Dhaka ০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক হলেন ডা: নুরুল ইসলাম ফিফা ঘোষিত বিশ্বকাপের সেরা একাদশে জায়গা পেলেন যারা আন্দোলনে দিল্লি পুলিশের ‘বাড়াবাড়ি’, ভিডিও-সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ হাইকোর্টের স্থানীয় সরকার শক্তিশালী হলেই গণতন্ত্র ও রাষ্ট্র শক্তিশালী হবে : মির্জা ফখরুল এসএসসি’র ফল প্রকাশে বোর্ডের নতুন সিদ্ধান্ত ৪৯তম বিশেষ বিসিএসে দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা, একজন কারাগারে পোশাক শিল্পের বিকাশে যা প্রয়োজন, সরকার তাই করবে : প্রধানমন্ত্রী ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করবে সরকার : স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঔষধ কারচুপির প্রতিবাদে জাবি চিকিৎসাকেন্দ্রে মানববন্ধন

হরমুজের উত্তেজনার মধ্যেই ইরানে নতুন মার্কিন হামলা, পাল্টা হুঁশিয়ারি তেহরানের

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৯:১১:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
  • / 11

ইরানে টানা ১১তম রাতের মতো বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হামলার সময় রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর পরপরই শহরের বিভিন্ন স্থানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। একই সময়ে দেশের দক্ষিণ ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি সামরিক স্থাপনাতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরান যে হুমকি সৃষ্টি করছে, তা দুর্বল করতেই সর্বশেষ এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

সেন্টকমের এক বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযানে ইরানের সামরিক অভিযান পরিচালনা কেন্দ্র, নৌ সক্ষমতা, বিমান রাখার হ্যাঙ্গার, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সামরিক রসদ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি তৌহিদ আসাদি জানিয়েছেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই সঙ্গে নগরীর বিভিন্ন অংশে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হতে দেখা যায়।

এদিকে ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের বুশেহর শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই সময়ে দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক শহরের আশপাশেও একাধিক বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে ফার্স সংবাদ সংস্থা।

ফার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশের বেহবাহান ও ওমিদিয়েহ শহরের কাছাকাছি এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রদেশটির ডেপুটি গভর্নর।

এ ছাড়া উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবরিজ শহরের উপকণ্ঠে একটি সামরিক স্থাপনাও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে জানিয়েছে ফার্স। স্থানীয় সংকট ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানায়, স্থানীয় সময় রাত ২টা ৪০ মিনিটে শহরের বাইরে অবস্থিত একটি সামরিক এলাকায় হামলা চালানো হয়। তবে তাবরিজ শহরের অভ্যন্তরে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলাগুলোয় যুক্তরাষ্ট্র মূলত দক্ষিণ ইরান ও হরমুজ প্রণালির আশপাশের এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করছিল। তবে এবার তেহরান ও তাবরিজে হামলার খবর অভিযানের পরিধিতে নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এর আগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, তারা ইরানের ছোড়া একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা পুনরায় শুরুর পর ইরানও কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারসহ উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পিট হেগসেথ কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। পাশাপাশি পেন্টাগনের জন্য আরও ৯০ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত অর্থায়নের প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি জানান।

অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের এই দাবি নিয়ে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েন হেগসেথ। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেটর জন অসফ প্রশ্ন তুলে বলেন, এর আগে হেগসেথ ইরানের সামরিক বাহিনীকে ‘ধ্বংস’ করা হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন। তাহলে এখন নতুন করে এত বড় অঙ্কের অর্থ কেন প্রয়োজন?

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামে সন্দেহভাজন একটি ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় তিনি ‘খুব শিগগিরই’ এবং ‘অত্যন্ত জোরালোভাবে’ হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছেন।

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের জবাবে ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়, তাহলে পুরো অঞ্চলে সংঘাতের পরিধি আরও বিস্তৃত করা হবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

হরমুজের উত্তেজনার মধ্যেই ইরানে নতুন মার্কিন হামলা, পাল্টা হুঁশিয়ারি তেহরানের

প্রকাশের সময় : ০৯:১১:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ইরানে টানা ১১তম রাতের মতো বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হামলার সময় রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর পরপরই শহরের বিভিন্ন স্থানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। একই সময়ে দেশের দক্ষিণ ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি সামরিক স্থাপনাতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরান যে হুমকি সৃষ্টি করছে, তা দুর্বল করতেই সর্বশেষ এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

সেন্টকমের এক বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযানে ইরানের সামরিক অভিযান পরিচালনা কেন্দ্র, নৌ সক্ষমতা, বিমান রাখার হ্যাঙ্গার, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সামরিক রসদ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি তৌহিদ আসাদি জানিয়েছেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই সঙ্গে নগরীর বিভিন্ন অংশে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হতে দেখা যায়।

এদিকে ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের বুশেহর শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই সময়ে দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক শহরের আশপাশেও একাধিক বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে ফার্স সংবাদ সংস্থা।

ফার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশের বেহবাহান ও ওমিদিয়েহ শহরের কাছাকাছি এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রদেশটির ডেপুটি গভর্নর।

এ ছাড়া উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবরিজ শহরের উপকণ্ঠে একটি সামরিক স্থাপনাও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে জানিয়েছে ফার্স। স্থানীয় সংকট ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানায়, স্থানীয় সময় রাত ২টা ৪০ মিনিটে শহরের বাইরে অবস্থিত একটি সামরিক এলাকায় হামলা চালানো হয়। তবে তাবরিজ শহরের অভ্যন্তরে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলাগুলোয় যুক্তরাষ্ট্র মূলত দক্ষিণ ইরান ও হরমুজ প্রণালির আশপাশের এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করছিল। তবে এবার তেহরান ও তাবরিজে হামলার খবর অভিযানের পরিধিতে নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এর আগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, তারা ইরানের ছোড়া একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা পুনরায় শুরুর পর ইরানও কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারসহ উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পিট হেগসেথ কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। পাশাপাশি পেন্টাগনের জন্য আরও ৯০ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত অর্থায়নের প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি জানান।

অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের এই দাবি নিয়ে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েন হেগসেথ। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেটর জন অসফ প্রশ্ন তুলে বলেন, এর আগে হেগসেথ ইরানের সামরিক বাহিনীকে ‘ধ্বংস’ করা হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন। তাহলে এখন নতুন করে এত বড় অঙ্কের অর্থ কেন প্রয়োজন?

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামে সন্দেহভাজন একটি ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় তিনি ‘খুব শিগগিরই’ এবং ‘অত্যন্ত জোরালোভাবে’ হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছেন।

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের জবাবে ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়, তাহলে পুরো অঞ্চলে সংঘাতের পরিধি আরও বিস্তৃত করা হবে।