Dhaka ১২:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
নওগাঁর পোরশায় প্রক্সি পরীক্ষা দিতে এসে আটক দুই যুবক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড কালীগঞ্জে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাদের ছোড়া গুলি, ৫৫ বছর পর শরীর থেকে অপসারণ শনিবার ছুটি ভেবে কেন্দ্রে দেরিতে, পরীক্ষা দিতে পারলেন না শিক্ষার্থী ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচের দায়িত্বে ‘৮ কার্ড দেখানো’ রেফারি নিজ সন্তানকে মুখ চেপে-অ্যাসিড খাইয়ে মারে বাবা-মা, প্রচার করে ‘আত্মহত্যা’ অভিনেত্রী শাওন-মাহিসহ তিন নারীর বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় অভিযোগ কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনাকে কি সত্যিই বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয়েছিল? মদ্যপান করে স্কুলে মাতলামি : প্রধান শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত, এমপিও স্থগিত শার্শায় নাভারণে ১০ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাদের ছোড়া গুলি, ৫৫ বছর পর শরীর থেকে অপসারণ

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১০:৪৯:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • / 7

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ছোড়া গুলি শরীরে নিয়েই দীর্ঘ ৫৫ বছর কাটিয়েছেন নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বাসিন্দা মন্নাস আলী (৭৫)। অবশেষে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার শরীর থেকে গুলিটি সফলভাবে অপসারণ করেছেন চিকিৎসকেরা।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. তানজিরুল ইসলাম রায়হানের নেতৃত্বে একটি চিকিৎসক দল প্রায় ৩০ মিনিটের অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গুলিটি বের করেন।

মন্নাস আলীর বাড়ি উপজেলার গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের হরিয়াউন্দ গ্রামে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যরা জানান, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে দুর্গাপুরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী একটি ক্যাম্প স্থাপন করে। সে সময় গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নে এক বীর মুক্তিযোদ্ধা তিন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করে মাটিচাপা দেন। এর প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তানি সেনারা আশপাশের গ্রামগুলোতে হামলা চালায়। হামলার সময় অর্ধশতাধিক মানুষকে ঘরের ভেতরে আটকে আগুন দেওয়া হয় এবং নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এতে অনেকে নিহত হন, আবার কেউ পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন।

মন্নাস আলীও প্রাণ বাঁচাতে পালানোর সময় পাকিস্তানি সেনাদের ছোড়া একটি গুলি তার পেটে বিদ্ধ হয়। দারিদ্র্যের কারণে তিনি আর চিকিৎসা করাতে পারেননি। ফলে শরীরে গুলি নিয়েই কেটে যায় দীর্ঘ ৫৫ বছর।

সম্প্রতি বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এলে স্থানীয়দের উদ্যোগে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গুলিটি অপসারণের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকেরা।

মন্নাস আলীর ছেলে আবুল হোসেন বলেন, ‘আমার বাবা বেশির ভাগ সময় অসুস্থ থাকতেন। টাকার অভাবে আমরা চিকিৎসা করাতে পারিনি। বাবাও গুলি বের করতে ভয় পেতেন। সবার সহযোগিতায় আজ তার শরীর থেকে গুলিটি বের করা হয়েছে। আমরা সবার কাছে দোয়া চাই।’

পুত্রবধূ হামিদা খাতুন বলেন, ‘আমার শ্বশুর সব সময় বলতেন, তার শরীরে গুলি রয়েছে। আজ গুলি বের করার পর আমরা নিজের চোখে সেটি দেখলাম। তিনি বলতেন, মৃত্যুর পর যেন গুলি না বের করেই তাকে দাফন করা হয়। আল্লাহর রহমতে জীবিত অবস্থাতেই গুলিটি অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে।’

দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. তানজিরুল ইসলাম রায়হান বলেন, স্থানীয় বাসিন্দা মোশারফ শুক্রবার মন্নাস আলীকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার শরীরে গুলি থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শনিবার সফলভাবে গুলিটি অপসারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারটি করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া গুলির বিষয়ে থানায় অবহিত করা হয়েছে। মন্নাস আলীকে আরও তিন থেকে চার দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাদের ছোড়া গুলি, ৫৫ বছর পর শরীর থেকে অপসারণ

প্রকাশের সময় : ১০:৪৯:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ছোড়া গুলি শরীরে নিয়েই দীর্ঘ ৫৫ বছর কাটিয়েছেন নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বাসিন্দা মন্নাস আলী (৭৫)। অবশেষে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার শরীর থেকে গুলিটি সফলভাবে অপসারণ করেছেন চিকিৎসকেরা।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. তানজিরুল ইসলাম রায়হানের নেতৃত্বে একটি চিকিৎসক দল প্রায় ৩০ মিনিটের অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গুলিটি বের করেন।

মন্নাস আলীর বাড়ি উপজেলার গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের হরিয়াউন্দ গ্রামে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যরা জানান, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে দুর্গাপুরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী একটি ক্যাম্প স্থাপন করে। সে সময় গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নে এক বীর মুক্তিযোদ্ধা তিন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করে মাটিচাপা দেন। এর প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তানি সেনারা আশপাশের গ্রামগুলোতে হামলা চালায়। হামলার সময় অর্ধশতাধিক মানুষকে ঘরের ভেতরে আটকে আগুন দেওয়া হয় এবং নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এতে অনেকে নিহত হন, আবার কেউ পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন।

মন্নাস আলীও প্রাণ বাঁচাতে পালানোর সময় পাকিস্তানি সেনাদের ছোড়া একটি গুলি তার পেটে বিদ্ধ হয়। দারিদ্র্যের কারণে তিনি আর চিকিৎসা করাতে পারেননি। ফলে শরীরে গুলি নিয়েই কেটে যায় দীর্ঘ ৫৫ বছর।

সম্প্রতি বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এলে স্থানীয়দের উদ্যোগে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গুলিটি অপসারণের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকেরা।

মন্নাস আলীর ছেলে আবুল হোসেন বলেন, ‘আমার বাবা বেশির ভাগ সময় অসুস্থ থাকতেন। টাকার অভাবে আমরা চিকিৎসা করাতে পারিনি। বাবাও গুলি বের করতে ভয় পেতেন। সবার সহযোগিতায় আজ তার শরীর থেকে গুলিটি বের করা হয়েছে। আমরা সবার কাছে দোয়া চাই।’

পুত্রবধূ হামিদা খাতুন বলেন, ‘আমার শ্বশুর সব সময় বলতেন, তার শরীরে গুলি রয়েছে। আজ গুলি বের করার পর আমরা নিজের চোখে সেটি দেখলাম। তিনি বলতেন, মৃত্যুর পর যেন গুলি না বের করেই তাকে দাফন করা হয়। আল্লাহর রহমতে জীবিত অবস্থাতেই গুলিটি অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে।’

দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. তানজিরুল ইসলাম রায়হান বলেন, স্থানীয় বাসিন্দা মোশারফ শুক্রবার মন্নাস আলীকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার শরীরে গুলি থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শনিবার সফলভাবে গুলিটি অপসারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারটি করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া গুলির বিষয়ে থানায় অবহিত করা হয়েছে। মন্নাস আলীকে আরও তিন থেকে চার দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন।