Dhaka ০৮:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
পত্নীতলায় ট্যাপেন্টাডলসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার নবনির্মিত কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবন উদ্বোধন গণতন্ত্রকে রক্ষা করাই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব : রাষ্ট্রপতি কালীগঞ্জে টাস্কফোর্সের অভিযানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি নিয়ে উদীচীর প্রতিবাদ কালুখালীর মাঝবাড়ী হুরুননেছা স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ তীব্র স্রোতে ১০ দিন ধরে বন্ধ নাজিরগঞ্জ-ধাওয়াপাড়া ফেরি ‘ভারতকে সম্পর্ক সহজীকরণের স্বার্থে শেখ হাসিনা-কাদেরসহ সব আসামিকে ফেরত দিতে হবে’ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৭ জনের মৃত্যু পটকা মাছ খেয়ে ব্যবসায়ীর মৃত্যু, পরিবারের আরও ৪ সদস্য অসুস্থ

ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি নিয়ে উদীচীর প্রতিবাদ

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৭:৪১:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 5

ডাকসু সংগ্রহশালা সংস্কারের নামে মুক্তিসংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আড়াল করার অপচেষ্টা এবং পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি সেখানে অন্তর্ভুক্ত করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।

সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন এক বিবৃতিতে বলেন, ইতিহাস কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা সময়ের খেয়াল-খুশির বিষয় নয়; এটি একটি জাতির দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও অর্জনের প্রামাণ্য স্মারক। ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বাদ দেওয়া বা তার চরিত্র বদলে দেওয়া নিছক সংস্কার কার্যক্রম নয়, এটি ইতিহাস বিকৃতির পরিকল্পিত উদ্যোগ।

বিবৃতিতে বলা হয়, এ ভূখণ্ডের মানুষের স্বাধিকার ও মুক্তির গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ডাকসুর নাম অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে। ষাটের দশকের শিক্ষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধসহ পরবর্তী বিভিন্ন সংগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ডাকসু ভবনেই প্রথম বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ‘অপারেশন সার্চলাইটে’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রক্তাক্ত হয়। একাত্তরের নয় মাসে অসংখ্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীর জীবন ও আত্মত্যাগ স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে মিশে আছে।

উদীচী নেতৃবৃন্দ বলেন, কার্জন হলে দাঁড়িয়ে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দেওয়া মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ডাকসু সংগ্রহশালায় স্থান দেওয়া বিশেষভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। একই সময়ে ভাষা আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ দলিল ও স্মারক বাদ দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তাঁরা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ডাকসুর সংগ্রামের ইতিহাসকে খণ্ডিত করে জিন্নাহকে সামনে আনা শহীদদের স্মৃতি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং জাতির ঐতিহাসিক সত্যের প্রতি অবমাননা। ‘ইচ্ছা হয়নি তাই রাখিনি’ ধরনের বক্তব্যও ইতিহাস ও জনগণের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ করে বলে মন্তব্য করেন তাঁরা।

বিবৃতিতে ডাকসু সংগ্রহশালা থেকে বিতর্কিতভাবে স্থাপিত জিন্নাহর ছবি অপসারণ এবং ভাষা আন্দোলন থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত গণসংগ্রামের ধারাবাহিক ও বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস যথাযথভাবে পুনঃস্থাপনের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ভাষা আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদ শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সব শহীদের আত্মত্যাগের স্মারক ও দলিল সংগ্রহশালায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়। ইতিহাস বিকৃতির সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহি নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানায় উদীচী।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একটি জাতির ইতিহাস থেকে সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের অধ্যায় মুছে ফেলার চেষ্টা তার আত্মপরিচয় দুর্বল করার অপচেষ্টা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ডাকসুর মুক্তিসংগ্রামের ঐতিহ্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়; এটি বাংলাদেশের মানুষের রক্তে অর্জিত জাতীয় উত্তরাধিকার। ইতিহাস বিকৃতির যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও নাগরিক সমাজকে সোচ্চার ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের প্রচার ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মঞ্জুর মোর্শেদ মিল্টন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি নিয়ে উদীচীর প্রতিবাদ

প্রকাশের সময় : ০৭:৪১:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডাকসু সংগ্রহশালা সংস্কারের নামে মুক্তিসংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আড়াল করার অপচেষ্টা এবং পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি সেখানে অন্তর্ভুক্ত করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।

সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন এক বিবৃতিতে বলেন, ইতিহাস কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা সময়ের খেয়াল-খুশির বিষয় নয়; এটি একটি জাতির দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও অর্জনের প্রামাণ্য স্মারক। ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বাদ দেওয়া বা তার চরিত্র বদলে দেওয়া নিছক সংস্কার কার্যক্রম নয়, এটি ইতিহাস বিকৃতির পরিকল্পিত উদ্যোগ।

বিবৃতিতে বলা হয়, এ ভূখণ্ডের মানুষের স্বাধিকার ও মুক্তির গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ডাকসুর নাম অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে। ষাটের দশকের শিক্ষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধসহ পরবর্তী বিভিন্ন সংগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ডাকসু ভবনেই প্রথম বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ‘অপারেশন সার্চলাইটে’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রক্তাক্ত হয়। একাত্তরের নয় মাসে অসংখ্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীর জীবন ও আত্মত্যাগ স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে মিশে আছে।

উদীচী নেতৃবৃন্দ বলেন, কার্জন হলে দাঁড়িয়ে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দেওয়া মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ডাকসু সংগ্রহশালায় স্থান দেওয়া বিশেষভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। একই সময়ে ভাষা আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ দলিল ও স্মারক বাদ দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তাঁরা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ডাকসুর সংগ্রামের ইতিহাসকে খণ্ডিত করে জিন্নাহকে সামনে আনা শহীদদের স্মৃতি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং জাতির ঐতিহাসিক সত্যের প্রতি অবমাননা। ‘ইচ্ছা হয়নি তাই রাখিনি’ ধরনের বক্তব্যও ইতিহাস ও জনগণের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ করে বলে মন্তব্য করেন তাঁরা।

বিবৃতিতে ডাকসু সংগ্রহশালা থেকে বিতর্কিতভাবে স্থাপিত জিন্নাহর ছবি অপসারণ এবং ভাষা আন্দোলন থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত গণসংগ্রামের ধারাবাহিক ও বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস যথাযথভাবে পুনঃস্থাপনের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ভাষা আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদ শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সব শহীদের আত্মত্যাগের স্মারক ও দলিল সংগ্রহশালায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়। ইতিহাস বিকৃতির সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহি নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানায় উদীচী।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একটি জাতির ইতিহাস থেকে সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের অধ্যায় মুছে ফেলার চেষ্টা তার আত্মপরিচয় দুর্বল করার অপচেষ্টা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ডাকসুর মুক্তিসংগ্রামের ঐতিহ্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়; এটি বাংলাদেশের মানুষের রক্তে অর্জিত জাতীয় উত্তরাধিকার। ইতিহাস বিকৃতির যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও নাগরিক সমাজকে সোচ্চার ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের প্রচার ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মঞ্জুর মোর্শেদ মিল্টন।