Dhaka ০৭:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
নাব্যতা সংকটে দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ফেরিঘাট বন্ধ ‘একটা আইফোনের জন্য একটা অবুঝ বাচ্চাকে এভাবে মারতে পারে?’ কান্নাজড়িত কন্ঠে এমপি মনিরুল অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে একাধিক ক্লু পেয়েছে পুলিশ, জিজ্ঞাসাবাদে কয়েকজন মহাদেবপুরে ফিডমিলে বিপুল কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ, পরিবেশগত অনুমোদন নিয়েও প্রশ্ন নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি, জুলাই থেকেই বাড়তি বেতন মা-বাবার কাছে চিরকুট লিখে কলেজছাত্রীর আত্মহত্যা ‘উনি যে জেলায় যান, সে জেলায়ই কালেমা পড়ে বিয়ে করেন’ নওগাঁর পোরশায় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ মাদক কারবারি আটক গত ১৭ বছর দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ছেলেখেলা করা হয়েছে: রিজভী কে হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মনোনীত জাবি সিন্ডিকেট সদস্য?

মহাদেবপুরে ফিডমিলে বিপুল কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ, পরিবেশগত অনুমোদন নিয়েও প্রশ্ন

খোরশেদ আলম, নওগাঁ :
  • প্রকাশের সময় : ০৫:২৭:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 22

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার রাইগাঁ ইউনিয়নে বিস্তীর্ণ কৃষিজমির মাঝখানে গড়ে ওঠা আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ নামের একটি ফিডমিলে উৎপাদনের জ্বালানি হিসেবে বিপুল পরিমাণ কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা কাঠ ও গাছপালা এনে দীর্ঘদিন ধরে কারখানাটিতে পোড়ানো হচ্ছে। এতে ধোঁয়া ও ছাই ছড়িয়ে আশপাশের পরিবেশ ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

মাতাজি বটতলী থেকে নওগাঁ শহরের দিকে আসার পথে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে সড়কের পাশে কারখানাটির অবস্থান। চারদিকে কৃষিজমি থাকায় সেখানে বিপুল পরিমাণ কাঠ পোড়ানোর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, কাঠ সংগ্রহ করে এনে কারখানায় পোড়ানো হচ্ছে। এতে এলাকায় গাছপালা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও করছেন তাঁরা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কারখানার আশপাশের কৃষিজমিতে আগের তুলনায় ধান চাষ কমেছে। তবে এর সঙ্গে কারখানার কার্যক্রমের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা বৈজ্ঞানিক ও প্রশাসনিক তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।

এদিকে কারখানায় মাছের খাবার উৎপাদন ও বাজারজাত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ব্যক্তি সেখান থেকে টনে টনে মাছের খাবার তৈরি করে বাইরে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কারা এসব খাবার তৈরি করছেন, কী উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে এবং উৎপাদিত খাবারের গুণগত মান কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। অনুমোদিত কার্যক্রমের বাইরে কেউ সেখানে মাছের খাবার তৈরি ও বাজারজাত করলে তার অনুমোদন এবং পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও যাচাই প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

আরও অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকদের অনুসন্ধান শুরু হওয়ার পর আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষ থেকে পরিবেশ অধিদপ্তরের নওগাঁ কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় পরিবেশগত অনুমোদন বা ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নওগাঁ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নাজমুল হোসাইন বলেন, আবেদনটি যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি কারখানায় কাঠ পোড়ানোর বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি লাইসেন্স ও অনুমোদনের শর্ত অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করছে কি না, তা যাচাই করা হবে। অনুমোদনের শর্তের বাইরে কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আসবে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, সাংবাদিকদের অনুসন্ধানের পর যদি পরিবেশগত অনুমোদন বা ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হয়ে থাকে, তাহলে এর আগে কারখানাটি কী ধরনের পরিবেশগত অনুমোদনের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছিল। একই সঙ্গে কৃষিজমি অধ্যুষিত এলাকায় কারখানাটিতে বিপুল পরিমাণ কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ, পরিবেশগত অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন এবং মাছের খাবার উৎপাদন ও গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগ—সব মিলিয়ে আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের কার্যক্রম সরেজমিন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য বের করবে এবং অনিয়ম পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

মহাদেবপুরে ফিডমিলে বিপুল কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ, পরিবেশগত অনুমোদন নিয়েও প্রশ্ন

প্রকাশের সময় : ০৫:২৭:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার রাইগাঁ ইউনিয়নে বিস্তীর্ণ কৃষিজমির মাঝখানে গড়ে ওঠা আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ নামের একটি ফিডমিলে উৎপাদনের জ্বালানি হিসেবে বিপুল পরিমাণ কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা কাঠ ও গাছপালা এনে দীর্ঘদিন ধরে কারখানাটিতে পোড়ানো হচ্ছে। এতে ধোঁয়া ও ছাই ছড়িয়ে আশপাশের পরিবেশ ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

মাতাজি বটতলী থেকে নওগাঁ শহরের দিকে আসার পথে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে সড়কের পাশে কারখানাটির অবস্থান। চারদিকে কৃষিজমি থাকায় সেখানে বিপুল পরিমাণ কাঠ পোড়ানোর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, কাঠ সংগ্রহ করে এনে কারখানায় পোড়ানো হচ্ছে। এতে এলাকায় গাছপালা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও করছেন তাঁরা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কারখানার আশপাশের কৃষিজমিতে আগের তুলনায় ধান চাষ কমেছে। তবে এর সঙ্গে কারখানার কার্যক্রমের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা বৈজ্ঞানিক ও প্রশাসনিক তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।

এদিকে কারখানায় মাছের খাবার উৎপাদন ও বাজারজাত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ব্যক্তি সেখান থেকে টনে টনে মাছের খাবার তৈরি করে বাইরে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কারা এসব খাবার তৈরি করছেন, কী উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে এবং উৎপাদিত খাবারের গুণগত মান কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। অনুমোদিত কার্যক্রমের বাইরে কেউ সেখানে মাছের খাবার তৈরি ও বাজারজাত করলে তার অনুমোদন এবং পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও যাচাই প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

আরও অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকদের অনুসন্ধান শুরু হওয়ার পর আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষ থেকে পরিবেশ অধিদপ্তরের নওগাঁ কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় পরিবেশগত অনুমোদন বা ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নওগাঁ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নাজমুল হোসাইন বলেন, আবেদনটি যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি কারখানায় কাঠ পোড়ানোর বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি লাইসেন্স ও অনুমোদনের শর্ত অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করছে কি না, তা যাচাই করা হবে। অনুমোদনের শর্তের বাইরে কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আসবে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, সাংবাদিকদের অনুসন্ধানের পর যদি পরিবেশগত অনুমোদন বা ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হয়ে থাকে, তাহলে এর আগে কারখানাটি কী ধরনের পরিবেশগত অনুমোদনের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছিল। একই সঙ্গে কৃষিজমি অধ্যুষিত এলাকায় কারখানাটিতে বিপুল পরিমাণ কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ, পরিবেশগত অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন এবং মাছের খাবার উৎপাদন ও গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগ—সব মিলিয়ে আল মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের কার্যক্রম সরেজমিন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য বের করবে এবং অনিয়ম পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।