Dhaka ০৬:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:

নিজ হাতে ৩০ পারা কোরআন লিখে নজির গড়লেন শিক্ষার্থী সুরাইয়া

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৪:৫৪:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
  • / 7

নিজ হাতে সম্পূর্ণ ৩০ পারা পবিত্র কোরআন লিখে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার শিক্ষার্থী সুরাইয়া জান্নাত। তার হাতে লেখা কোরআন এতটাই নিখুঁত যে, প্রথম দেখায় এটি ছাপা নাকি হাতে লেখা—তা বোঝা কঠিন।

১৮ বছর বয়সী সুরাইয়া জান্নাত লাকসাম উপজেলার মুদাফরগঞ্জ এ ইউ ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের চাঁদগাঁও গ্রামের সৌদি প্রবাসী নুর হোসেন লিটন ও জান্নাতুল ফেরদৌস দম্পতির মেয়ে।

তার এই ব্যতিক্রমী অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ কান্দিরপাড় ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে তাকে সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিভাগের স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক রাশেদা আক্তার, লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নার্গিস সুলতানা, কান্দিরপাড় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুর ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ইউএনও নার্গিস সুলতানা বলেন, এত অল্প বয়সে নিজ হাতে পুরো কোরআন লিখে সুরাইয়া একটি অনন্য নজির স্থাপন করেছে। তার হাতের লেখা অত্যন্ত সুন্দর ও নিখুঁত। প্রয়োজনে তার পড়াশোনার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।

সুরাইয়া জানান, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি তিনি কোরআন লেখা শুরু করেন। মাদ্রাসার নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতিদিন সময় বের করে যত্নসহকারে লিখতে লিখতে প্রায় আট মাসে ৬১১ পৃষ্ঠার সম্পূর্ণ কোরআন লেখা শেষ করেন। এ কাজে তার প্রায় ৫৫টি কলম ব্যবহার হয়েছে।

তিনি বলেন, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং মহানবী (সা.)-এর শাফায়াত লাভের আশায় তিনি এ উদ্যোগ নেন। প্রতিবার লেখার আগে অজু করে দরূদ শরিফ পাঠের মাধ্যমে লেখা শুরু করতেন, যাতে কাজে বরকত থাকে।

সুরাইয়া আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় ব্যয় না করে ভালো ও কল্যাণকর একটি কাজ করতে চেয়েছেন। সাহাবায়ে কেরামের কোরআন সংরক্ষণের ত্যাগ ও শ্রম থেকেই তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছেন। ভবিষ্যতে তিনি নিজ হাতে হাদিসের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ সহিহ বুখারি লেখারও ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

সুরাইয়ার ভাষ্য, পুরো কোরআন লেখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা দিয়েছেন তার ছোট ভাই নাহিদ হাসান, যিনি আবেদনগর দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

সুরাইয়ার মা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ছোটবেলা থেকেই মেয়ের আরবি ভাষা ও সুন্দর হাতের লেখার প্রতি বিশেষ আগ্রহ ছিল। মেয়ের এই অসাধারণ অর্জনে আনন্দিত হয়ে তার বাবা নুর হোসেন লিটন তাকে এক লাখ টাকা পুরস্কার দিয়েছেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

নিজ হাতে ৩০ পারা কোরআন লিখে নজির গড়লেন শিক্ষার্থী সুরাইয়া

প্রকাশের সময় : ০৪:৫৪:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

নিজ হাতে সম্পূর্ণ ৩০ পারা পবিত্র কোরআন লিখে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার শিক্ষার্থী সুরাইয়া জান্নাত। তার হাতে লেখা কোরআন এতটাই নিখুঁত যে, প্রথম দেখায় এটি ছাপা নাকি হাতে লেখা—তা বোঝা কঠিন।

১৮ বছর বয়সী সুরাইয়া জান্নাত লাকসাম উপজেলার মুদাফরগঞ্জ এ ইউ ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের চাঁদগাঁও গ্রামের সৌদি প্রবাসী নুর হোসেন লিটন ও জান্নাতুল ফেরদৌস দম্পতির মেয়ে।

তার এই ব্যতিক্রমী অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ কান্দিরপাড় ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে তাকে সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিভাগের স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক রাশেদা আক্তার, লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নার্গিস সুলতানা, কান্দিরপাড় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুর ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ইউএনও নার্গিস সুলতানা বলেন, এত অল্প বয়সে নিজ হাতে পুরো কোরআন লিখে সুরাইয়া একটি অনন্য নজির স্থাপন করেছে। তার হাতের লেখা অত্যন্ত সুন্দর ও নিখুঁত। প্রয়োজনে তার পড়াশোনার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।

সুরাইয়া জানান, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি তিনি কোরআন লেখা শুরু করেন। মাদ্রাসার নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতিদিন সময় বের করে যত্নসহকারে লিখতে লিখতে প্রায় আট মাসে ৬১১ পৃষ্ঠার সম্পূর্ণ কোরআন লেখা শেষ করেন। এ কাজে তার প্রায় ৫৫টি কলম ব্যবহার হয়েছে।

তিনি বলেন, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং মহানবী (সা.)-এর শাফায়াত লাভের আশায় তিনি এ উদ্যোগ নেন। প্রতিবার লেখার আগে অজু করে দরূদ শরিফ পাঠের মাধ্যমে লেখা শুরু করতেন, যাতে কাজে বরকত থাকে।

সুরাইয়া আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় ব্যয় না করে ভালো ও কল্যাণকর একটি কাজ করতে চেয়েছেন। সাহাবায়ে কেরামের কোরআন সংরক্ষণের ত্যাগ ও শ্রম থেকেই তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছেন। ভবিষ্যতে তিনি নিজ হাতে হাদিসের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ সহিহ বুখারি লেখারও ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

সুরাইয়ার ভাষ্য, পুরো কোরআন লেখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা দিয়েছেন তার ছোট ভাই নাহিদ হাসান, যিনি আবেদনগর দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

সুরাইয়ার মা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ছোটবেলা থেকেই মেয়ের আরবি ভাষা ও সুন্দর হাতের লেখার প্রতি বিশেষ আগ্রহ ছিল। মেয়ের এই অসাধারণ অর্জনে আনন্দিত হয়ে তার বাবা নুর হোসেন লিটন তাকে এক লাখ টাকা পুরস্কার দিয়েছেন।