Dhaka ১১:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
যুদ্ধের খরচ জোগাতে পর্নোগ্রাফিকে বৈধ করার কথা ভাবছে ইউক্রেন জাবিতে মাঠ সংস্কারের কাজ শেষের আগেই টাকা উত্তোলনের অভিযোগ আমরা জাতীয় পার্টির মতো পোষা বিরোধী দল হবো না: সারজিস অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল জব্বার ভূঞাসহ পাঁচ আইন কর্মকর্তার পদত্যাগ ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, কালুখালীর প্রশাসনিক কর্মকর্তা বদলি কাজে-কর্মে স্মরণীয় ইউএনও মুস্তাফিজুর, বিদায়ে আবেগঘন পরিবেশ কালীগঞ্জে প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় ক্লিনিক সিলগালা, জরিমানা ১ লাখ নিয়ন্ত্রণে আসছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, শনাক্তে থাকবে কিউআর কোড: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাংশায় ইসলামী চক্ষু হাসপাতালের নতুন ভিশন সেন্টার উদ্বোধন এক উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদের ভোট একসঙ্গে

যুদ্ধের খরচ জোগাতে পর্নোগ্রাফিকে বৈধ করার কথা ভাবছে ইউক্রেন

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১০:২২:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 1

রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে সামরিক ব্যয় মেটাতে নতুন আয়ের উৎস খুঁজছে কিয়েভ। এরই অংশ হিসেবে দেশটি পর্নোগ্রাফিকে আইনি কাঠামোর আওতায় এনে বিপুল পরিমাণ কর আদায়ের পরিকল্পনা করছে ইউক্রেন সরকার।

আমেরিকান সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ইউক্রেনের পার্লামেন্টের অর্থবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ইয়ারোস্লাভ জেলেজনিয়াকের সমর্থিত একটি বিলে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, এই খাতকে বৈধ অর্থনীতিতে যুক্ত করা গেলে প্রায় আড়াই কোটি ডলার সমপরিমাণ কর রাজস্ব আয় হতে পারে। এই অর্থ দিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য অন্তত ৩০ হাজার ড্রোন কেনা সম্ভব হবে বলে তিনি ধারণা করছেন।

বর্তমানে ইউক্রেনে পর্নোগ্রাফি তৈরি, সংরক্ষণ বা বিতরণ সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এর শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

আইন বহির্ভূত হওয়া সত্ত্বেও দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তাদের সহায়তায় পর্নোগ্রাফি পর্দার আড়ালে প্রসারিত হয়েছে।

প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় সম্প্রতি তিনটি অঞ্চলে এমন ঘটনা উন্মোচন করেছে যেখানে কর্মকর্তারা ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত ঘুষ নিয়েছেন।

ইউক্রেনের কর কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায়ের উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু যারা নিজেদের আয় ঘোষণা করছেন, তারা উল্টো পর্নোগ্রাফি আইনের আওতায় অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছেন।

ইউক্রেনের অর্থনীতিবিদ জেলেজনিয়াক একে একটি হাস্যকর ও করুণ পরিস্থিতি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তার মতে, নারীরা কর না দিলে ফৌজদারি মামলার মুখে পড়েন, আবার কর দিলে পর্নোগ্রাফি আইন লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত হন।

ফিনিক্স ইন্টারন্যাশনাল এর তথ্যমতে, ২০২৩ সালে জনপ্রিয় ইন্টারনেট কনটেন্ট সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক সেবা ‘অনলিফ্যানস’ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ৭ হাজার ৯০০ জন ইউক্রেনীয় নাগরিক ১৩ কোটিরও বেশি ডলার আয় করেছেন। কিন্তু আয় ঘোষণার কারণে অনেককে কর ফাঁকি এবং অবৈধ কনটেন্ট তৈরির অভিযোগে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

শ্বেতলানা দভোর্নিকোভা নামের এক কনটেন্ট নির্মাতা জানান, ‘একদিন সকালে পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ল্যাপটপ, হার্ডড্রাইভ এবং নগদ ২০ হাজার ডলার জব্দ করে। পুলিশ তাকে ঘুষ দিয়ে মামলাটি ধামাচাপা দেওয়ার প্রস্তাব দিলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।’

এই আইনি অনিশ্চয়তা ও হয়রানির কারণে শ্বেতলানা দভোর্নিকোভাসহ বেশ কয়েকজন পর্নোগ্রাফি কনটেন্ট নির্মাতা বাধ্য হয়ে ইউরোপের অন্য দেশে পাড়ি জমিয়েছেন।

শতাধিক পর্নোগ্রাফি কনটেন্ট নির্মাতার আইনজীবী লেসিয়া মিখালেঙ্কো জানান, ‘যুদ্ধকালীন সময়ে এসব ভিত্তিহীন অপরাধের পেছনে সময় দেওয়া সরকারের সম্পদের অপচয় মাত্র।’

নিজেকে ‘সচেতন করদাতা’ হিসেবে উল্লেখ করে ভর্নিকোভা যুক্তি দেন, প্রায় ৯ লাখ ডলার কর দেওয়ার পর তাকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয় সরকারের। তিনি দাবি করেন, এই পরিমাণ অর্থ ‘রণাঙ্গনে শত শত রুশ সেনাকে হত্যার’ সমতুল্য।

ভর্নিকোভার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের হওয়ার পর তিনি একটি পিটিশন দাখিল করেন, যা পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়।

মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে পিটিশনটিতে ২৫ হাজারের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, পার্লামেন্ট জেলেজনিয়াকের প্রস্তাবটি বিবেচনা করবে।

গত জুলাই মাসে ইউক্রেনের পার্লামেন্টে বিলটি প্রথম ধাপে পাস হয়েছে এবং বর্তমানে এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

যুদ্ধের খরচ জোগাতে পর্নোগ্রাফিকে বৈধ করার কথা ভাবছে ইউক্রেন

প্রকাশের সময় : ১০:২২:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে সামরিক ব্যয় মেটাতে নতুন আয়ের উৎস খুঁজছে কিয়েভ। এরই অংশ হিসেবে দেশটি পর্নোগ্রাফিকে আইনি কাঠামোর আওতায় এনে বিপুল পরিমাণ কর আদায়ের পরিকল্পনা করছে ইউক্রেন সরকার।

আমেরিকান সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ইউক্রেনের পার্লামেন্টের অর্থবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ইয়ারোস্লাভ জেলেজনিয়াকের সমর্থিত একটি বিলে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, এই খাতকে বৈধ অর্থনীতিতে যুক্ত করা গেলে প্রায় আড়াই কোটি ডলার সমপরিমাণ কর রাজস্ব আয় হতে পারে। এই অর্থ দিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য অন্তত ৩০ হাজার ড্রোন কেনা সম্ভব হবে বলে তিনি ধারণা করছেন।

বর্তমানে ইউক্রেনে পর্নোগ্রাফি তৈরি, সংরক্ষণ বা বিতরণ সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এর শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

আইন বহির্ভূত হওয়া সত্ত্বেও দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তাদের সহায়তায় পর্নোগ্রাফি পর্দার আড়ালে প্রসারিত হয়েছে।

প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় সম্প্রতি তিনটি অঞ্চলে এমন ঘটনা উন্মোচন করেছে যেখানে কর্মকর্তারা ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত ঘুষ নিয়েছেন।

ইউক্রেনের কর কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায়ের উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু যারা নিজেদের আয় ঘোষণা করছেন, তারা উল্টো পর্নোগ্রাফি আইনের আওতায় অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছেন।

ইউক্রেনের অর্থনীতিবিদ জেলেজনিয়াক একে একটি হাস্যকর ও করুণ পরিস্থিতি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তার মতে, নারীরা কর না দিলে ফৌজদারি মামলার মুখে পড়েন, আবার কর দিলে পর্নোগ্রাফি আইন লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত হন।

ফিনিক্স ইন্টারন্যাশনাল এর তথ্যমতে, ২০২৩ সালে জনপ্রিয় ইন্টারনেট কনটেন্ট সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক সেবা ‘অনলিফ্যানস’ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ৭ হাজার ৯০০ জন ইউক্রেনীয় নাগরিক ১৩ কোটিরও বেশি ডলার আয় করেছেন। কিন্তু আয় ঘোষণার কারণে অনেককে কর ফাঁকি এবং অবৈধ কনটেন্ট তৈরির অভিযোগে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

শ্বেতলানা দভোর্নিকোভা নামের এক কনটেন্ট নির্মাতা জানান, ‘একদিন সকালে পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ল্যাপটপ, হার্ডড্রাইভ এবং নগদ ২০ হাজার ডলার জব্দ করে। পুলিশ তাকে ঘুষ দিয়ে মামলাটি ধামাচাপা দেওয়ার প্রস্তাব দিলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।’

এই আইনি অনিশ্চয়তা ও হয়রানির কারণে শ্বেতলানা দভোর্নিকোভাসহ বেশ কয়েকজন পর্নোগ্রাফি কনটেন্ট নির্মাতা বাধ্য হয়ে ইউরোপের অন্য দেশে পাড়ি জমিয়েছেন।

শতাধিক পর্নোগ্রাফি কনটেন্ট নির্মাতার আইনজীবী লেসিয়া মিখালেঙ্কো জানান, ‘যুদ্ধকালীন সময়ে এসব ভিত্তিহীন অপরাধের পেছনে সময় দেওয়া সরকারের সম্পদের অপচয় মাত্র।’

নিজেকে ‘সচেতন করদাতা’ হিসেবে উল্লেখ করে ভর্নিকোভা যুক্তি দেন, প্রায় ৯ লাখ ডলার কর দেওয়ার পর তাকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয় সরকারের। তিনি দাবি করেন, এই পরিমাণ অর্থ ‘রণাঙ্গনে শত শত রুশ সেনাকে হত্যার’ সমতুল্য।

ভর্নিকোভার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের হওয়ার পর তিনি একটি পিটিশন দাখিল করেন, যা পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়।

মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে পিটিশনটিতে ২৫ হাজারের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, পার্লামেন্ট জেলেজনিয়াকের প্রস্তাবটি বিবেচনা করবে।

গত জুলাই মাসে ইউক্রেনের পার্লামেন্টে বিলটি প্রথম ধাপে পাস হয়েছে এবং বর্তমানে এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।