বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
রিয়াদের বিমানবন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি হুতির বোঁচাগঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনে প্রস্তুতি সভা দৌড়ঝাঁপ-নাচে দক্ষ চীনের রোবট, এখন শুধু ‘বুদ্ধিমান’ হওয়া বাকি মাদ্রিদের মাঠে রোনালদোর রেকর্ড ছোঁয়ার হাতছানি কেইনের সামনে রাষ্ট্র চলে যৌক্তিকতায়, রাগ-ক্ষোভে নয়: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বৃহস্পতিবার থেকে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর সাড়ে ৭ লাখ ডলার বিনিয়োগ পেয়েছে বাংলাদেশি স্ট্যানফোর্ড গ্র্যাজুয়েটের এআই স্টার্টআপ বাকি প্রায় ১১ মাস, এখনই ২০২৭ বিশ্বকাপের টিকিটের আবেদন ১২ কোটি পার! নতুন কেনা অ্যান্ড্রয়েড ফোনে থাকতে পারে ভাইরাস, করতে পারে যেসব ক্ষতি সাব্বির-আফিফকে নিয়ে রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপে বাংলাদেশের প্রাথমিক দল

সেকেন্ডে শরীর ভেদ করে যায় ১০০ ট্রিলিয়ন কণা, ‘গোস্ট পার্টিকেল’ নিউট্রিনো গবেষণায় এবারের নোবেল

মামুন হোসেন
  • প্রকাশের সময় : ১১:৩২:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • / 7
সেকেন্ডে শরীর ভেদ করে যায় ১০০ ট্রিলিয়ন কণা, ‘গোস্ট পার্টিকেল’ নিউট্রিনো গবেষণায় এবারের নোবেল

মহাকাশ থেকে আসা অতি ক্ষীণ ও রহস্যময় কণা নিউট্রিনো শনাক্তের জন্য বিশাল পর্যবেক্ষণাগার তৈরির পথ দেখিয়ে পদার্থবিজ্ঞানে এ বছর নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন বেলজিয়ামের পদার্থবিদ অধ্যাপক ফ্রান্সিস হ্যালজেন।

প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও মূল বৈশিষ্ট্য

অ্যান্টার্কটিকার দক্ষিণ মেরুতে এক ঘনকিলোমিটার বরফের মধ্যে হাজার হাজার আলোকসংবেদী সেন্সর বসিয়ে ‘আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি’ গড়ে তোলার নেতৃত্ব দেন তিনি। রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস বলেছে, আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরির ক্ষেত্রে তার বৈজ্ঞানিক দূরদৃষ্টি ও নেতৃত্ব ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিবিসির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

১৯৮৮ সালে দক্ষিণ মেরুতে নিউট্রিনো শনাক্তের এই পর্যবেক্ষণাগার তৈরির ধারণা প্রথম উপস্থাপন করেছিলেন হ্যালজেন। পরে তার নেতৃত্বে অ্যান্টার্কটিকার প্রায় এক কিলোমিটার ঘন বরফের মধ্যে দীর্ঘ তারের সঙ্গে হাজার হাজার সেন্সর স্থাপন করা হয়।

নিউট্রিনোকে বলা হয় ‘গোস্ট পার্টিকেল বা ভুতুড়ে কণা’। কারণ এগুলো এতটাই দুর্বলভাবে অন্য পদার্থের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে যে শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। সূর্য থেকে প্রতি সেকেন্ডে বিপুলসংখ্যক নিউট্রিনো পৃথিবীতে আসে। এমনকি মানুষের শরীরের মধ্য দিয়েও প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১০০ ট্রিলিয়ন নিউট্রিনো চলে যায়, অথচ প্রায় কোনো নিউট্রিনোই শরীরের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে না।

ব্যবহারকারীদের সুবিধা ও সামগ্রিক প্রভাব

তবে আইসকিউবের লক্ষ্য সাধারণ নিউট্রিনো নয়। দূরবর্তী ছায়াপথে সুপারনোভা বিস্ফোরণের মতো ভয়াবহ ও উচ্চশক্তির মহাজাগতিক প্রক্রিয়ায় তৈরি নিউট্রিনো শনাক্ত করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। বিজ্ঞানীদের কাছে এসব নিউট্রিনো যেন মহাবিশ্বের দূরবর্তী ও চরম ঘটনাগুলোর বার্তাবাহক।

নিউট্রিনো সাধারণত বরফের মধ্য দিয়ে সরাসরি চলে যায়। তবে খুবই বিরল ক্ষেত্রে কোনো নিউট্রিনো বরফের পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। তখন দ্রুতগতির চার্জযুক্ত কণা তৈরি হয়, যা বরফের মধ্যে নীল আলোর ক্ষীণ ঝলক সৃষ্টি করে। আইসকিউবের সংবেদনশীল সেন্সর সেই আলো শনাক্ত করে। আলোটি কখন এবং কোন দিকে তৈরি হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা নিউট্রিনোটি কোথা থেকে এসেছে তা অনুমান করতে পারেন।

নোবেল পদার্থবিজ্ঞান পুরস্কার কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মার্ক পিয়ার্স বলেছেন, হ্যালজেনের অধ্যবসায় ও বৈজ্ঞানিক দূরদৃষ্টি নতুন ধরনের জ্যোতির্বিজ্ঞানের পথ তৈরি করেছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

সেকেন্ডে শরীর ভেদ করে যায় ১০০ ট্রিলিয়ন কণা, ‘গোস্ট পার্টিকেল’ নিউট্রিনো গবেষণায় এবারের নোবেল

প্রকাশের সময় : ১১:৩২:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

মহাকাশ থেকে আসা অতি ক্ষীণ ও রহস্যময় কণা নিউট্রিনো শনাক্তের জন্য বিশাল পর্যবেক্ষণাগার তৈরির পথ দেখিয়ে পদার্থবিজ্ঞানে এ বছর নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন বেলজিয়ামের পদার্থবিদ অধ্যাপক ফ্রান্সিস হ্যালজেন।

প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও মূল বৈশিষ্ট্য

অ্যান্টার্কটিকার দক্ষিণ মেরুতে এক ঘনকিলোমিটার বরফের মধ্যে হাজার হাজার আলোকসংবেদী সেন্সর বসিয়ে ‘আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি’ গড়ে তোলার নেতৃত্ব দেন তিনি। রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস বলেছে, আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরির ক্ষেত্রে তার বৈজ্ঞানিক দূরদৃষ্টি ও নেতৃত্ব ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিবিসির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

১৯৮৮ সালে দক্ষিণ মেরুতে নিউট্রিনো শনাক্তের এই পর্যবেক্ষণাগার তৈরির ধারণা প্রথম উপস্থাপন করেছিলেন হ্যালজেন। পরে তার নেতৃত্বে অ্যান্টার্কটিকার প্রায় এক কিলোমিটার ঘন বরফের মধ্যে দীর্ঘ তারের সঙ্গে হাজার হাজার সেন্সর স্থাপন করা হয়।

নিউট্রিনোকে বলা হয় ‘গোস্ট পার্টিকেল বা ভুতুড়ে কণা’। কারণ এগুলো এতটাই দুর্বলভাবে অন্য পদার্থের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে যে শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। সূর্য থেকে প্রতি সেকেন্ডে বিপুলসংখ্যক নিউট্রিনো পৃথিবীতে আসে। এমনকি মানুষের শরীরের মধ্য দিয়েও প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১০০ ট্রিলিয়ন নিউট্রিনো চলে যায়, অথচ প্রায় কোনো নিউট্রিনোই শরীরের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে না।

ব্যবহারকারীদের সুবিধা ও সামগ্রিক প্রভাব

তবে আইসকিউবের লক্ষ্য সাধারণ নিউট্রিনো নয়। দূরবর্তী ছায়াপথে সুপারনোভা বিস্ফোরণের মতো ভয়াবহ ও উচ্চশক্তির মহাজাগতিক প্রক্রিয়ায় তৈরি নিউট্রিনো শনাক্ত করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। বিজ্ঞানীদের কাছে এসব নিউট্রিনো যেন মহাবিশ্বের দূরবর্তী ও চরম ঘটনাগুলোর বার্তাবাহক।

নিউট্রিনো সাধারণত বরফের মধ্য দিয়ে সরাসরি চলে যায়। তবে খুবই বিরল ক্ষেত্রে কোনো নিউট্রিনো বরফের পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। তখন দ্রুতগতির চার্জযুক্ত কণা তৈরি হয়, যা বরফের মধ্যে নীল আলোর ক্ষীণ ঝলক সৃষ্টি করে। আইসকিউবের সংবেদনশীল সেন্সর সেই আলো শনাক্ত করে। আলোটি কখন এবং কোন দিকে তৈরি হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা নিউট্রিনোটি কোথা থেকে এসেছে তা অনুমান করতে পারেন।

নোবেল পদার্থবিজ্ঞান পুরস্কার কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মার্ক পিয়ার্স বলেছেন, হ্যালজেনের অধ্যবসায় ও বৈজ্ঞানিক দূরদৃষ্টি নতুন ধরনের জ্যোতির্বিজ্ঞানের পথ তৈরি করেছে।