বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot

জামায়াত এমপি মাসুদ সাঈদীর ‘হালাল’ পর্যটনকেন্দ্রের নির্মাণকাজ বন্ধ করল প্রশাসন

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৫০:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / 34

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগে ‘ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’ নামে একটি পর্যটন প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। দেশের প্রথম শরিয়াহসম্মত বা ‘হালাল’ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে প্রচারিত প্রকল্পটির তত্ত্বাবধানে রয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে নির্মাণস্থলে নিষেধাজ্ঞার ব্যানার টাঙিয়ে কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

প্রশাসনের টাঙানো ব্যানারে বলা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া স্থাপনা নির্মাণ করায় এর কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রয়াত জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকল্পটির প্রচার করেছেন। তাঁর প্রচার অনুযায়ী, সমুদ্রের ধারে ১৫ তলাবিশিষ্ট একটি পাঁচতারকা হোটেল ও রিসোর্ট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে কটেজ, সুইমিং পুল, জিম ও জামে মসজিদসহ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রাখার কথা বলা হয়েছে।

প্রকল্পটিতে সর্বনিম্ন চার লাখ টাকা বিনিয়োগ করে শেয়ার কেনার মাধ্যমে অংশীদার হওয়ার সুযোগের কথাও প্রচার করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের বছরে নির্দিষ্ট সময় বিনামূল্যে থাকার সুবিধা এবং বছর শেষে মুনাফার অংশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তবে বিনিয়োগের শর্ত, সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ ও লভ্যাংশের আইনগত ভিত্তি সম্পর্কে প্রকল্পটির ওয়েবসাইটে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক মো. ইয়াসীন সাদেক সাংবাদিকদের বলেন, প্রকল্পটির জন্য বরিশালের বিভাগীয় কমিশনারের অনুমোদন নেই। প্রচলিত আইন অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ দণ্ডনীয় অপরাধ।

বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ জানান, কুয়াকাটার মহাপরিকল্পনা এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। কুয়াকাটা হয়ে পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে মোংলা পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট প্রকল্পের একটি অংশ ওই প্রস্তাবিত রেললাইনের মধ্যে পড়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রকল্পটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকায় স্থানীয় প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশাসন বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিয়েছে।

জানা গেছে, কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী মৌজায় এসএ ২৯২ নম্বর খতিয়ানের প্রায় ২১ একর ৬৬ শতক জমি ঘিরে প্রকল্পটির কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে অন্তত ছয় একর জমির উন্নয়ন ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে।

এদিকে প্রকল্পের জমির মালিকানা নিয়েও বিরোধ রয়েছে। কলাপাড়ার হাড়িপাড়ার বাসিন্দা রাখাইন সম্প্রদায়ের উমাচ্যান জমিটির মালিকানা দাবি করে মামলা করেছেন। তাঁর দাবি, জমিটির মালিক ছিলেন তাঁর দাদা চিথাও ও নাথোও নামের আরেক ব্যক্তি। তবে মামলার বর্তমান অবস্থা এবং জমির মালিকানা নিয়ে আদালতের কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী সাংবাদিকদের বলেন, প্রকল্পের একটি অংশের অনুমোদন ছিল না। এ জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। দ্রুত অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

জামায়াত এমপি মাসুদ সাঈদীর ‘হালাল’ পর্যটনকেন্দ্রের নির্মাণকাজ বন্ধ করল প্রশাসন

প্রকাশের সময় : ০৯:৫০:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগে ‘ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’ নামে একটি পর্যটন প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। দেশের প্রথম শরিয়াহসম্মত বা ‘হালাল’ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে প্রচারিত প্রকল্পটির তত্ত্বাবধানে রয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে নির্মাণস্থলে নিষেধাজ্ঞার ব্যানার টাঙিয়ে কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

প্রশাসনের টাঙানো ব্যানারে বলা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া স্থাপনা নির্মাণ করায় এর কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রয়াত জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকল্পটির প্রচার করেছেন। তাঁর প্রচার অনুযায়ী, সমুদ্রের ধারে ১৫ তলাবিশিষ্ট একটি পাঁচতারকা হোটেল ও রিসোর্ট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে কটেজ, সুইমিং পুল, জিম ও জামে মসজিদসহ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রাখার কথা বলা হয়েছে।

প্রকল্পটিতে সর্বনিম্ন চার লাখ টাকা বিনিয়োগ করে শেয়ার কেনার মাধ্যমে অংশীদার হওয়ার সুযোগের কথাও প্রচার করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের বছরে নির্দিষ্ট সময় বিনামূল্যে থাকার সুবিধা এবং বছর শেষে মুনাফার অংশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তবে বিনিয়োগের শর্ত, সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ ও লভ্যাংশের আইনগত ভিত্তি সম্পর্কে প্রকল্পটির ওয়েবসাইটে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক মো. ইয়াসীন সাদেক সাংবাদিকদের বলেন, প্রকল্পটির জন্য বরিশালের বিভাগীয় কমিশনারের অনুমোদন নেই। প্রচলিত আইন অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ দণ্ডনীয় অপরাধ।

বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ জানান, কুয়াকাটার মহাপরিকল্পনা এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। কুয়াকাটা হয়ে পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে মোংলা পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট প্রকল্পের একটি অংশ ওই প্রস্তাবিত রেললাইনের মধ্যে পড়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রকল্পটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকায় স্থানীয় প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশাসন বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিয়েছে।

জানা গেছে, কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী মৌজায় এসএ ২৯২ নম্বর খতিয়ানের প্রায় ২১ একর ৬৬ শতক জমি ঘিরে প্রকল্পটির কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে অন্তত ছয় একর জমির উন্নয়ন ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে।

এদিকে প্রকল্পের জমির মালিকানা নিয়েও বিরোধ রয়েছে। কলাপাড়ার হাড়িপাড়ার বাসিন্দা রাখাইন সম্প্রদায়ের উমাচ্যান জমিটির মালিকানা দাবি করে মামলা করেছেন। তাঁর দাবি, জমিটির মালিক ছিলেন তাঁর দাদা চিথাও ও নাথোও নামের আরেক ব্যক্তি। তবে মামলার বর্তমান অবস্থা এবং জমির মালিকানা নিয়ে আদালতের কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী সাংবাদিকদের বলেন, প্রকল্পের একটি অংশের অনুমোদন ছিল না। এ জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। দ্রুত অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।