পূরণ করে জমা দেওয়ার পর সেটির স্বাক্ষরিত মুদ্রিত কপি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়, শহর সমাজসেবা কার্যালয় অথবা হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যালয়ে জমা দিতে হবে।
অনলাইনে আবেদন করার ওয়েবসাইট: https://mswservices.gov.bd/auth/login
যেসব কাগজপত্র লাগবে
আবেদনের সঙ্গে রোগীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি দিতে হবে। অপ্রাপ্তবয়স্ক রোগীর ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন সনদের ফটোকপি জমা দিতে হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আবেদনকারী, অভিভাবক বা আইনানুগ অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও পাসপোর্ট আকারের এক কপি ছবিও প্রয়োজন হবে।
এ ছাড়া ব্যাংকের চেক বইয়ের কভার পাতার ফটোকপি, চিকিৎসকের সর্বশেষ ব্যবস্থাপত্র এবং সংশ্লিষ্ট রোগ শনাক্তকরণের পরীক্ষার সত্যায়িত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। অনলাইন আবেদনপত্রের স্বাক্ষরিত মুদ্রিত কপিও জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
ক্যান্সারের ক্ষেত্রে বায়োপসি বা অন্যান্য প্রাসঙ্গিক পরীক্ষার প্রতিবেদন, কিডনি রোগের ক্ষেত্রে কিডনির কার্যক্ষমতা ও ডায়ালাইসিসসংক্রান্ত প্রতিবেদন, লিভার সিরোসিসের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং হৃদরোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা ও পরীক্ষার প্রতিবেদন দিতে হবে। অন্যান্য রোগের ক্ষেত্রেও রোগ নির্ণয়ের প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে।
একই অর্থবছরে একবার, জীবদ্দশায় সর্বোচ্চ তিনবার
কর্মসূচির নিয়ম অনুযায়ী, একজন রোগী একই অর্থবছরে একবার এবং জীবদ্দশায় সর্বোচ্চ তিনবার আর্থিক সহায়তা পেতে পারবেন। আবেদনকারীর দেওয়া তথ্য ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট কমিটি চূড়ান্তভাবে রোগী নির্বাচন করবে।
ভুল তথ্য দেওয়া বা জাল কাগজপত্র জমা দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে আবেদন বাতিল করা হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিকভাবে প্রস্তুত করা এবং অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পর নির্ধারিত কার্যালয়ে স্বাক্ষরিত মুদ্রিত কপিসহ সব কাগজপত্র জমা দেওয়া জরুরি।
২০১৩-১৪ অর্থবছরে শুরু কর্মসূচি
২০১৩-১৪ অর্থবছরে এ কর্মসূচি শুরু হয়। সে সময় বরাদ্দ ছিল ২ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং উপকারভোগীর সংখ্যা ছিল ৫৬১ জন।
পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে বরাদ্দ ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হয়। ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ কর্মসূচিতে প্রতিবছর ৩০০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ রাখা হয় এবং ৬০ হাজার রোগীকে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বরাদ্দ বাড়িয়ে ৬৫০ কোটি টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে উপকারভোগীর লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৬৫ হাজার নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে জটিল রোগে আক্রান্ত দরিদ্র ও অসহায় ব্যক্তিদের চিকিৎসার ব্যয় বহনে সহায়তা করাই সরকারের লক্ষ্য।





















