এনসিপি ওপর হামলাকে ‘ডিপ পাওয়ার’ বলে তোপের মুখে শিবিরের সাবেক সভাপতি
- প্রকাশের সময় : ০৪:৩৪:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
- / 9
হবিগঞ্জ ও সিলেটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাকে ‘সুপরিকল্পিত’ উল্লেখ করে এর পেছনে ‘ডিপ পাওয়ার’ বা গভীর পরিকল্পনা রয়েছে বলে মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে হামলার ঘটনাগুলো খুবই সুপরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে। উদ্দেশ্য যা হতে পারে—জুলাই মাসে জামায়াতকে যতটা সম্ভব আলোচনার বাইরে রাখা এবং এনসিপির প্রতি জনসমর্থন (পাবলিক সিম্প্যাথি) তৈরি করা। গুড প্ল্যান, গুড মুভ। (ডিপ পাওয়ার)।’
পোস্টটি প্রকাশের কিছু সময় পর তিনি সেটি মুছে ফেলেন। তবে এরই মধ্যে পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এর আগে মঙ্গলবার ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। পরদিন বুধবার হবিগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে গেলে এনসিপির নেতা-কর্মীরা পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। পরে বৃহস্পতিবার সিলেটে এনসিপির নেতা-কর্মীদের বহনকারী গাড়িতেও হামলার অভিযোগ ওঠে।
এসব ঘটনায় এনসিপি বিএনপি এবং দলটির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীদের দায়ী করেছে। তবে হামলার ঘটনাগুলো নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যও দেখা গেছে।
জাহিদুল ইসলামের পোস্টের পর জামায়াত-সমর্থক কয়েকটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকেও একই ধরনের বক্তব্য প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে হাসান মো. মেহেদী নামে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া পোস্টে বলা হয়, ‘পাতানো খেলায় নিরীহ আলিফের চোখ বলি হলো!’ সেখানে হামলায় আহত জাতীয় ছাত্রশক্তির হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা শাখার সংগঠক আলিফ চৌধুরীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়।

এদিকে জাহিদুল ইসলামের বক্তব্যের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হন এনসিপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘জামায়াতের ৬০ বছর বয়সী সংসদ সদস্য ১৭ বছরের কিশোরীকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে যে কেলেঙ্কারির জন্ম দিয়েছেন, সেটা এই জুলাই মাসেই ছিল। কিছু মানুষ দেখলাম, যারা হামলার প্রতিবাদ না জানিয়ে এর মধ্যে ডিপ প্ল্যানের (গভীর পরিকল্পনা) গন্ধ পাচ্ছে।’
তিনি আরও লেখেন, ‘এনসিপির রাজনীতি দাঁড়ালে কারও কারও অসুবিধা হবে, এটাই স্বাভাবিক। নিজেদের ব্যর্থতা অস্বীকার করে অন্যকে সন্দেহের চোখে দেখা এক ধরনের অসুখ। আরোগ্য কামনা করি। আমীন।’
মনিরা শারমিনের ওই পোস্টেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এ ছাড়া এনসিপির আরও কয়েকজন নেতা ফেসবুকে জাহিদুল ইসলামের বক্তব্যের সমালোচনা করেন।
সমালোচনা ও বিতর্কের মুখে রাতেই নিজের পোস্টটি মুছে ফেলেন জাহিদুল ইসলাম। তবে পোস্টটি সরিয়ে নেওয়ার পরও বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটে এনসিপি রয়েছে। অন্যদিকে ইসলামী ছাত্রশিবির জামায়াতের ছাত্রসংগঠন। ফলে এনসিপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা এবং এ বিষয়ে জাহিদুল ইসলামের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।



















