বদলগাছী হাসপাতালে গাছ কাটার অভিযোগ, নিলাম নিয়ে প্রশ্ন
- প্রকাশের সময় : ০৯:০০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 27
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চত্বর থেকে সরকারি নিয়মনীতি না মেনে মেহগনিসহ বেশ কয়েকটি মূল্যবান গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। কেটে নেওয়া এসব গাছ স্থানীয় বিভিন্ন করাতকলে বিক্রি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। ঘটনায় হাসপাতালের আউটসোর্সিং কর্মী মো. বাপ্পির বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরে হাসপাতাল চত্বরের বেশ কিছু পুরোনো ও মূল্যবান গাছ কেটে নেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা গাছ কাটার কারণ জানতে চান। তবে এ বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ তাদের। পরে কাটা গাছ স্থানীয় বিভিন্ন করাতকলে নিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি সম্পদ রক্ষায় দায়িত্বশীলদের নজরদারির ঘাটতির সুযোগে এসব গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের চত্বর থেকে গাছ কাটার ক্ষেত্রে যথাযথ অনুমোদন ও নিলাম প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কানিজ ফাতেমা বলেন, ‘গাছগুলো নিয়মমাফিক ডাক বা নিলামের মাধ্যমে কাটার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন ছিল। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বন বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘গাছগুলো ঝড়ে পুকুরে পড়ে ছিল। সেগুলো পুকুরে থাকলে মাছ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকায় ওপরে তুলে রাখা হয়েছিল। সেখান থেকে কিছু গাছ কে বা কারা করাতকলে নিয়ে বিক্রি করেছে, তা আমি জানি না। বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি করা হয়েছে।’
বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। গাছ কাটার বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি হয়েছে এবং এ বিষয়ে চিঠি দিয়ে আমাকে অবহিত করা হয়েছে।’
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের সঙ্গে বন বিভাগের তথ্যের অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। বদলগাছী উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, গত তিন মাসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে গাছ কাটা বা বিক্রির বিষয়ে কোনো চিঠি বা আবেদন তাঁরা পাননি। নিয়ম অনুযায়ী বন বিভাগের অনুমোদন ও মূল্যায়ন ছাড়া সরকারি গাছ কাটার সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চিঠি দেওয়ার দাবি এবং বন বিভাগের চিঠি না পাওয়ার বক্তব্যের কারণে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরকারি সম্পদ রক্ষায় ঘটনাটি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
তাঁরা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান।
























