প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরে ১১ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকসহ ৩০ কর্মসূচি
- প্রকাশের সময় : ১০:৫৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 3
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের নিউইয়র্ক সফরে ১১টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকসহ মোট ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
শুক্রবার নিউইয়র্কের জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মাহদী আমিন এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, এসব বৈঠক ও কর্মসূচিতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক শান্তিসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।
মাহদী আমিন জানান, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ-সংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ ছাড়া জাতিসংঘের বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করেন।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী মালদ্বীপ, ভুটান, হাইতি, তুরস্ক, ক্রোয়েশিয়া, ইরান, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
মাহদী আমিন বলেন, বিশেষ করে কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা, জনশক্তি রপ্তানি বাড়ানো, জ্বালানি নিরাপত্তা, খনিজ খাতে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয় গুরুত্ব পায়। তিন দেশই প্রধানমন্ত্রীকে নিজ নিজ দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে বলে তিনি জানান।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিব, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার এবং মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেন। পাশাপাশি গেটস ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউট এবং ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও তাঁর আলোচনা হয়।
জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচিতে রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, স্বাস্থ্যসেবা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং ন্যায্য রূপান্তরের মতো বিষয়ও আলোচনায় আসে। বাংলাদেশ ও অংশীদারদের উদ্যোগে রোহিঙ্গা সংকট এবং ধাত্রী ও মাতৃ-নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে দুটি উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
সফরের শেষ দিনে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে একটি বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। জেপি মর্গান চেস আয়োজিত ওই বৈঠকে বাংলাদেশে বিশেষ করে আর্থিক খাতে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয় বলে মাহদী আমিন জানান।
এরপর ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে শান্তি, মানবাধিকার, আইনের শাসন ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্কের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এতে বাংলাদেশে মানবাধিকার, আইনের শাসন ও গণতন্ত্রসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র জানান।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের পাশাপাশি তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও আটটি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং চারটিতে বক্তব্য দেন। এর মধ্যে জাতিসংঘের নারী নেত্রীদের প্ল্যাটফর্মের বার্ষিক অধিবেশন, বিশ্ব ফার্স্ট স্পাউস সংলাপ এবং মাতৃমৃত্যু ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক কর্মসূচি ছিল।
মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা মিলিয়ে চার দিনে প্রায় ৮০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ছোট একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে সফরের সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে প্রতিটি কর্মসূচিতে বাংলাদেশের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলায় ভাষণ দেন। এতে বৈশ্বিক শান্তি, মানবতা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় অগ্রাধিকার তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাঁচ দিনের নিউইয়র্ক সফর শেষে শুক্রবার রাতে ঢাকার উদ্দেশে নিউইয়র্ক ত্যাগ করেছেন।




















