Dhaka ০৪:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:

হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করার আহ্বান, করলে ব্যবস্থা: তথ্য উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০২:৩০:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / 15

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী শেখ হাসিনার কোনো বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। আদালতের আদেশ অমান্য করে কেউ শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার বা সম্প্রচার করলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এ বিষয়ে সরকার আগেও গণমাধ্যমকে সতর্কতামূলক নির্দেশনা দিয়েছে। কেউ আগাম প্রচার করে শেখ হাসিনা বক্তব্য দেবেন এবং পরে সেটি প্রকাশ বা সম্প্রচার করলে তা আদালতের আদেশ অমান্যের শামিল হবে। তাই সবাইকে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, আদালতের আদেশ মানা প্রত্যেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। সরকারের দায়িত্ব হলো আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। তবে আদালতের এমন নির্দেশনা না থাকলে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে বাধা দেওয়া ঠিক হতো না বলেও ব্যক্তিগত মতামত দেন তিনি। কেউ আদালতের আদেশের সঙ্গে একমত না হলে আদালতে গিয়ে তা চ্যালেঞ্জ করতে পারেন বলেও উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যে দেশে ফেরার ঘোষণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চায়। এ জন্য ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন করা হয়েছে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে একই বার্তা দেওয়া হয়েছে।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। এরপর তিনি আইনজীবী নিয়োগ, আত্মপক্ষ সমর্থনসহ আইনে নির্ধারিত সব সুযোগ পাবেন। আদালতের চূড়ান্ত রায় সরকার মেনে নেবে। সরকার আইনের শাসনে বিশ্বাস করে এবং শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অতীতেও তার বিভিন্ন আহ্বানের বাস্তব কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। বর্তমানে কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী তাকে সমর্থন করতে পারেন কিংবা অতীতে সুবিধাভোগী হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে থাকতে পারেন। তবে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়ে সরকারকে চ্যালেঞ্জ দেওয়ার মতো নৈতিক বা সাংগঠনিক শক্তি তাদের নেই।

শেখ হাসিনার দেশত্যাগে সহযোগিতাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল ব্যতিক্রমধর্মী। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় এ ধরনের ঘটনা ঘটে। এ মুহূর্তে কারা কীভাবে ওই ঘটনায় জড়িত ছিলেন, তা নিয়ে তদন্তের কোনো উদ্যোগ সরকারের নেই।

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের জামিনের তথ্য সরকার দুই-তিন দিন পর জানতে পারা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন। কেন এমন তথ্যগত ব্যবধান হয়েছে, তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে খতিয়ে দেখা হবে।

প্রশাসনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আগের সরকারের প্রভাব এখনো রয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ১৫ বছর ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যারা দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের সবাইকে একদিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আগের সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক মানুষ এখনো রয়েছেন। তবে সরকার ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করছে।

তিনি বলেন, শুধু বদলি করলেই হবে না, নতুন কর্মকর্তাদের দক্ষতা অর্জনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। তাই রাষ্ট্রের সেবাদান ব্যবস্থা যাতে ভেঙে না পড়ে, সেদিক বিবেচনা করেই প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। মানুষের কাছে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করার আহ্বান, করলে ব্যবস্থা: তথ্য উপদেষ্টা

প্রকাশের সময় : ০২:৩০:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী শেখ হাসিনার কোনো বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। আদালতের আদেশ অমান্য করে কেউ শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার বা সম্প্রচার করলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এ বিষয়ে সরকার আগেও গণমাধ্যমকে সতর্কতামূলক নির্দেশনা দিয়েছে। কেউ আগাম প্রচার করে শেখ হাসিনা বক্তব্য দেবেন এবং পরে সেটি প্রকাশ বা সম্প্রচার করলে তা আদালতের আদেশ অমান্যের শামিল হবে। তাই সবাইকে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, আদালতের আদেশ মানা প্রত্যেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। সরকারের দায়িত্ব হলো আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। তবে আদালতের এমন নির্দেশনা না থাকলে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে বাধা দেওয়া ঠিক হতো না বলেও ব্যক্তিগত মতামত দেন তিনি। কেউ আদালতের আদেশের সঙ্গে একমত না হলে আদালতে গিয়ে তা চ্যালেঞ্জ করতে পারেন বলেও উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যে দেশে ফেরার ঘোষণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চায়। এ জন্য ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন করা হয়েছে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে একই বার্তা দেওয়া হয়েছে।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। এরপর তিনি আইনজীবী নিয়োগ, আত্মপক্ষ সমর্থনসহ আইনে নির্ধারিত সব সুযোগ পাবেন। আদালতের চূড়ান্ত রায় সরকার মেনে নেবে। সরকার আইনের শাসনে বিশ্বাস করে এবং শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অতীতেও তার বিভিন্ন আহ্বানের বাস্তব কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। বর্তমানে কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী তাকে সমর্থন করতে পারেন কিংবা অতীতে সুবিধাভোগী হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে থাকতে পারেন। তবে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়ে সরকারকে চ্যালেঞ্জ দেওয়ার মতো নৈতিক বা সাংগঠনিক শক্তি তাদের নেই।

শেখ হাসিনার দেশত্যাগে সহযোগিতাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল ব্যতিক্রমধর্মী। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় এ ধরনের ঘটনা ঘটে। এ মুহূর্তে কারা কীভাবে ওই ঘটনায় জড়িত ছিলেন, তা নিয়ে তদন্তের কোনো উদ্যোগ সরকারের নেই।

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের জামিনের তথ্য সরকার দুই-তিন দিন পর জানতে পারা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন। কেন এমন তথ্যগত ব্যবধান হয়েছে, তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে খতিয়ে দেখা হবে।

প্রশাসনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আগের সরকারের প্রভাব এখনো রয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ১৫ বছর ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যারা দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের সবাইকে একদিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আগের সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক মানুষ এখনো রয়েছেন। তবে সরকার ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করছে।

তিনি বলেন, শুধু বদলি করলেই হবে না, নতুন কর্মকর্তাদের দক্ষতা অর্জনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। তাই রাষ্ট্রের সেবাদান ব্যবস্থা যাতে ভেঙে না পড়ে, সেদিক বিবেচনা করেই প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। মানুষের কাছে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।