Dhaka ১০:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
এসএসসির ফল পুনর্নিরীক্ষণে রেকর্ড আবেদন, মূল্যায়ন নিয়ে শঙ্কা ইউক্রেন যুদ্ধে প্রতি মাসে ৬ হাজার সেনার ঘাটতিতে রাশিয়া নেপালে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা, অল্পের জন্য বেঁচে ঢাকায় অপু বিশ্বাস ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ‘বিশ্বের ইতিহাসের বৃহত্তম’ তেল চুক্তির ঘোষণা ট্রাম্পের শিশুদের জন্য বদলে যাচ্ছে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম নেপালে বন্যা-ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত ৯৩ হাজারের বেশি মানুষ: রেড ক্রস দক্ষতা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে হবে: চরমোনাই পীর দেশজুড়ে আগামী ২ দিন ভারী বর্ষণের আভাস ঝিনাইদহে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরদের প্রশিক্ষণ রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের অভিনন্দন

ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ‘বিশ্বের ইতিহাসের বৃহত্তম’ তেল চুক্তির ঘোষণা ট্রাম্পের

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৯:১৮:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / 8

 

ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বিশ্বের ইতিহাসের ‘সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি’ করার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ চুক্তির কথা জানান।

ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র একটি ব্যাপক চুক্তিতে পৌঁছেছে। এর মাধ্যমে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির বিপুল অপরিশোধিত তেল মজুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার তৈরি হতে পারে। চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

ট্রাম্পের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ চুক্তিটি নিয়ে আলোচনা ও সমঝোতা করেন।

ভেনেজুয়েলা সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চুক্তির আওতায় দেশটির ১৭টি তেলক্ষেত্র উন্নয়ন করা হবে। এসব তেলক্ষেত্রে প্রমাণিতভাবে প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের মজুত রয়েছে। চুক্তির ফলে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আসতে পারে। একই সঙ্গে দেশটির সরকার ২০৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি কর রাজস্ব পেতে পারে।

ডেলসি রদ্রিগেজ টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে আশা প্রকাশ করেছেন, এই চুক্তি ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চুক্তি সম্পর্কে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে নতুন একটি কোম্পানি গঠনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ওই কোম্পানি তেলক্ষেত্রগুলোর মজুত উন্নয়নের দায়িত্ব নেবে। রদ্রিগেজের সরকার ওই কোম্পানিকে তেলক্ষেত্রগুলো উন্নয়নের জন্য ১০০ বছরের অধিকার দিয়েছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

চুক্তি অনুযায়ী, নতুন কোম্পানিটির কার্যকর উৎপাদনের ৫৫ শতাংশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ থাকবে। এর মধ্যে মালিকানার অংশীদারত্বের পাশাপাশি উৎপাদন খরচে তেল কেনার অধিকারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, নতুন কোম্পানিটি সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রমাণিত তেল মজুতের করপোরেট মালিক হতে পারে।

এ ঘোষণা এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমানোর জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সংঘাতের আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ পেট্রোলিয়াম এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম ছিল প্রায় ৪ দশমিক ০৯ ডলার। এক বছর আগে একই সময়ে এই দাম ছিল ৩ দশমিক ২১ ডলার।

তবে নতুন চুক্তির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে তাৎক্ষণিকভাবে জ্বালানির দাম কমবে—এমন প্রত্যাশা করছেন না বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে দেশটির পুরোনো ও জরাজীর্ণ অবকাঠামো সংস্কার ও সম্প্রসারণ করতে হবে। এতে কয়েক বছর সময় লাগার পাশাপাশি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজন হতে পারে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে ভেনেজুয়েলায়। মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের হিসাবে, দেশটির ভূগর্ভে আনুমানিক ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রয়েছে, যা বিশ্বের মোট মজুতের প্রায় ১৭ শতাংশ। তবে দুর্বল অবকাঠামোর কারণে বর্তমানে বিশ্ব তেল উৎপাদনে ভেনেজুয়েলার অবদান মাত্র প্রায় ১ শতাংশ।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, এই চুক্তি ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের জন্য বড় ধরনের সাফল্য। তাঁর দাবি, চুক্তির ফলে ভেনেজুয়েলায় প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে, হাজার হাজার উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

 

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ‘বিশ্বের ইতিহাসের বৃহত্তম’ তেল চুক্তির ঘোষণা ট্রাম্পের

প্রকাশের সময় : ০৯:১৮:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

 

ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বিশ্বের ইতিহাসের ‘সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি’ করার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ চুক্তির কথা জানান।

ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র একটি ব্যাপক চুক্তিতে পৌঁছেছে। এর মাধ্যমে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির বিপুল অপরিশোধিত তেল মজুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার তৈরি হতে পারে। চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

ট্রাম্পের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ চুক্তিটি নিয়ে আলোচনা ও সমঝোতা করেন।

ভেনেজুয়েলা সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চুক্তির আওতায় দেশটির ১৭টি তেলক্ষেত্র উন্নয়ন করা হবে। এসব তেলক্ষেত্রে প্রমাণিতভাবে প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের মজুত রয়েছে। চুক্তির ফলে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আসতে পারে। একই সঙ্গে দেশটির সরকার ২০৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি কর রাজস্ব পেতে পারে।

ডেলসি রদ্রিগেজ টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে আশা প্রকাশ করেছেন, এই চুক্তি ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চুক্তি সম্পর্কে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে নতুন একটি কোম্পানি গঠনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ওই কোম্পানি তেলক্ষেত্রগুলোর মজুত উন্নয়নের দায়িত্ব নেবে। রদ্রিগেজের সরকার ওই কোম্পানিকে তেলক্ষেত্রগুলো উন্নয়নের জন্য ১০০ বছরের অধিকার দিয়েছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

চুক্তি অনুযায়ী, নতুন কোম্পানিটির কার্যকর উৎপাদনের ৫৫ শতাংশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ থাকবে। এর মধ্যে মালিকানার অংশীদারত্বের পাশাপাশি উৎপাদন খরচে তেল কেনার অধিকারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, নতুন কোম্পানিটি সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রমাণিত তেল মজুতের করপোরেট মালিক হতে পারে।

এ ঘোষণা এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমানোর জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সংঘাতের আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ পেট্রোলিয়াম এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম ছিল প্রায় ৪ দশমিক ০৯ ডলার। এক বছর আগে একই সময়ে এই দাম ছিল ৩ দশমিক ২১ ডলার।

তবে নতুন চুক্তির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে তাৎক্ষণিকভাবে জ্বালানির দাম কমবে—এমন প্রত্যাশা করছেন না বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে দেশটির পুরোনো ও জরাজীর্ণ অবকাঠামো সংস্কার ও সম্প্রসারণ করতে হবে। এতে কয়েক বছর সময় লাগার পাশাপাশি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজন হতে পারে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে ভেনেজুয়েলায়। মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের হিসাবে, দেশটির ভূগর্ভে আনুমানিক ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রয়েছে, যা বিশ্বের মোট মজুতের প্রায় ১৭ শতাংশ। তবে দুর্বল অবকাঠামোর কারণে বর্তমানে বিশ্ব তেল উৎপাদনে ভেনেজুয়েলার অবদান মাত্র প্রায় ১ শতাংশ।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, এই চুক্তি ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের জন্য বড় ধরনের সাফল্য। তাঁর দাবি, চুক্তির ফলে ভেনেজুয়েলায় প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে, হাজার হাজার উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি