আমি বাবা-মা ও দাদা-দাদির কথা ভাবছিলাম: সঞ্জয়

- প্রকাশের সময় : ০৯:১৫:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
- / 8

মাসের পর মাস প্রস্তুতি, অসংখ্য মহড়া ও একরাশ স্বপ্ন নিয়ে সঞ্জয় দেব অপেক্ষা করেছিলেন এই মুহূর্তের জন্য। অবশেষে যখন গানের বেজ ড্রপ করল, তখন তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল মঞ্চে। ব্যক্তিগত জেট ভ্রমণ ও উদযাপনের ভ্লগগুলোর পেছনে লুকিয়ে ছিল নিরন্তর পরিশ্রম, ত্যাগ আর অনেক প্রত্যাশা। অথচ যার জন্য এত আয়োজন, সেই মুহূর্তটি যেন এলো আর এক নিমেষেই চলে গেল।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও মূল তথ্য
ফোনে দ্য ডেইলি স্টারকে সঞ্জয় দেব বলেন, ‘সত্যি বলতে, সবকিছু যেন মুহূর্তের মধ্যে ঘটে গেছে। আমি এখনো তার রেশ বুঝতে পারছি।’
তার ভাষ্য, ‘এই পোশাক তৈরি, মহড়া, প্রস্তুতি ও এই মুহূর্তের স্বপ্ন দেখা—এসবের পেছনে আমরা অনেক সময় দিয়েছি। তারপর হঠাৎ করেই ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে, আর তিন মিনিটের মধ্যেই সব শেষ হয়ে গেল।’
গত শুক্রবার বিকেলে কানাডার টরেন্টোর বিএমও স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত গায়ক, সংগীত পরিচালক ও ডিজে সঞ্জয় দেব একটি ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক মুহূর্তের অংশ হন। তিনি বলিউড তারকা নোরা ফাতেহি ও ফরাসি হিপহপ তারকা ভেজেড্রিমের সঙ্গে ‘সির সির’ গানটি পরিবেশন করেন। এটি এবারের ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল সাউন্ডট্র্যাক অ্যালবামের অন্যতম একটি গান। বিশ্বের কোটি কোটি দর্শকের সামনে এটি পরিবেশনা করেন সঞ্জয়।
দর্শকদের প্রতিক্রিয়া ও সামগ্রিক আলোচনা
স্টেডিয়ামের উচ্ছ্বাস ও আতশবাজির ঝলকানির মধ্যেও তার পরিবেশনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল নিজের শিকড়কে তুলে ধরা। সঞ্জয়ের গায়ে ছিল গাঢ় মেরুন রঙের একটি জ্যাকেট। জ্যাকেটের হাতায় সূক্ষ্ম কারুকাজে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল রয়েল বেঙ্গল টাইগার, শাপলা ফুল ও বাংলাদেশের পতাকার লাল সূর্য।
তিনি যখনই জ্যাকেটের হাতার দিকে ইঙ্গিত করছিলেন, তখন কেবল ওই নকশা দেখাচ্ছিলেন না, বরং বিশ্বমঞ্চে নিজের বাংলাদেশি পরিচয়ও তুলে ধরছিলেন।
সঞ্জয় দেব বলেন, ‘আমি বাবা-মায়ের কথা ভাবছিলাম। আমার দাদির কথা ভাবছিলাম। আমার দাদুর কথাও মনে পড়ছিল, তিনি এখন আর আমাদের মধ্যে নেই। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, দাদু দূর থেকে আমাকে দেখছেন। আর ভাবছিলাম সেই সময়ের কথা, যখন তিনি এমন মুহূর্তের স্বপ্ন দেখতেন।’




















