স্বাক্ষর জাল করে দোকান বিক্রির অভিযোগ, থানায় বৃদ্ধের অভিযোগ
- প্রকাশের সময় : ০৭:৪৭:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
- / 6
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে মালিকের স্বাক্ষর জাল করে দোকানের জাল-নকল কাগজপত্র তৈরি করে তা অন্যের কাছে বিক্রি বা হস্তান্তরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে বালিয়াকান্দি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মুরারী মোহন বিশ্বাস (৬৬) নামে এক বৃদ্ধ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের আকশুকনা গ্রামের বাসিন্দা মুরারী মোহন বিশ্বাস প্রায় ১৯৮৪ সালে সমাধিনগর বাজারের দক্ষিণ পাশে মৃত কৃষ্ণ পদ ঘোষের কাছ থেকে নিজ অর্থে একটি দোকান ক্রয় করেন। এরপর থেকে দোকানটি তার মালিকানা ও দখলে ছিল বলে দাবি করেছেন তিনি।
মুরারী মোহন বিশ্বাস অভিযোগে উল্লেখ করেন, প্রায় তিন বছর আগে কুমারেশ সরকারকে মৌখিক চুক্তির মাধ্যমে মাসিক প্রায় দুই হাজার টাকা ভাড়ায় দোকানটি ব্যবহার করতে দেন। প্রথমদিকে নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করলেও পরবর্তীতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে ভাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়।
অভিযোগকারীর দাবি, তার অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে তাপস বিশ্বাস তার স্বাক্ষর জাল করে দোকান-সংক্রান্ত জাল ও নকল কাগজপত্র তৈরি করেন। পরে কুমারেশ সরকারের সহযোগিতায় ওই কাগজপত্রের মাধ্যমে দোকানটি কোমল সরকারের কাছে বিক্রি বা হস্তান্তর করা হয়েছে বলে তিনি জানতে পারেন।
বকেয়া ভাড়া চাইতে গেলে কুমারেশ সরকার তাকে জানান, তিনি যে ব্যক্তির কাছ থেকে দোকানটি নিয়েছেন, তাদের কাছ থেকেই দোকানটি কেনা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তাপস বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সমাধান পাননি বলে অভিযোগ করেন মুরারী মোহন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার অজ্ঞাতসারে স্বাক্ষর জাল করে দোকান বিক্রি বা হস্তান্তরের ঘটনায় তিনি আর্থিক ক্ষতি ও মানসিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ ও প্রত্যক্ষ সাক্ষী রয়েছে বলেও থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তিনি।
মুরারী মোহন বিশ্বাস বলেন, দীর্ঘদিনের সম্পত্তি নিয়ে এমন ঘটনায় তিনি উদ্বিগ্ন। প্রকৃত ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করে স্বাক্ষর জালিয়াতি, জাল কাগজপত্র তৈরি এবং অবৈধভাবে দোকান বিক্রি বা হস্তান্তরের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এ ঘটনায় বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত প্রতিকার দাবি করেছেন তিনি।
তবে অভিযোগে উল্লিখিত অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।






















