মাদক কারবারি ও মূল হোতাদের নিরপেক্ষ তালিকা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- প্রকাশের সময় : ১২:৫৪:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
- / 6
দেশের শীর্ষ মাদক কারবারি, মাদক চোরাকারবারি ও মাদকের মূল হোতাদের একটি নিরপেক্ষ তালিকা প্রস্তুত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ওই তালিকার ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে কক্সবাজার শহরের হিল ডাউন সার্কিট হাউসে জেলা আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকের চোরাচালান, বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণ সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। কক্সবাজার মাদক পাচারের অন্যতম রুট হওয়ায় এখান থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাদক ছড়িয়ে পড়ছে। এ কারণে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে নিরপেক্ষ তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জুয়া, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দমনেও সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
তিনি বলেন, যেসব রুট ব্যবহার করে মাদক চোরাচালান হয়, সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী যৌথ বাহিনী অথবা পৃথক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী নির্দিষ্ট এলাকার দায়িত্ব পালন করবে।
স্থলপথের পাশাপাশি সমুদ্র ও নদীপথে মাদক পাচার বন্ধে নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের টহল জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি। উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদক নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ক্যাম্পে আগে স্থাপন করা অনেক সিসিটিভি ক্যামেরা বর্তমানে অকেজো হয়ে গেছে। সেগুলো দ্রুত সচল করা হবে। পাশাপাশি ক্যাম্পে সক্রিয় মাদক কারবারি ও মাদক বহনকারীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উখিয়া-টেকনাফ এলাকার জেলে ও নৌযান নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এর ফলে নৌপথে চোরাচালানের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
সভায় শিপিং মন্ত্রণালয়ের উপকূলীয় এলাকার ১১টি নজরদারি টাওয়ার ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা হয়। প্রতিটি টাওয়ারে কোস্ট গার্ডের একজন করে প্রতিনিধি রাখার প্রস্তাব দেওয়া হবে, যাতে সমুদ্রপথে চলাচলকারী নৌযানের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা যায়।
উখিয়া-টেকনাফে সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে যাওয়া অপহরণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেসব এলাকায় অপহরণের ঘটনা বেশি ঘটছে, সেখানে সেনাবাহিনীর অন্তত দুটি ক্যাম্প স্থাপনের জন্য অনুরোধ জানানো হবে। যেকোনো মূল্যে অপহরণ বন্ধে সরকার বদ্ধপরিকর।
সভায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে ডগ স্কোয়াড ও প্রয়োজনীয় অস্ত্র সরবরাহ, প্রতিটি জেলায় মাদক শনাক্তকরণ ল্যাবরেটরি স্থাপন, হাজতখানা ও মালখানা নির্মাণ এবং সংশ্লিষ্ট আইন সংস্কারের বিষয়েও আলোচনা হয়। এসব সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এ ছাড়া মাদকবিরোধী কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমন্বয় ও তথ্য আদান-প্রদান আরও জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।























