বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
তিনজনের যাবজ্জীবন, দুজনের সাত বছরের কারাদণ্ড

রায়হান হত্যা মামলায় এসআই আকবরের মৃত্যুদণ্ড

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : ০৫:৩৫:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / 10

সিলেটের বহুল আলোচিত রায়হান আহমদ হত্যা মামলায় প্রধান আসামি বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির বহিষ্কৃত ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আরও তিনজনকে যাবজ্জীবন এবং দুজনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুল মজিদ মুন্সী ১৫৭ পৃষ্ঠার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে এসআই আকবরকে এক লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মুমিনুল ইসলাম মোমিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আশেক এলাহী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি পাঁচ আসামি পলাতক রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কনস্টেবল মো. হারুন অর রশিদ, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস ও এসআই মো. হাসান উদ্দিন। হারুন অর রশিদ ও টিটু চন্দ্র দাসকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে হারুনকে আরও তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। হাসান উদ্দিনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশেক এলাহী ও আকবরের আত্মীয় সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল নোমানকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তাঁদের জরিমানা এবং অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১১ অক্টোবর রাতে সিলেট নগরীর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান আহমদকে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁর মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্ত ও তদন্ত প্রতিবেদনে তাঁর শরীরে ৯৭টি আঘাতের চিহ্ন এবং হাত-পায়ের নখ উপড়ে ফেলার প্রমাণ পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ৬১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

তিনজনের যাবজ্জীবন, দুজনের সাত বছরের কারাদণ্ড

রায়হান হত্যা মামলায় এসআই আকবরের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশের সময় : ০৫:৩৫:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

সিলেটের বহুল আলোচিত রায়হান আহমদ হত্যা মামলায় প্রধান আসামি বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির বহিষ্কৃত ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আরও তিনজনকে যাবজ্জীবন এবং দুজনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুল মজিদ মুন্সী ১৫৭ পৃষ্ঠার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে এসআই আকবরকে এক লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মুমিনুল ইসলাম মোমিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আশেক এলাহী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি পাঁচ আসামি পলাতক রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কনস্টেবল মো. হারুন অর রশিদ, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস ও এসআই মো. হাসান উদ্দিন। হারুন অর রশিদ ও টিটু চন্দ্র দাসকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে হারুনকে আরও তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। হাসান উদ্দিনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশেক এলাহী ও আকবরের আত্মীয় সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল নোমানকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তাঁদের জরিমানা এবং অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১১ অক্টোবর রাতে সিলেট নগরীর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান আহমদকে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁর মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্ত ও তদন্ত প্রতিবেদনে তাঁর শরীরে ৯৭টি আঘাতের চিহ্ন এবং হাত-পায়ের নখ উপড়ে ফেলার প্রমাণ পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ৬১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।