শার্শার উলাশী জিয়া খাল পুনঃখননে ফিরেছে পানির প্রবাহ
- প্রকাশের সময় : ০৪:৩০:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
- / 11
দীর্ঘদিন পর পুনঃখননের ফলে প্রাণ ফিরে পেয়েছে যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী জিয়া খাল। বর্তমানে বর্ষার পানিতে খালটিতে প্রবাহ সৃষ্টি হয়েছে। এতে শার্শার বিভিন্ন বিলের পানি নিষ্কাশন হওয়ায় জলাবদ্ধতা কমেছে এবং কৃষকেরা আমন ধান চাষের সুযোগ পাচ্ছেন।
প্রায় অর্ধশত বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে খনন করা উলাশী খালটি দীর্ঘদিন নাব্যতা হারিয়ে অনেকটা অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছিল। গত ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ খালটির পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। এরপর খননকাজ শেষ হলে খালটিতে আবার পানির প্রবাহ ফিরে আসে।
স্থানীয়রা জানান, চলতি বর্ষা মৌসুমে শার্শা উপজেলার সোনামুখি, কামান্দারসহ ২২টি ছোট-বড় বিলের পানি জিয়া খাল দিয়ে নিষ্কাশিত হচ্ছে। এতে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি। ফলে সোনামুখি ও বনমান্দার বিলের কয়েক হাজার একর জমিতে কৃষকেরা আমন ধান রোপণ করতে পেরেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, উলাশী জিয়া খালে এখন পানির স্রোত রয়েছে। শিশু-কিশোর ও যুবকেরা খালে গোসল ও সাঁতার কাটছে। স্থানীয় জেলেরাও খালটিতে মাছ ধরছেন। শুষ্ক মৌসুমে খালের পানি সেচকাজে ব্যবহার করা যাবে বলে আশা করছেন কৃষকেরা।
শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় উলাশী জিয়া খাল নাব্যতা হারিয়েছিল। পুনঃখননের ফলে শার্শার সোনামুখি ও বনমান্দারসহ বিভিন্ন বিলে বর্ষা মৌসুমেও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি। এতে প্রান্তিক কৃষকেরা আমন ধান রোপণ করতে পারছেন।
তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে শার্শায় ২০ হাজার ৪৪৮ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপণ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, জিয়া খালের পাশেই একসময় বেতনা নদী ছিল। সেই নদীর পানি খালে প্রবাহিত হতো। বর্তমানে বেতনা নদীর বিভিন্ন অংশ দখল হয়ে থাকায় খালের সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাচ্ছে না। নদীটি দখলমুক্ত করা গেলে খাল পুনঃখননের সুফল আরও বাড়বে বলে মনে করেন তারা।
উলাশী জিয়া খাল পুনঃখননের আগে পরিদর্শনকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছিলেন, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে এলাকার কৃষি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
খালটির পানির প্রবাহ ফিরে আসায় বর্তমানে আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষও এটি দেখতে আসছেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে খালটির নাব্যতা ধরে রাখা হবে।



















