নানা ছদ্মবেশে অপরাধের খবর সংগ্রহ করতেন নিহত সাংবাদিক আলিফ
- প্রকাশের সময় : ০৮:৪১:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
- / 10
কখনো মুচি, কখনো ফেরিওয়ালা, আবার কখনো মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির ছদ্মবেশে সীমান্ত এলাকায় অপরাধের তথ্য সংগ্রহ করতেন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির। মাদক কারবার, চোরাচালান ও অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনসহ নানা অপরাধ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করতেন তিনি। এসব প্রতিবেদনের জেরে আগেও তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যরা। শেষ পর্যন্ত দুর্বৃত্তদের গুলিতে প্রাণ হারাতে হয় এই সাংবাদিককে।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সোয়া ৮টার দিকে নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌরসভার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উতরাইল বাজারে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন আলিফ। তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন।
সহকর্মী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির জন্য আলিফ বিভিন্ন ছদ্মবেশে অপরাধচক্রের কাছাকাছি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতেন। সীমান্ত এলাকায় মাদক, চোরাচালান ও অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনের মতো অপরাধ নিয়ে তাঁর একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টা আগেও নিজের ফেসবুক পেজে সক্রিয় ছিলেন তিনি।
সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের দাবি, অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে আগেও আলিফের ওপর হামলার চেষ্টা হয়েছিল। এরপরও তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। ফলে আগে থেকে থাকা নিরাপত্তাঝুঁকি যথাযথ গুরুত্ব পেয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, আলিফ হত্যার ঘটনায় তাঁর স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আটজনকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় হত্যা মামলা করেছেন।
মামলার পর শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে দুর্গাপুর পৌর শহরের মধ্যবাজার এলাকার পুরোনো সিনেমা হলের পাশ থেকে সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্বকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনি পৌর শহরের উকিলপাড়া এলাকার শমশের আলীর ছেলে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে গ্রেফতার সাজিবুলকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি























