কলকাতার অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৭ বাংলাদেশির ময়নাতদন্ত শেষ, শনিবারের মধ্যে দেশে পাঠানোর প্রস্তুতি
- প্রকাশের সময় : ০৭:৪৫:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
- / 2
কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় হোটেল অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ জনের ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক। কলকাতাস্থ বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন সূত্র জানিয়েছে, আগামী শনিবার ২২ আগস্টের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে।
মঙ্গলবার গভীর রাতে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ১৫জি মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি ও দুজন ভারতীয় নাগরিক। তাদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে।
নিহত বাংলাদেশিরা হলেন আকরাম আলী, দেবাশীষ দত্ত, আফসানা শিরমিন, সর্নাশীষ দত্ত, বাবু আহমেদ, রেবতী সরকার, এস এম আলিমুজ্জামান।
দুই ভারতীয় নাগরিক হলেন ঝাড়খণ্ডের সন্দীপ পাশওয়ান ও শিলিগুড়ির যোগ নারায়ণ আগারওয়াল।
বৃহস্পতিবার কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে নিহত নয়জনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এদিন দুই ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলেও সাত বাংলাদেশির মরদেহ মর্গেই রাখা হয়েছে। কলকাতাস্থ বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, শনিবারের মধ্যে মরদেহগুলো দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
ইতোমধ্যে কুষ্টিয়া থেকে নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের পরিবারের সদস্যরা এবং সাতক্ষীরা থেকে মোহাম্মদ আলিমুজ্জামানের পরিবারের সদস্যরা কলকাতায় পৌঁছেছেন। ভারতীয় দুই নাগরিক সন্দীপ পাশওয়ান ও যোগ নারায়ণ আগারওয়ালের পরিবারের সদস্যরাও মর্গে উপস্থিত হন।
মোহাম্মদ আলিমুজ্জামানের ভাগ্নে মোহাম্মদ আমিনুল হক বলেন, আলিমুজ্জামান তার মামা। তিনি কলকাতায় অবস্থান করছিলেন। বাংলাদেশ থেকে মামার মৃত্যুর খবর পেয়ে মরদেহ দেখতে মর্গে এসেছেন। ব্যবসায়ী আলিমুজ্জামান চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসেছিলেন বলেও জানান তিনি।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হোটেলটির ইজারাদার হিসেবে নিবন্ধিত আবু জাফরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও দুজন হোটেলকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, এন্টালি থানার মেইন মার্কেট এলাকা থেকে আবু জাফরকে গ্রেফতার করা হয়। তার বাড়ি জোড়াসাঁকো এলাকায়। হোটেলটির পরিচালন ব্যবস্থা, লিজ সংক্রান্ত নথি এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
প্রাথমিকভাবে এসি মেশিনে বিস্ফোরণ বা শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে জানা গেছে। পরে আগুন হোটেলের অন্তত চারটি কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের সঙ্গে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
ঘটনার তদন্তে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হয়েছে। দলের নেতৃত্বে রয়েছেন কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট। অগ্নিকাণ্ডের উৎস, ভবনের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল।
এদিকে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিট ও সংলগ্ন এলাকার হোটেল ও লজগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা শুরু করেছে পুলিশ। ইতোমধ্যে কলিন লেনের সাতটি লজ ও চারটি গেস্ট হাউসে আপাতত অতিথি না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার কারণও জানতে চাওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।
শুধু কলকাতা নয়, অগ্নিকাণ্ডের পর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতেও আবাসিক হোটেল ও গেস্ট হাউসে অভিযান শুরু হয়েছে। বীরভূম, ঝাড়গ্রাম, মালদা, উত্তর ২৪ পরগনাসহ বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখছেন।






















