Dhaka ০৬:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
পাংশায় কৃষক-নারী-প্রতিবন্ধীদের সহায়তা, কৃতী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার ডিআইজিসহ ৩১ পদে রদবদল ডাস্টবিন, ড্রেনেজ ও গণশৌচাগারের অভাবে ভোগান্তির নাম কামারখালী বাজার পাটওয়ারীকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিলেই বের হবে, ককটেল মারছে কারা: রাশেদ খাঁন দূরপাল্লা ও মহানগরে বাসভাড়া কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়ল ডিজেল বিক্রিতে এখনও ৭০ টাকা লোকসান হচ্ছে: রিজভী কালুখালীতে ১৫ টাকা কেজিতে চাল পেয়ে কার্ডধারীদের মাঝে স্বস্তি স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে ঢালাও মিডিয়া ট্রায়াল গ্রহণযোগ্য নয় : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এয়ারবাসের জন্য বাংলা‌দে‌শে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড চান ফরা‌সি রাষ্ট্রদূত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ইস্যুতে আইএমএফের কোনো শর্ত নেই : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

ডাস্টবিন, ড্রেনেজ ও গণশৌচাগারের অভাবে ভোগান্তির নাম কামারখালী বাজার

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : ০৪:৩১:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 6

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী বাজার শত বছরের পুরোনো হলেও সেখানে এখনো গড়ে ওঠেনি পর্যাপ্ত গণশৌচাগার, ময়লা-আবর্জনা ফেলার নির্ধারিত স্থান ও পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ফলে বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।

এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক ব্যবসায়ী। তাঁদের দাবি, কামারখালীসহ মধুখালী উপজেলার অধিকাংশ বাজারেই ময়লা ফেলার নির্ধারিত স্থান, কার্যকর ড্রেনেজ ও গণশৌচাগারের ব্যবস্থা নেই। এতে বাজারে আসা মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা দ্রুত স্বাস্থ্যসম্মত গণশৌচাগার, ময়লা-আবর্জনা রাখার নির্ধারিত স্থান ও পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।

মধুখালী উপজেলায় একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়নে দৈনিক ও সাপ্তাহিক হাট মিলিয়ে অন্তত এক ডজন বাজার রয়েছে। এসব বাজারে প্রতিদিন হাজারো ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম হয়। কিন্তু অধিকাংশ বাজারেই প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধার ঘাটতি রয়েছে।

ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে পুরোনো ফেরিঘাট পর্যন্ত প্রায় এক বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে কামারখালী বাজার গড়ে উঠেছে। প্রতিদিনের বাজারের পাশাপাশি শুক্র ও সোমবার নিয়মিত হাট বসে। ফরিদপুরের বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও পাশের জেলার ব্যবসায়ীরা ধান, পাট, চৈতালীসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে এখানে আসেন। বিশেষ করে হাটবারে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় থাকে।

দীর্ঘ সময় বাজারে অবস্থান করতে হলেও গণশৌচাগারের ব্যবস্থা না থাকায় ব্যবসায়ীদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। প্রকৃতির প্রয়োজন হলে অনেক ব্যবসায়ীকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরে যেতে হয়।

বাজারে কেনাকাটা করতে আসা লিপি পারভীন বলেন, ‘প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়া লাগবেই। শিশু নিয়ে উপায়ন্তর না পেয়ে নিকটবর্তী একটি বাড়িতে গিয়ে রক্ষা পেয়েছি। বহু বছরের পুরোনো বাজার এভাবে চলতে পারে না।’

কামারখালী বাজার বণিক সমিতির অর্থ সম্পাদক রোকনুজ্জামান বলেন, সাধারণ ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বিষয়গুলো নিয়ে বণিক সমিতির নেতাদের বারবার জানানো হয়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকেও একাধিকবার জানানো হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি।

বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম মণ্ডল বলেন, পুরোনো এ বাজারটি এখনো নিবন্ধিত হয়নি। এ বিষয়ে তাঁরা কাজ করছেন। গণশৌচাগার, পয়োনিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা খুবই জরুরি হলেও কিছু জটিলতা রয়েছে।

বাজার বণিক সমিতির সভাপতি কাজী মতিউল ইসলাম মুরাদ বলেন, স্বাস্থ্যসম্মত ও আধুনিক একটি টয়লেট আছে। তবে সুইপার না থাকায় সেটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা যাচ্ছে না। বাজারে ঝাড়ুদার না থাকায় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাও সম্ভব হচ্ছে না। রেলপথের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করাও সম্ভব নয়।

কামারখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রাকিব হোসেন চৌধুরী ইরান বলেন, নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। তবে সুইপার না থাকায় সেগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত করা যাচ্ছে না। বাজারের ভেতর দিয়ে রেলপথ যাওয়ায় এবং মধুমতি নদীর ওপর রেলসেতু নির্মাণাধীন থাকায় মালামাল পরিবহনের কারণে ড্রেন মাটি দিয়ে ভরে যায়। কয়েকবার পরিষ্কার করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আবার ভরে যায়।

মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, কামারখালী বাজার ব্যবস্থাপনার বিষয়ে বণিক সমিতি ও সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি উপজেলার অন্যান্য বাজারগুলোর বিষয়েও খোঁজখবর নেওয়া হবে।

একসময় বড় বড় নৌযান কামারখালী ঘাটে ভিড়ত। পাটের বড় বাজার হওয়ায় বিভিন্ন বড় জুট মিলের ক্রয়কেন্দ্রও ছিল এ বাজারে। মধুমতি নদীর তীরে অবস্থিত হওয়ায় নৌপথে যাতায়াত ছিল সহজ ও সাশ্রয়ী। সময়ের সঙ্গে সেই ব্যস্ততা কমে গেলেও পুরোনো বাজারটির ঐতিহ্য এখনো রয়ে গেছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ডাস্টবিন, ড্রেনেজ ও গণশৌচাগারের অভাবে ভোগান্তির নাম কামারখালী বাজার

প্রকাশের সময় : ০৪:৩১:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী বাজার শত বছরের পুরোনো হলেও সেখানে এখনো গড়ে ওঠেনি পর্যাপ্ত গণশৌচাগার, ময়লা-আবর্জনা ফেলার নির্ধারিত স্থান ও পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ফলে বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।

এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক ব্যবসায়ী। তাঁদের দাবি, কামারখালীসহ মধুখালী উপজেলার অধিকাংশ বাজারেই ময়লা ফেলার নির্ধারিত স্থান, কার্যকর ড্রেনেজ ও গণশৌচাগারের ব্যবস্থা নেই। এতে বাজারে আসা মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা দ্রুত স্বাস্থ্যসম্মত গণশৌচাগার, ময়লা-আবর্জনা রাখার নির্ধারিত স্থান ও পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।

মধুখালী উপজেলায় একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়নে দৈনিক ও সাপ্তাহিক হাট মিলিয়ে অন্তত এক ডজন বাজার রয়েছে। এসব বাজারে প্রতিদিন হাজারো ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম হয়। কিন্তু অধিকাংশ বাজারেই প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধার ঘাটতি রয়েছে।

ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে পুরোনো ফেরিঘাট পর্যন্ত প্রায় এক বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে কামারখালী বাজার গড়ে উঠেছে। প্রতিদিনের বাজারের পাশাপাশি শুক্র ও সোমবার নিয়মিত হাট বসে। ফরিদপুরের বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও পাশের জেলার ব্যবসায়ীরা ধান, পাট, চৈতালীসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে এখানে আসেন। বিশেষ করে হাটবারে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় থাকে।

দীর্ঘ সময় বাজারে অবস্থান করতে হলেও গণশৌচাগারের ব্যবস্থা না থাকায় ব্যবসায়ীদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। প্রকৃতির প্রয়োজন হলে অনেক ব্যবসায়ীকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরে যেতে হয়।

বাজারে কেনাকাটা করতে আসা লিপি পারভীন বলেন, ‘প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়া লাগবেই। শিশু নিয়ে উপায়ন্তর না পেয়ে নিকটবর্তী একটি বাড়িতে গিয়ে রক্ষা পেয়েছি। বহু বছরের পুরোনো বাজার এভাবে চলতে পারে না।’

কামারখালী বাজার বণিক সমিতির অর্থ সম্পাদক রোকনুজ্জামান বলেন, সাধারণ ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বিষয়গুলো নিয়ে বণিক সমিতির নেতাদের বারবার জানানো হয়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকেও একাধিকবার জানানো হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি।

বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম মণ্ডল বলেন, পুরোনো এ বাজারটি এখনো নিবন্ধিত হয়নি। এ বিষয়ে তাঁরা কাজ করছেন। গণশৌচাগার, পয়োনিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা খুবই জরুরি হলেও কিছু জটিলতা রয়েছে।

বাজার বণিক সমিতির সভাপতি কাজী মতিউল ইসলাম মুরাদ বলেন, স্বাস্থ্যসম্মত ও আধুনিক একটি টয়লেট আছে। তবে সুইপার না থাকায় সেটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা যাচ্ছে না। বাজারে ঝাড়ুদার না থাকায় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাও সম্ভব হচ্ছে না। রেলপথের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করাও সম্ভব নয়।

কামারখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রাকিব হোসেন চৌধুরী ইরান বলেন, নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। তবে সুইপার না থাকায় সেগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত করা যাচ্ছে না। বাজারের ভেতর দিয়ে রেলপথ যাওয়ায় এবং মধুমতি নদীর ওপর রেলসেতু নির্মাণাধীন থাকায় মালামাল পরিবহনের কারণে ড্রেন মাটি দিয়ে ভরে যায়। কয়েকবার পরিষ্কার করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আবার ভরে যায়।

মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, কামারখালী বাজার ব্যবস্থাপনার বিষয়ে বণিক সমিতি ও সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি উপজেলার অন্যান্য বাজারগুলোর বিষয়েও খোঁজখবর নেওয়া হবে।

একসময় বড় বড় নৌযান কামারখালী ঘাটে ভিড়ত। পাটের বড় বাজার হওয়ায় বিভিন্ন বড় জুট মিলের ক্রয়কেন্দ্রও ছিল এ বাজারে। মধুমতি নদীর তীরে অবস্থিত হওয়ায় নৌপথে যাতায়াত ছিল সহজ ও সাশ্রয়ী। সময়ের সঙ্গে সেই ব্যস্ততা কমে গেলেও পুরোনো বাজারটির ঐতিহ্য এখনো রয়ে গেছে।