তীব্র স্রোতে ১০ দিন ধরে বন্ধ নাজিরগঞ্জ-ধাওয়াপাড়া ফেরি
- প্রকাশের সময় : ০৫:৪৩:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 4
পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে পাবনার নাজিরগঞ্জ ও রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া নৌরুটে টানা ১০ দিন ধরে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে এ রুটে যানবাহন পারাপার স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। এতে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের যাত্রী ও পরিবহন চালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
মঙ্গলবার সকালে পাবনার সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জ ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ঘাটে অলস পড়ে আছে একটি ফেরি। বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার না হওয়ায় ঘাটকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যও স্থবির হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী নিয়ে ছোট ট্রলার ও ইঞ্জিনচালিত নৌকায় উত্তাল পদ্মা পার হচ্ছেন অনেকে। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ‘কপোতি’ ও ‘ক্যামেলিয়া’ নামে দুটি ফেরি দিয়ে নাজিরগঞ্জ-জৌকুড়া অংশে দিনে চারবার চলাচল করা হতো। তবে ‘কপোতি’ প্রায় তিন মাস ধরে বিকল। অন্যদিকে কম সক্ষমতার ‘ক্যামেলিয়া’ তীব্র স্রোতের কারণে ঠিকমতো চলতে পারছে না। স্বাভাবিক সময়ে নদী পার হতে যেখানে ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট লাগে, সেখানে সম্প্রতি সময় লাগছিল আড়াই ঘণ্টার বেশি। এতে ইঞ্জিন অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে বিকল হওয়া ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ফেরি চলাচল বন্ধ করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন এ রুটে ২৫ থেকে ৩০টি ট্রাকসহ বহু ব্যক্তিগত যানবাহন পারাপার হয়। পাবনা ও সিরাজগঞ্জের চালকেরা সময় ও খরচ বাঁচাতে এ পথ ব্যবহার করেন। এ রুটে চলাচল করলে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরত্ব কমে যায়। ফেরি বন্ধ থাকায় এখন লালন শাহ সেতু অথবা দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাট হয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরতে হচ্ছে। এতে সময় ও জ্বালানি খরচ দুটোই বাড়ছে।
নাজিরগঞ্জ-ধাওয়াপাড়া ফেরি সার্ভিসের কর্মকর্তা এমএন আল শিবলী বলেন, কে-টাইপ ‘ক্যামেলিয়া’ ফেরিটি মাত্র ৭ থেকে ৮টি ট্রাক বহন করতে পারে। তীব্র স্রোতের কারণে বড় ফেরির চাহিদা জানানো হলে বিআইডব্লিউটিসি ১৫ থেকে ১৮টি যানবাহন বহনে সক্ষম ‘কদম’ নামের একটি ইউটিলিটি ফেরি বরাদ্দ দেয়। তবে মেরিন বিভাগের আপত্তির কারণে তা চালু করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ‘স্রোতের মধ্যে ফেরি চালাতে গেলে ইঞ্জিন অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে বিকল হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। যাত্রী ও যানবাহনের নিরাপত্তার স্বার্থেই চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। নদী শান্ত না হওয়া পর্যন্ত স্বাভাবিক চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।’
যাত্রী ও চালকদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এ নৌরুটে মানসম্মত ও শক্তিশালী ফেরি না থাকায় সামান্য দুর্যোগেই বারবার যানবাহন পারাপার বন্ধ হয়ে যায়। দ্রুত সক্ষম ফেরি দিয়ে রুটটি সচল করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।




















