Dhaka ০৪:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
প্রত্যেকটি এনার্জি সেক্টরে তিন মাসের রিজার্ভ নিশ্চয়তায় কাজ করছে সরকার মির্জা ফখরুল ইসলাম রাষ্ট্রপতি হওয়ায় ঠাকুরগাঁও-১ আসন শূন্য ঘোষণা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে নওগাঁ-৩ আসনের এমপি ফজলে হুদা বাবুল গোপালগঞ্জে ছাত্রলীগের মিছিল থেকে আটক ৬ পর্তুগালে জনসমক্ষে বোরকা ও মুখঢাকা পোশাকে নিষেধাজ্ঞা কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী বাসে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা ৩০ পর্যটকের স্টার্ককে শরিফুলের জবাব, বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ১০১ রানের লিড বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকরণে ট্রাম্পের স্থগিতাদেশ বাতিল কালীগঞ্জে গরু চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে নিহত ১ শিক্ষার মানোন্নয়নে বহরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে দিন ব্যাপী বিশেষ মতবিনিময় সভা

ডাক্তারের অবহেলায় সিজারিয়ান রোগীর মৃত্যু, নিহতের বাড়িতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বালিয়াকান্দি প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০১:৩১:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 37

ফরিদপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় রোগীর পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কনিকা মণ্ডল (৩৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামে নিহত কনিকা মণ্ডলের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেন। একই সঙ্গে পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।

নিহত কনিকা মণ্ডল বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মণ্ডলের স্ত্রী। বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পরিবারের অভিযোগ, গত ২৯ জুন সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য কনিকা মণ্ডলকে ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্ত সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তার কন্যাসন্তান প্রসব করান। অপারেশনের পরদিন থেকেই কনিকার পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যেতে শুরু করে।

পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ৩ জুলাই তাকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের দাবি, ৭ জুলাই চিকিৎসক আব্দুল জলিলের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কনিকার পেটে গজ থাকার বিষয়টি শনাক্ত হয়। ওইদিনই অস্ত্রোপচার করে তার পেট থেকে গজ বের করা হয়। এরপর দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার রাতে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেনের নজরে আসে। পরে তার নির্দেশে বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

শুক্রবার সকালে নিহতের বাড়িতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন এস এম মাসুদ, ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান, বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফারুক হোসেনসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয়রা।

এ ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ডাক্তারের অবহেলায় সিজারিয়ান রোগীর মৃত্যু, নিহতের বাড়িতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০১:৩১:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

ফরিদপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় রোগীর পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কনিকা মণ্ডল (৩৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামে নিহত কনিকা মণ্ডলের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেন। একই সঙ্গে পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।

নিহত কনিকা মণ্ডল বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মণ্ডলের স্ত্রী। বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পরিবারের অভিযোগ, গত ২৯ জুন সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য কনিকা মণ্ডলকে ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্ত সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তার কন্যাসন্তান প্রসব করান। অপারেশনের পরদিন থেকেই কনিকার পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যেতে শুরু করে।

পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ৩ জুলাই তাকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের দাবি, ৭ জুলাই চিকিৎসক আব্দুল জলিলের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কনিকার পেটে গজ থাকার বিষয়টি শনাক্ত হয়। ওইদিনই অস্ত্রোপচার করে তার পেট থেকে গজ বের করা হয়। এরপর দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার রাতে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেনের নজরে আসে। পরে তার নির্দেশে বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

শুক্রবার সকালে নিহতের বাড়িতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন এস এম মাসুদ, ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান, বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফারুক হোসেনসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয়রা।

এ ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।