দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও অবকাঠামো সংস্কারে অংশ নিতে চায় বিশ্বব্যাংক
- প্রকাশের সময় : ১২:৩৪:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
- / 5
দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবকাঠামো খাতের সংস্কারে সহায়তা দিতে চায় বিশ্বব্যাংক। এ বিষয়ে সরকারের নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করতে সংস্থাটির চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসেছে। শনিবার আসা দলটি আগামী ৭ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থান করবে।
বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের অবকাঠামোবিষয়ক আঞ্চলিক প্র্যাকটিস ডিরেক্টর পঙ্কজ গুপ্তের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশ সফর করছে। সফরে জ্বালানি আমদানির অর্থায়ন, সরবরাহ নিরাপত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার, খাত সংস্কার, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হবে।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের অপারেশনস ম্যানেজার গেইল এইচ মার্টিন সম্প্রতি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকীকে চিঠি দিয়ে চার দিনের এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও টেকসই জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলমান এবং পাইপলাইনে থাকা জ্বালানি প্রকল্পগুলোর অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হবে।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্য, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট ও বিপুল আমদানি ব্যয়ের কারণে দেশের জ্বালানি খাতে তীব্র আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের হিসাবে, চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে সংস্থাটির ক্ষতি হয়েছে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। তেল আমদানি সচল রাখতে নিজস্ব তহবিল থেকেও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা নিতে হয়েছে।
জ্বালানি আমদানিতে বিশ্বব্যাংক ইতোমধ্যে সহায়তা করছে। ‘এনার্জি সেক্টর সিকিউরিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট’-এর আওতায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির জন্য ২০২৫ সালের জুনে ৩৫০ মিলিয়ন ডলার এবং পরবর্তী সময়ে আরও ৩৫০ মিলিয়ন ডলার অনুমোদন করেছে সংস্থাটি। এতে প্রকল্পটির মোট অর্থায়ন দাঁড়িয়েছে ৭০০ মিলিয়ন ডলার। সফরে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন ও ভবিষ্যৎ অর্থায়ন নিয়েও আলোচনা হবে।
এদিকে চট্টগ্রামের বে টার্মিনাল উন্নয়ন, ঢাকা-চট্টগ্রাম লজিস্টিক ও পরিবহন করিডোর, রেলওয়ের কৌশলগত পরিকল্পনা, নৌপরিবহন অবকাঠামোর আধুনিকায়ন, টেকসই নগর পরিকল্পনা, ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন প্রকল্প নিয়েও আলোচনা করবে প্রতিনিধি দলটি।
সফরকালে অর্থ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ, নৌপরিবহন, স্থানীয় সরকার ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দল।




















