Dhaka ১২:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:

দ্বিতীয় দফায় দেশব্যাপী ৩৪ লাখ শিশুকে হামের টিকাদান শুরু

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১২:০৬:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 2

দেশব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে প্রথম দফায় টিকার আওতার বাইরে থাকা প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে এমআর (হাম-রুবেলা) টিকার আওতায় আনতে দ্বিতীয় দফার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি চলবে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।

শনিবার সকালে রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তির টিএনটি খেলার মাঠে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালের পর নিয়ম অনুযায়ী চার বছর পরপর পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও এমআর টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ ছিল। ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু টিকার সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর ওই সময়ের ঘাটতির প্রভাব বর্তমান সরকারের ওপর এসে পড়েছে। হামের কারণে শিশু ও পরিবারগুলোকে যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে, সে জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

দেশের চিকিৎসকদের অবদানের কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন মহামারি ও জরুরি পরিস্থিতিতে চিকিৎসকেরা নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। করোনাভাইরাস মহামারির সময়ও চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও আত্মত্যাগের কারণে বাংলাদেশে মৃত্যুহার তুলনামূলক কম ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, পুষ্টিহীনতায় ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে হাম থেকে নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হতে পারে। এতে মৃত্যুঝুঁকিও বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশীয় চিকিৎসকদের সেবা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি।

সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমসহ সমাজের সব পক্ষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, হাম ও অন্যান্য মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শুধু সরকারের একার পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়; এ ক্ষেত্রে সমাজের সব পক্ষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য বিশেষ এমআর টিকাদান কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়।

এরপর ২৮ জুন জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনে একই বয়সী প্রায় ২ কোটি ২৩ লাখ শিশু অংশ নেয়। এই দুই কর্মসূচির তথ্য পর্যালোচনায় প্রায় ৪৩ লাখ শিশু এমআর টিকার আওতার বাইরে থাকার বিষয়টি শনাক্ত হয়।

তবে পরবর্তী যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে দ্বিতীয় দফার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের এমআর টিকা দেওয়ার মাধ্যমে টিকাদানের আওতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।

দেশব্যাপী শুরু হওয়া এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

দ্বিতীয় দফায় দেশব্যাপী ৩৪ লাখ শিশুকে হামের টিকাদান শুরু

প্রকাশের সময় : ১২:০৬:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে প্রথম দফায় টিকার আওতার বাইরে থাকা প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে এমআর (হাম-রুবেলা) টিকার আওতায় আনতে দ্বিতীয় দফার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি চলবে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।

শনিবার সকালে রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তির টিএনটি খেলার মাঠে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালের পর নিয়ম অনুযায়ী চার বছর পরপর পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও এমআর টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ ছিল। ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু টিকার সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর ওই সময়ের ঘাটতির প্রভাব বর্তমান সরকারের ওপর এসে পড়েছে। হামের কারণে শিশু ও পরিবারগুলোকে যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে, সে জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

দেশের চিকিৎসকদের অবদানের কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন মহামারি ও জরুরি পরিস্থিতিতে চিকিৎসকেরা নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। করোনাভাইরাস মহামারির সময়ও চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও আত্মত্যাগের কারণে বাংলাদেশে মৃত্যুহার তুলনামূলক কম ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, পুষ্টিহীনতায় ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে হাম থেকে নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হতে পারে। এতে মৃত্যুঝুঁকিও বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশীয় চিকিৎসকদের সেবা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি।

সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমসহ সমাজের সব পক্ষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, হাম ও অন্যান্য মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শুধু সরকারের একার পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়; এ ক্ষেত্রে সমাজের সব পক্ষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য বিশেষ এমআর টিকাদান কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়।

এরপর ২৮ জুন জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনে একই বয়সী প্রায় ২ কোটি ২৩ লাখ শিশু অংশ নেয়। এই দুই কর্মসূচির তথ্য পর্যালোচনায় প্রায় ৪৩ লাখ শিশু এমআর টিকার আওতার বাইরে থাকার বিষয়টি শনাক্ত হয়।

তবে পরবর্তী যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে দ্বিতীয় দফার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের এমআর টিকা দেওয়ার মাধ্যমে টিকাদানের আওতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।

দেশব্যাপী শুরু হওয়া এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।