ব্রাজিলে ফুটবল ম্যাচে মারামারির চূড়ান্ত, ৫৩ লাল কার্ডের বিশ্ব রেকর্ড

- প্রকাশের সময় : ১১:৩১:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
- / 8

নজিরবিহীন? হতে পারে। ফুটবল–ইতিহাসে কোনো ম্যাচে এমন ভয়াবহ মারামারি হয়েছে কি না, সেটা সত্যিই গবেষণার বিষয়। লাল কার্ড দেখেছেন মোট ৫৩ জন!ব্রাজিলের মিনাস গেরাইসে অনূর্ধ্ব–২০ পর্যায়ে রাজ্য চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে গত রোববার উবেরলান্দিয়ার মুখোমুখি হয় মামোরে। মামোরের ৩–১ গোলে জয়ের এ ম্যাচে মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন দুই দলের খেলোয়াড় ও স্টাফরা। ফল? রেফারি ফার্নান্দো প্যাট্রিক মোদেস্তের ম্যাচ রিপোর্ট অনুযায়ী, দুই দল মারামারিতে জড়িয়ে পড়ার পর মোট ৪০ জন খেলোয়াড় ও ৮ জন স্টাফকে লাল কার্ড দেখান রেফারি ফার্নান্দো প্যাট্রিক মোদেস্তে।
খেলার মাঠের প্রেক্ষাপট ও মূল মুহূর্ত
মারামারির এ ঘটনার আগে আরও তিন খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখান রেফারি। উবেরলান্দিয়ার দুই বোর্ড সদস্যকেও লাল কার্ড দেখানো হয়। সব মিলিয়ে লাল কার্ড দেখেন দুই দলের মোট ৪৩ খেলোয়াড়, ৮ কোচিং স্টাফ এবং ২ জন ক্লাব অফিশিয়াল।গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী, এর আগে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ৩৬ লাল কার্ড দেখা গেছে। সেটা ২০১১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি আর্জেন্টিনার পঞ্চম বিভাগে ক্লাব আতলেতিকো ক্লাইপোলে ও ভিক্টোরিয়া আরেভাসের মধ্যকার ম্যাচে। সেই রেকর্ড ভেঙে এবার গিনেস বইয়ে নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়ল ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের এ ম্যাচ।
রেফারির বিরুদ্ধে সহিংসতার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় পুলিশের কাছে অভিযোগও করা হয়। মিনাস গেরাইস ফুটবল ফেডারেশন প্রকাশিত ও রেফারির ম্যাচ রিপোর্ট অনুযায়ী, মামোরে দ্বিতীয়ার্ধে যোগ করা সময়ের ৯ মিনিটে প্রায় সব কটি লাল কার্ড দেখানো হয়।ম্যাচ রিপোর্টে বলা হয়, গোল উদ্যাপনের সময় মামোরের এক খেলোয়াড় উবেরলান্দিয়া বেঞ্চের দিকে ‘উসকানিমূলক ও আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গি’ করেন এবং বলেন, ‘এটা মামোরে, নিজেদের চরকায় তেল দাও! চলে যাও এখান থেকে!’ রিপোর্টে আরও বলা হয়, উবেরলান্দিয়া কোচিং স্টাফদের এক সদস্য মাঠে দৌড়ে গিয়ে এক খেলোয়াড়কে ধাক্কা মারেন, যার ফলে ‘পূর্ণাঙ্গ হাতাহাতি বা মারামারি শুরু হয়ে যায়’। দুই দলের স্কোয়াড এবং কোচিং স্টাফ থেকে বহিষ্কৃত অন্য ৪৬ জনের সঙ্গে সেই দুজনকেও ‘প্রতিপক্ষকে ঘুষি ও লাথি মারা’র দায়ে মাঠ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এথেন্সকে স্তব্ধ করে রিয়ালকে জেতালেন ভালভের্দে
ম্যাচের বিশ্লেষণ ও পরবর্তী প্রতিক্রিয়া
মোদেস্তে ম্যাচ রিপোর্টে উল্লেখ করেন, ‘হট্টগোলের কারণে’ তাঁর পক্ষে শারীরিকভাবে লাল কার্ডগুলো দেখানো সম্ভব হয়নি। সব মিলিয়ে উবেরলান্দিয়ার ২৪ জন এবং মামোরের ২৯ জনকে লাল কার্ড দেখিয়ে বহিষ্কার করা হয়।দ্বিতীয়ার্ধে খেলা শুরুর সাত মিনিট পর উবেরলান্দিয়ার লুইকে বিস্পো দো সান্তোসকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান রেফারি মোদেস্তে। এরপরই প্রথম ঝামেলা শুরু হয়। সান্তোস লাল কার্ড দেখার পর ক্লাবটির স্টাফদের তিনজন ‘মাঠে ঢুকে পড়েন এবং অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও ভীতিপ্রদ ভঙ্গিতে আঙুল উঁচিয়ে রেফারিদের দিকে এগিয়ে যান’।
তাঁদের একজনের রেফারিদের প্রতি হুমকির ভাষা ছিল এমন, ‘আজ এখান থেকে বের হতে পারবে না। কী ভেবেছ, শহর ছেড়ে চলে যেতে পারবে? আমরা তোমাদের দেখে নেব! আমাদের ক্ষতি করতেই তোমরা এখানে এসেছ!’ উবেরলান্দিয়া স্টাফদের আরেকজন রেফারিদের হুমকি দেন এই বলে, ‘এখান থেকে যেতে পারবি না। দেখি তোকে পুলিশ পাহারা দিয়ে বের করতে পারে কি না। বাইরে তোকে দেখে নেব, শুধু তুই আর আমি, তোকে আমি খুন করব।’উবেরলান্দিয়ার এই দুই স্টাফকে লাল কার্ড দেখানো হয় এবং ‘মাঠে ঢুকে পড়া সব কর্মকর্তাকে সরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত’ ম্যাচটি ৪০ মিনিট স্থগিত রাখা হয়।
লিভারপুলকে হারিয়ে ১৮ বছর পর জয় ফেনেরবাচের





















