বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:

যার সঙ্গে সংঘর্ষে ফুটবলারের মৃত্যু, কেমন আছেন সেই গোলরক্ষক?

স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৩১:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • / 6
যার সঙ্গে সংঘর্ষে ফুটবলারের মৃত্যু, কেমন আছেন সেই গোলরক্ষক?

মাঠের একটি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন প্রতিপক্ষের ফুটবলার। সেই ঘটনার পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন গোলরক্ষক হেসুস ওওনো। ড্রেসিংরুমে কেঁদেছেন, প্রার্থনা করেছেন আহত ফুটবলারের সুস্থতার জন্য। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি তেনেরিফের স্ট্রাইকার হেসুস দে মিগেলকে। এর মধ্যে মাঠে দর্শকদের কাছ থেকে ‘খুনি’ গালি শুনতে হয়েছে ওওনোকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে গালাগাল ও হুমকি। এমন পরিস্থিতিতে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছেন এফসি আন্দোরার এই গোলরক্ষক।

খেলার মাঠের প্রেক্ষাপট ও মূল মুহূর্ত

সোমবার রাতে স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ম্যাচে তেনেরিফের মুখোমুখি হয়েছিল এফসি আন্দোরা। ম্যাচের যোগ করা সময়ে বল বিপদমুক্ত করতে নিজেদের গোলপোস্ট ছেড়ে অনেকটা সামনে এগিয়ে আসেন আন্দোরার গোলরক্ষক ওওনো। একই বলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তেনেরিফের ফরোয়ার্ড দে মিগেল। দুই ফুটবলারের মধ্যে সংঘর্ষ হলে ওওনোর হাঁটু আঘাত করে দে মিগেলের বুকে।

আঘাত পাওয়ার পর মাঠেই লুটিয়ে পড়েন ৩০ বছর বয়সী এই ফুটবলার। দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হলেও তার অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরে হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার সকালে মারা যান দে মিগেল।

এই ঘটনায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেছিলেন ওওনো। ম্যাচটিও আর শেষ করা হয়নি। তবে মাঠে সংঘর্ষের ঘটনাটি যে এমন মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে আনবে, তা কল্পনাও করেননি নিরক্ষীয় গিনির জাতীয় দলের এই গোলরক্ষক। ঘটনার পর থেকেই ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি।

ম্যাচের বিশ্লেষণ ও পরবর্তী প্রতিক্রিয়া

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস জানিয়েছে, ম্যাচের পর ড্রেসিংরুমে ওওনোকে কাঁদতে ও প্রার্থনা করতে দেখা যায়। দলের সঙ্গে ফেরার পথেও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন ২৫ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক।

স্প্যানিশ রেডিও স্টেশন ‘কাদেনা কোপের’ অনুষ্ঠান ‘এল পার্তিদাসো দে কোপে’-তে সাংবাদিক ইভান আলভারেস জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে পুরো আন্দোরা দলেই গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

ক্লাবের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রতিপক্ষকে আঘাত করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না ওওনোর। বলের দখল নিতে গিয়ে সময়ের ভুল হিসাবের কারণে এমন সংঘর্ষ হয়েছে, যার পরিণতি অত্যন্ত মর্মান্তিক।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

যার সঙ্গে সংঘর্ষে ফুটবলারের মৃত্যু, কেমন আছেন সেই গোলরক্ষক?

প্রকাশের সময় : ০৯:৩১:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

মাঠের একটি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন প্রতিপক্ষের ফুটবলার। সেই ঘটনার পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন গোলরক্ষক হেসুস ওওনো। ড্রেসিংরুমে কেঁদেছেন, প্রার্থনা করেছেন আহত ফুটবলারের সুস্থতার জন্য। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি তেনেরিফের স্ট্রাইকার হেসুস দে মিগেলকে। এর মধ্যে মাঠে দর্শকদের কাছ থেকে ‘খুনি’ গালি শুনতে হয়েছে ওওনোকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে গালাগাল ও হুমকি। এমন পরিস্থিতিতে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছেন এফসি আন্দোরার এই গোলরক্ষক।

খেলার মাঠের প্রেক্ষাপট ও মূল মুহূর্ত

সোমবার রাতে স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ম্যাচে তেনেরিফের মুখোমুখি হয়েছিল এফসি আন্দোরা। ম্যাচের যোগ করা সময়ে বল বিপদমুক্ত করতে নিজেদের গোলপোস্ট ছেড়ে অনেকটা সামনে এগিয়ে আসেন আন্দোরার গোলরক্ষক ওওনো। একই বলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তেনেরিফের ফরোয়ার্ড দে মিগেল। দুই ফুটবলারের মধ্যে সংঘর্ষ হলে ওওনোর হাঁটু আঘাত করে দে মিগেলের বুকে।

আঘাত পাওয়ার পর মাঠেই লুটিয়ে পড়েন ৩০ বছর বয়সী এই ফুটবলার। দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হলেও তার অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরে হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার সকালে মারা যান দে মিগেল।

এই ঘটনায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেছিলেন ওওনো। ম্যাচটিও আর শেষ করা হয়নি। তবে মাঠে সংঘর্ষের ঘটনাটি যে এমন মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে আনবে, তা কল্পনাও করেননি নিরক্ষীয় গিনির জাতীয় দলের এই গোলরক্ষক। ঘটনার পর থেকেই ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি।

ম্যাচের বিশ্লেষণ ও পরবর্তী প্রতিক্রিয়া

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস জানিয়েছে, ম্যাচের পর ড্রেসিংরুমে ওওনোকে কাঁদতে ও প্রার্থনা করতে দেখা যায়। দলের সঙ্গে ফেরার পথেও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন ২৫ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক।

স্প্যানিশ রেডিও স্টেশন ‘কাদেনা কোপের’ অনুষ্ঠান ‘এল পার্তিদাসো দে কোপে’-তে সাংবাদিক ইভান আলভারেস জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে পুরো আন্দোরা দলেই গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

ক্লাবের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রতিপক্ষকে আঘাত করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না ওওনোর। বলের দখল নিতে গিয়ে সময়ের ভুল হিসাবের কারণে এমন সংঘর্ষ হয়েছে, যার পরিণতি অত্যন্ত মর্মান্তিক।