বাংলাদেশ এখন কৌশলগত গুরুত্বের অংশীদার: ইইউ রাষ্ট্রদূত
- প্রকাশের সময় : ০২:১২:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
- / 10
বাংলাদেশকে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। দক্ষিণ এশিয়া, বঙ্গোপসাগর এবং বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের গুরুত্ব অপরিসীম বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।
রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬-এর দ্বিতীয় দিনের কর্ম অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মাইকেল মিলার বলেন, দক্ষিণ এশিয়া, বঙ্গোপসাগর ও বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম গতিশীল অর্থনীতির একটি এবং সম্ভবত ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ ৩০ অর্থনীতির তালিকায় স্থান করে নিতে পারে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে উন্নয়ন অভিযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ, রাজনৈতিক রূপান্তর, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনরুজ্জীবন, অর্থনৈতিক চাপ, জলবায়ুগত ঝুঁকি এবং জটিল বৈশ্বিক পরিবেশ মোকাবিলা—সবকিছু মিলিয়ে দেশটি গুরুত্বপূর্ণ এক পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এই পটভূমিতে আমরা বাংলাদেশকে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের অংশীদার হিসেবে দেখছি, দাতা ও গ্রহীতার দৃষ্টিকোণ থেকে নয়।’
তিনি আরও বলেন, অস্ত্র ছাড়া সবকিছুতে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য অগ্রাধিকার ব্যবস্থার অসাধারণ সাফল্য বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়নযাত্রাকে গতিশীল রাখতে সহায়তা করেছে। এখন দাতা-গ্রহীতার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও উচ্চাভিলাষী পর্যায়ে নিতে চায় ইইউ।
মাইকেল মিলার জানান, বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে মসৃণ ও সফল উত্তরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনাও যাচাই করা হচ্ছে। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে এখনো উত্তরণ সম্পন্ন করেনি—এমন একটি দেশের সঙ্গে এ ধরনের প্রস্তাব ইইউ এবারই প্রথম দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন ইইউ রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ভূ-রাজনৈতিক ও ভূ-অর্থনৈতিক চাপ, জলবায়ু পরিবর্তন, সামাজিক ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মতো বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি, স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা এবং অনুমানযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মধ্যে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়া, আধুনিকায়ন এবং দেশটিকে উন্মুক্ত, সার্বভৌম, স্থিতিস্থাপক ও সংযুক্ত রাখতে সহায়তার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে।
মাইকেল মিলারের বক্তব্যে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ার বিষয়টিও উঠে আসে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরু হলেও তা এখনো শেষ হয়নি। এ সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক অঙ্গনে বৃহত্তর ঐকমত্য গড়ে তোলার উদ্যোগ প্রয়োজন।
বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬-এ বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনে বঙ্গোপসাগর ও বৃহত্তর অঞ্চলের ভূরাজনীতি, অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।






















