Dhaka ০৬:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আইনের মুখোমুখি হতে হবে: রাশেদ খান ছাত্রদলের হামলায় চোয়াল ভেঙেছে জবি শিক্ষার্থীর, অস্ত্রোপচারের পরও কথা বলতে পারছেন না গ্রিস উপকূলে দুই শতাধিক অভিবাসী উদ্ধার, অধিকাংশই বাংলাদেশি ১০ লাখে কিডনি বিক্রির পর দিনমজুর পেলেন মাত্র ৫০ হাজার টাকা ‘এরকম এতিম দশায় ওপেন হইলো কেন’, জুলাই জাদুঘর নিয়ে প্রশ্ন ফারুকীর সাকিবকে দেশে ফেরানো নিয়ে আগের অবস্থান থেকে সরে গেলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সতর্ক করল পুলিশ ওয়েব সিরিজ দেখে স্ত্রীকে হত্যা, টাকাপয়সা নিয়ে চম্পট প্রযুক্তিবিদের নওগাঁয় মাছের সাথে শত্রুতা, ৮ লাখ টাকার ক্ষতি শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে জাবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ককে শোকজ

টানা বৃষ্টিতে মধুখালীতে মরিচ চাষে বিপর্যয়, মণপ্রতি দাম ১০ হাজার টাকা

মধুখালী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় : ০৪:৫৬:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • / 48

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় টানা বৃষ্টিতে গ্রীষ্মকালীন মরিচ চাষে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। অতিবৃষ্টিতে অধিকাংশ মরিচ ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গিয়ে গাছ পচে ও মারা যাওয়ায় চরম লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানান, ক্ষেতে মরিচের উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মরিচ ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর মধুখালীর কাঁচা মরিচের আড়তে প্রতি মণ মরিচ ৭ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কৃষিপ্রধান উপজেলা হিসেবে পরিচিত মধুখালীতে চলতি মৌসুমে প্রায় ২ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। তবে টানা বৃষ্টিতে মাঠের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মরিচ গাছ নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন উপজেলার রায়পুর, জাহাপুর ও মেগচামী ইউনিয়নের চাষিরা।

কৃষকদের ভাষ্য, মরিচের পাশাপাশি সাথি ফসল হিসেবে মিষ্টি কুমড়ারও চাষ করা হয়েছিল। কিন্তু অতিবৃষ্টির কারণে কুমড়ার চাষও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাদের লোকসান আরও বেড়েছে।

রায়পুর ইউনিয়নের হাটঘাটা গ্রামের কৃষক টুকু মণ্ডল জানান, তিনি ৫০ শতাংশ জমিতে মরিচের আবাদ করেছিলেন। অতিবৃষ্টিতে সব গাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন মরিচ ক্ষেত তুলে সেখানে ধান চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘চাষে যে পরিমাণ খরচ করেছি, তার অর্ধেকও উঠেনি। সরকার ক্ষতিপূরণ দিলে কিছুটা হলেও ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারব।’

কৃষক খসরু মিয়া বলেন, সার ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি অতিবৃষ্টিতে মরিচ ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় তারা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। কৃষক শফিক শেখ জানান, মরিচ গাছ আর বাঁচবে না, তাই ধানের আবাদই এখন একমাত্র ভরসা। অপর কৃষক লালচান মোল্লাও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাহবুব ইলাহী বলেন, এ বছর উপজেলায় ২ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। তবে টানা এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বৃষ্টির কারণে অনেক ক্ষেতের মরিচ গাছ মারা গেছে। ক্ষতির পরিমাণ ৫০ শতাংশেরও বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক কৃষককে সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের আওতায় আনা হবে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) মধুখালী কাঁচা মরিচের আড়তের ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমান মোল্যা ও মির্জা আবু জাফর জানান, বাজারে সরবরাহ কম থাকায় প্রতি মণ কাঁচা মরিচ ৭ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। তাদের ধারণা, সরবরাহ পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে মরিচের দাম আরও বাড়তে পারে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

টানা বৃষ্টিতে মধুখালীতে মরিচ চাষে বিপর্যয়, মণপ্রতি দাম ১০ হাজার টাকা

প্রকাশের সময় : ০৪:৫৬:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় টানা বৃষ্টিতে গ্রীষ্মকালীন মরিচ চাষে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। অতিবৃষ্টিতে অধিকাংশ মরিচ ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গিয়ে গাছ পচে ও মারা যাওয়ায় চরম লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানান, ক্ষেতে মরিচের উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মরিচ ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর মধুখালীর কাঁচা মরিচের আড়তে প্রতি মণ মরিচ ৭ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কৃষিপ্রধান উপজেলা হিসেবে পরিচিত মধুখালীতে চলতি মৌসুমে প্রায় ২ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। তবে টানা বৃষ্টিতে মাঠের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মরিচ গাছ নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন উপজেলার রায়পুর, জাহাপুর ও মেগচামী ইউনিয়নের চাষিরা।

কৃষকদের ভাষ্য, মরিচের পাশাপাশি সাথি ফসল হিসেবে মিষ্টি কুমড়ারও চাষ করা হয়েছিল। কিন্তু অতিবৃষ্টির কারণে কুমড়ার চাষও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাদের লোকসান আরও বেড়েছে।

রায়পুর ইউনিয়নের হাটঘাটা গ্রামের কৃষক টুকু মণ্ডল জানান, তিনি ৫০ শতাংশ জমিতে মরিচের আবাদ করেছিলেন। অতিবৃষ্টিতে সব গাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন মরিচ ক্ষেত তুলে সেখানে ধান চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘চাষে যে পরিমাণ খরচ করেছি, তার অর্ধেকও উঠেনি। সরকার ক্ষতিপূরণ দিলে কিছুটা হলেও ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারব।’

কৃষক খসরু মিয়া বলেন, সার ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি অতিবৃষ্টিতে মরিচ ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় তারা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। কৃষক শফিক শেখ জানান, মরিচ গাছ আর বাঁচবে না, তাই ধানের আবাদই এখন একমাত্র ভরসা। অপর কৃষক লালচান মোল্লাও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাহবুব ইলাহী বলেন, এ বছর উপজেলায় ২ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। তবে টানা এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বৃষ্টির কারণে অনেক ক্ষেতের মরিচ গাছ মারা গেছে। ক্ষতির পরিমাণ ৫০ শতাংশেরও বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক কৃষককে সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের আওতায় আনা হবে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) মধুখালী কাঁচা মরিচের আড়তের ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমান মোল্যা ও মির্জা আবু জাফর জানান, বাজারে সরবরাহ কম থাকায় প্রতি মণ কাঁচা মরিচ ৭ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। তাদের ধারণা, সরবরাহ পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে মরিচের দাম আরও বাড়তে পারে।