Dhaka ০৩:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
বিদ্যুৎ বিল নিয়ে মন্তব্যের জেরে গ্রেপ্তার সিফাত আব্দুল্লাহর জামিন নামঞ্জুর মান্দায় ট্যাপেন্টাডলসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে প্রবেশের চেষ্টা, সেই যুবক রিমান্ডে চলতি সপ্তাহেই ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের তফসিল গুমের নতুন আইনে বিচারিক পরিধি বাড়ল উদ্যোক্তা তৈরি করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই সরকারের মূল লক্ষ্য: অর্থমন্ত্রী স্থানীয় নির্বাচনে বাদ পড়ল পোস্টার, বিলবোর্ডে অনুমতি এসআই আলতাফ হত্যাকাণ্ডকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলছে র‍্যাব আগস্টে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৮১ জন নিহত: রোড সেফটি ফাউন্ডেশন প্রতিশোধ-সংঘাতের রাজনীতি আর দেখতে চাই না: রাষ্ট্রপতি

গুমের নতুন আইনে বিচারিক পরিধি বাড়ল

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০২:১৬:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 2

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন পাসের ফলে গুমের ঘটনায় বিচার পাওয়ার সুযোগ আরও বিস্তৃত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। নতুন আইনে গুমের স্পষ্ট সংজ্ঞা থাকায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জন্য ন্যায়বিচারের নতুন দ্বার খুলেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার বা আটক করে তার অবস্থান গোপন করলে, অজ্ঞাত স্থানে রাখলে কিংবা আইনের সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করলে তা গুম হিসেবে গণ্য হবে। তবে কোনো গুমের ঘটনা ব্যাপক বা পদ্ধতিগত হলে সেটি মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এর বিচার হবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এর আগে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিষয়ে অধ্যাদেশ থাকলেও তার কার্যকর প্রয়োগ দেখা যায়নি। ওই আইনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও তখন কমিশন কার্যকরভাবে কাজ করতে পারেনি।

নতুন আইনের ৩৩ ধারার বিষয়ে তিনি বলেন, গুমের কোনো মামলা এরই মধ্যে ট্রাইব্যুনালে চলমান থাকলে তার বিচার সেখানেই হবে। সেশন কোর্ট বা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চলমান কোনো মামলায় ঘটনা ব্যাপক বা পদ্ধতিগত মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে প্রতীয়মান হলে সেটিও ট্রাইব্যুনালে পাঠানো যাবে।

পুলিশি তদন্তের যেকোনো পর্যায়ে কোনো ঘটনাকে ব্যাপক ও পদ্ধতিগত মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হলে তা ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা বা চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ও অন্য আদালতে চলমান এমন মামলা ট্রাইব্যুনালে এনে বিচারের উদ্যোগ নিতে পারবে।

তিনি জানান, ট্রাইব্যুনালে ইতোমধ্যে জমা পড়া ও তদন্তাধীন গুমের অভিযোগগুলো নতুন আইনের আলোকে পর্যায়ক্রমে পর্যালোচনা করা হবে। যেসব ঘটনা জোরপূর্বক গুম বা ব্যাপক ও পদ্ধতিগত অপরাধের সংজ্ঞার মধ্যে পড়বে, সেগুলোর বিচার ট্রাইব্যুনালে হবে। অন্য ঘটনাগুলো স্বতন্ত্র গুমের অপরাধ হিসেবে সংশ্লিষ্ট আদালতে যাবে।

বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি ও ক্ষতিপূরণের বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, আইন ও বিচারপ্রক্রিয়ার বিধিতে এ বিষয়ে বিধান থাকলেও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া স্পষ্ট নয়। এ জন্য বিচারপ্রক্রিয়ার বিধি সংশোধন করে বিস্তারিত বিধান যুক্ত করা প্রয়োজন।

এদিকে মাওলানা আবুল কালাম আযাদের আপিলের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১(৩) ধারায় রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ সময়সীমা পার হয়ে গেলে কোনো আসামির আপিল গ্রহণযোগ্য নয়।

তার দাবি, আবুল কালাম আযাদের আপিল এখনো গ্রহণ করা হয়নি। ফলে ৩০ দিনের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর তার আর আপিল করার সুযোগ নেই। ট্রাইব্যুনালের রায় বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কোনো পথ নেই।

সরকারের সাজা স্থগিত বা কমানোর ক্ষমতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় সরকারের এমন ক্ষমতা রয়েছে। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবুল কালাম আযাদকে আপিলের শর্তে আত্মসমর্পণের যে সুযোগ দিয়েছিল, তা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর ২১(৩) ধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কোনো নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বিশেষ আইনের বিধান অতিক্রম করা যায় না।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

গুমের নতুন আইনে বিচারিক পরিধি বাড়ল

প্রকাশের সময় : ০২:১৬:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন পাসের ফলে গুমের ঘটনায় বিচার পাওয়ার সুযোগ আরও বিস্তৃত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। নতুন আইনে গুমের স্পষ্ট সংজ্ঞা থাকায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জন্য ন্যায়বিচারের নতুন দ্বার খুলেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার বা আটক করে তার অবস্থান গোপন করলে, অজ্ঞাত স্থানে রাখলে কিংবা আইনের সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করলে তা গুম হিসেবে গণ্য হবে। তবে কোনো গুমের ঘটনা ব্যাপক বা পদ্ধতিগত হলে সেটি মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এর বিচার হবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এর আগে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিষয়ে অধ্যাদেশ থাকলেও তার কার্যকর প্রয়োগ দেখা যায়নি। ওই আইনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও তখন কমিশন কার্যকরভাবে কাজ করতে পারেনি।

নতুন আইনের ৩৩ ধারার বিষয়ে তিনি বলেন, গুমের কোনো মামলা এরই মধ্যে ট্রাইব্যুনালে চলমান থাকলে তার বিচার সেখানেই হবে। সেশন কোর্ট বা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চলমান কোনো মামলায় ঘটনা ব্যাপক বা পদ্ধতিগত মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে প্রতীয়মান হলে সেটিও ট্রাইব্যুনালে পাঠানো যাবে।

পুলিশি তদন্তের যেকোনো পর্যায়ে কোনো ঘটনাকে ব্যাপক ও পদ্ধতিগত মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হলে তা ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা বা চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ও অন্য আদালতে চলমান এমন মামলা ট্রাইব্যুনালে এনে বিচারের উদ্যোগ নিতে পারবে।

তিনি জানান, ট্রাইব্যুনালে ইতোমধ্যে জমা পড়া ও তদন্তাধীন গুমের অভিযোগগুলো নতুন আইনের আলোকে পর্যায়ক্রমে পর্যালোচনা করা হবে। যেসব ঘটনা জোরপূর্বক গুম বা ব্যাপক ও পদ্ধতিগত অপরাধের সংজ্ঞার মধ্যে পড়বে, সেগুলোর বিচার ট্রাইব্যুনালে হবে। অন্য ঘটনাগুলো স্বতন্ত্র গুমের অপরাধ হিসেবে সংশ্লিষ্ট আদালতে যাবে।

বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি ও ক্ষতিপূরণের বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, আইন ও বিচারপ্রক্রিয়ার বিধিতে এ বিষয়ে বিধান থাকলেও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া স্পষ্ট নয়। এ জন্য বিচারপ্রক্রিয়ার বিধি সংশোধন করে বিস্তারিত বিধান যুক্ত করা প্রয়োজন।

এদিকে মাওলানা আবুল কালাম আযাদের আপিলের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১(৩) ধারায় রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ সময়সীমা পার হয়ে গেলে কোনো আসামির আপিল গ্রহণযোগ্য নয়।

তার দাবি, আবুল কালাম আযাদের আপিল এখনো গ্রহণ করা হয়নি। ফলে ৩০ দিনের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর তার আর আপিল করার সুযোগ নেই। ট্রাইব্যুনালের রায় বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কোনো পথ নেই।

সরকারের সাজা স্থগিত বা কমানোর ক্ষমতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় সরকারের এমন ক্ষমতা রয়েছে। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবুল কালাম আযাদকে আপিলের শর্তে আত্মসমর্পণের যে সুযোগ দিয়েছিল, তা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর ২১(৩) ধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কোনো নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বিশেষ আইনের বিধান অতিক্রম করা যায় না।