সাংবাদিক দেখে দৌঁড়ে পালালেন প্রাইভেট হাসপাতালে থাকা সরকারি চিকিৎসক
- প্রকাশের সময় : ০৬:৩৫:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
- / 10
চাঁপাইনবাবগঞ্জে অফিস চলাকালে সরকারি দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে একটি বেসরকারি হাসপাতালে রোগী দেখার অভিযোগ উঠেছে এক সরকারি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এ সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি দ্রুত হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মো. ইনজামাম উল হক চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার (কো-অর্ডিনেটর) হিসেবে কর্মরত।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে শহরের আরামবাগ এলাকার চাঁপাই অ্যাপোলো হাসপাতালে রোগী দেখছিলেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাকে এক রোগীর আলট্রাসনোগ্রাম করতে দেখা যায়। ভিডিও ধারণ শুরু হলে তিনি দ্রুত হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যান।
স্থানীয় বাসিন্দা মিনার আহমেদ ও সাকির আলী জানান, তারা হঠাৎ চিকিৎসককে হাসপাতাল থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে দেখেন। তার পেছনে কয়েকজন সাংবাদিক ক্যামেরা নিয়ে বেরিয়ে আসেন। পরে চিকিৎসক মোবাইল ফোনে লাইভে এসে দাবি করেন, তিনি নামাজ পড়তে সেখানে গিয়েছিলেন। পরে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন আলোচনা শুরু হয়।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই সরকারি চাকরির দায়িত্ব পালনের সময় বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চাঁপাই অ্যাপোলো হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন ও তত্ত্বাবধায়ক শ্রী বিশ্বজিৎ। তাদের দাবি, দুপুরের বিরতির সময় ডা. ইনজামাম উল হক হাসপাতালে এসেছিলেন। তাদের ভাষ্য, ঘটনাটি ভুল বোঝাবুঝির ফল এবং চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে ডা. ইনজামাম উল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, সাংবাদিকদের সঙ্গে সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝির সমাধান হয়েছে এবং এ বিষয়ে নেতিবাচক মন্তব্য না করার আহ্বান জানান।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দিন বলেন, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক সকাল থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তার সঙ্গে দাপ্তরিক কাজে ছিলেন। তবে অফিস চলাকালে বেসরকারি হাসপাতালে রোগী দেখার বিষয়ে তার কাছে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















