জমি দখল করে নতুন মসজিদ নির্মাণের অভিযোগ, সংঘর্ষের আশঙ্কা
- প্রকাশের সময় : ০৭:১৪:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 59
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাহাগোলা ইউনিয়নের উচল কাশিমপুর গ্রামে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি দখল করে নতুন মসজিদ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তারাটিয়া মৌজার আরএস ৬২০ নম্বর খতিয়ানের সাড়ে ১৬ শতক জমি ১৯৮৯ সালে উচল কাশিমপুর জামে মসজিদের নামে হস্তান্তর করা হয়। পরে মসজিদ কমিটির সিদ্ধান্তে ১৯৯৯ সালে ওই জমি মো. বেলাল শেখের সঙ্গে এওয়াজ-বিনিময় করা হয়। এরপর বেলাল শেখ নিজের নামে জমি খারিজ করে খাজনা পরিশোধসহ প্রায় ২৬ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছেন।
চলতি বছরের ২ এপ্রিল নতুন মসজিদ কমিটি বেলালের খারিজ বাতিল চেয়ে ভূমি অফিসে মিসকেস করে। সহকারী কমিশনার (ভূমি), আত্রাই কাগজপত্র, দখল ও শুনানি পর্যালোচনা করে মিসকেসটি নামঞ্জুর করে বেলালের খারিজ বহাল রাখেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, ওই আদেশের পরদিন জালাল সরদার, সুমন শেখ ও মসজিদ কমিটির কয়েকজন সদস্য বেলালের জমিতে প্রবেশ করে গাছ কেটে নতুন মসজিদ নির্মাণ শুরু করেন। বর্তমানে সেখানে ভবনের ভিত্তি নির্মাণের কাজ চলছে।
উচল কাশিমপুর জামে মসজিদ কমিটির সাবেক সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘১৯৯৯ সালে মসজিদ কমিটির সর্বসম্মতিক্রমে মসজিদের উন্নয়নের স্বার্থে পতিত জমিটি বেলাল শেখকে দিয়ে ফসলি জমির সঙ্গে এওয়াজ করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন পর ওই জমি নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাক হোসেন বলেন, ‘বেলাল অনেক টাকা খরচ করে পতিত জমিটি ব্যবহারযোগ্য করেছেন। একই জায়গায় নতুন মসজিদ না করে পুরোনো মসজিদটি আধুনিক করা সম্ভব। আমরা তদন্তের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই।’
বেলাল শেখের ছেলে সাকিব হোসেনের অভিযোগ, ‘২০২৪ সালের আন্দোলনের পর জালাল সরদার, সুমন শেখসহ কয়েকজন মিলে তাদের সামাজিকভাবে একঘরে করে রেখেছে এবং বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে।’ তবে অভিযোগের বিষয়ে অপর পক্ষের বক্তব্যও রয়েছে।
উচল কাশিমপুর জামে মসজিদ কমিটির সাবেক সভাপতি মো. বেলাল শেখ বলেন, ‘সহকারী কমিশনার (ভূমি) একাধিক শুনানির মাধ্যমে আমাকে জমিটির বৈধ মালিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। এরপরও জোর করে জমি দখল করে মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে। জমির গাছও কেটে ফেলা হয়েছে। প্রশাসনের কাছ থেকে প্রতিকার না পেয়ে আমি আদালতের আশ্রয় নিয়েছি।’
অন্যদিকে উচল কাশিমপুর (উত্তরপাড়া) জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. জালাল সরদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘পুরোনো মসজিদের অবস্থা খুবই খারাপ এবং সেখানে যাতায়াতেরও ব্যবস্থা নেই। দীর্ঘদিন ধরে বেলাল মসজিদ কমিটি নিয়ন্ত্রণ করেছেন। মসজিদের জমির কাগজপত্র চাইলেও তিনি তা দেখাননি। আমাদের কাছে থাকা কাগজপত্র অনুযায়ী ওই জমি মসজিদের। প্রয়োজনের তাগিদেই গ্রামবাসী সেখানে নতুন মসজিদ নির্মাণ করছে।’
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘জমির কাগজপত্র অনুযায়ী বৈধ মালিক বেলাল শেখ। এরপরও কেউ তার জমি দখল করে মসজিদ নির্মাণ করলে তিনি জেলা প্রশাসকের আদালত অথবা নিয়মিত আদালতের আশ্রয় নিতে পারেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত আইনগত প্রক্রিয়ায় বিরোধের সমাধান না হলে দুই পক্ষের উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে এবং যেকোনো সময় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে।
























