Dhaka ০৬:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:

ভোলাতে গড়ে তোলা হবে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানা : সংসদে প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৫:২৫:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 4

ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডে নিতে পাইপলাইন নির্মাণে অন্তত সাত বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ কারণে মূল ভূখণ্ডে গ্যাস সরবরাহের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে ভোলাতেই শিল্প-কারখানা, সার কারখানা ও নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে মহিলা আসন-১৭-এর সদস্য সুলতানা আহমেদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে মূল ভূখণ্ডে নেওয়ার উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রায় সাত বছর সময় প্রয়োজন হবে। তাই দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য বিকল্প ব্যবস্থার দিকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। ভোলায় ব্যাপক শিল্প-কারখানা স্থাপনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন শিল্প উদ্যোক্তাও সেখানে গ্যাসভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, ভোলার গ্যাস স্থানীয়ভাবে ব্যবহার করে শিল্পায়ন করা গেলে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে এ অঞ্চলের অর্থনীতির আকারও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

ভোলার গ্যাস জাতীয় স্বার্থে ব্যবহারের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জেলায় একটি বড় সার কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি একই এলাকায় ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার নতুন একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভোলার গ্যাস সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য বিশেষ কৌশলগত উন্নয়ন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩১ মেয়াদি এ পরিকল্পনায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সুষম ও ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ভোলার স্থানীয় সম্পদ, ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, জনগণের চাহিদা, উপকূলীয় জলবায়ু ঝুঁকি ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে জেলার জন্য সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

সংসদে জানানো হয়, ভোলায় ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার নতুন একটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পাশাপাশি ভেদুরিয়া ও ইলিশা গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এলএনজিতে রূপান্তর করে লাইটারেজ অপারেশনের মাধ্যমে খুলনার বিদ্যুৎ হাবে সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ভোলার গ্যাসের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাও আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি আরও বলেন, সমুদ্র ও উপকূলীয় সম্পদকে জাতীয় অর্থনীতিতে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে ভোলা ও এর আশপাশের দ্বীপগুলোকে ব্লু ইকোনমির কেন্দ্রীয় অঞ্চলের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এই অঞ্চলে ইলিশ ও অন্যান্য মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, চরাঞ্চলে সমন্বিত কৃষির উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং নৌ-নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ভোলার গ্যাস, উর্বর কৃষিজমি, উপকূলীয় মৎস্যসম্পদ ও ভৌগোলিক অবস্থান কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা গেলে দ্বীপ জেলা ভোলার অর্থনীতি ও সামগ্রিক উন্নয়নে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ভোলাতে গড়ে তোলা হবে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানা : সংসদে প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৫:২৫:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডে নিতে পাইপলাইন নির্মাণে অন্তত সাত বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ কারণে মূল ভূখণ্ডে গ্যাস সরবরাহের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে ভোলাতেই শিল্প-কারখানা, সার কারখানা ও নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে মহিলা আসন-১৭-এর সদস্য সুলতানা আহমেদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে মূল ভূখণ্ডে নেওয়ার উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রায় সাত বছর সময় প্রয়োজন হবে। তাই দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য বিকল্প ব্যবস্থার দিকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। ভোলায় ব্যাপক শিল্প-কারখানা স্থাপনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন শিল্প উদ্যোক্তাও সেখানে গ্যাসভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, ভোলার গ্যাস স্থানীয়ভাবে ব্যবহার করে শিল্পায়ন করা গেলে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে এ অঞ্চলের অর্থনীতির আকারও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

ভোলার গ্যাস জাতীয় স্বার্থে ব্যবহারের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জেলায় একটি বড় সার কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি একই এলাকায় ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার নতুন একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভোলার গ্যাস সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য বিশেষ কৌশলগত উন্নয়ন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩১ মেয়াদি এ পরিকল্পনায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সুষম ও ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ভোলার স্থানীয় সম্পদ, ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, জনগণের চাহিদা, উপকূলীয় জলবায়ু ঝুঁকি ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে জেলার জন্য সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

সংসদে জানানো হয়, ভোলায় ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার নতুন একটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পাশাপাশি ভেদুরিয়া ও ইলিশা গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এলএনজিতে রূপান্তর করে লাইটারেজ অপারেশনের মাধ্যমে খুলনার বিদ্যুৎ হাবে সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ভোলার গ্যাসের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাও আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি আরও বলেন, সমুদ্র ও উপকূলীয় সম্পদকে জাতীয় অর্থনীতিতে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে ভোলা ও এর আশপাশের দ্বীপগুলোকে ব্লু ইকোনমির কেন্দ্রীয় অঞ্চলের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এই অঞ্চলে ইলিশ ও অন্যান্য মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, চরাঞ্চলে সমন্বিত কৃষির উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং নৌ-নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ভোলার গ্যাস, উর্বর কৃষিজমি, উপকূলীয় মৎস্যসম্পদ ও ভৌগোলিক অবস্থান কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা গেলে দ্বীপ জেলা ভোলার অর্থনীতি ও সামগ্রিক উন্নয়নে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।