গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মিথ্যা মামলার শিকার ব্যক্তিদের ত্যাগের স্বীকৃতি দিতে চায় সরকার
- প্রকাশের সময় : ০৮:২২:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
- / 6
বর্তমান সরকার বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সংঘটিত গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মিথ্যা মামলার শিকার ব্যক্তিদের ত্যাগের স্বীকৃতি দিতে চায় বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আযম খান।
রবিবার বেলা ১১টায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় তিনি এ তথ্য জানান।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শাকিলুজ্জামানের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনে গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি এবং তাদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কল্যাণ, সু-চিকিৎসা, আইনি সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি নতুন অধিদফতর গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের রাষ্ট্র যেমন স্বীকৃতি দিয়েছে ও ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদফতর’ গঠন করেছে, ঠিক তেমনি দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে যাদের অপরিসীম ত্যাগ রয়েছে… যারা গুম হয়েছেন, নির্মমভাবে খুন বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে আর পরিবারে ফিরে আসেননি; দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন কিংবা শত শত মিথ্যা মামলায় নিঃস্ব হয়ে বছরের পর বছর জেল খেটেছেন… রাষ্ট্র তাদের এই ত্যাগকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে চায়।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো ফ্যাসিস্ট শক্তি এভাবে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করতে না পারে এবং কোনো মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী বা সন্তানকে মধ্যযুগীয় বর্বরতার শিকার হয়ে স্বজন হারাতে না হয়, সেটির স্থায়ী প্রতিরোধ গড়ে তুলতেই এ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও অধিদফতর গঠনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল— মানুষ স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করবে, মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকবে, রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগ বন্ধ হবে এবং প্রত্যক্ষ ভোটাধিকারের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। তবে ২০০৯ সালের পর থেকে ভোটের অধিকার হরণ, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সেই মৌলিক ভাবমূর্তি পদদলিত করা হয়েছে। তাই আমাদের ওপর একটা দায়িত্ব বর্তায় যে, এই যে বিশাল একটা সংখ্যা জনগোষ্ঠী, যারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের যে আদর্শ সেটাকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে জীবন দিলো, অত্যাচারিত হলো, গুম হলো, আর্থিকভাবে তারা নিঃস্ব হয়ে গেল, তাদের জন্য আমরা কিছু করতে পারি কিনা।
সভায় মন্ত্রণালয়ের কার্যপ্রণালী বা ‘Rules of Business, 1996’-এর Schedule-I (Allocation of Business) সংশোধন করে এই নতুন দায়িত্ব মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত করার নীতিগত বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। জাতিসংঘের ‘Basic Principles and Guidelines on the Right to a Remedy and Reparation’ নীতিমালা এবং বাংলাদেশের সংবিধান অনুসরণে এই কল্যাণমূলক লক্ষ্য অর্জনে তিনটি প্রধান বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য আলোচনা করা হয়:
১. মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি নতুন অধিদফতর প্রতিষ্ঠা করা।
২. গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার ভুক্তভোগী ও পরিবারের পূর্ণ অধিকার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সমোপযোগী আইন প্রণয়ন করা।
৩. ‘Rules of Business, 1996’-এর Schedule-I (Allocation of Business) সংশোধন করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যাবলিতে এ সংক্রান্ত দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করা।
আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম ছাড়াও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, পররাষ্ট্র, জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র, অর্থ, আইন ও বিচার, সমাজকল্যাণ, স্বাস্থ্য সেবা, যুব ও ক্রীড়া, শ্রম ও কর্মসংস্থান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ, মহিলা ও শিশুসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




















