২০ মাসে ধর্ষণ-নির্যাতনে নিহত ৬৪৩ শিশু
- প্রকাশের সময় : ০৫:০৮:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
- / 120
দেশে ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতনের পর শিশু হত্যার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ২০ মাসে সারা দেশে ৬৪৩ শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনায় নিহত হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি মাসে গড়ে ৩২ জনের বেশি শিশু প্রাণ হারিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই ২০৩ জন শিশু নিহত হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে নিহত হয়েছে আরও ৪৭৮ শিশু। একই সময়ে দেশে অন্তত এক হাজার ৮৯০ শিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ৪০৭ শিশু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয় এবং ৪৮৩ শিশু নিহত হয়। এছাড়া ৫৮০ শিশু ধর্ষণ ও ৩১৮ শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে।
সম্প্রতি রাজধানীর পল্লবীতে শিশু শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় গ্রেফতার সোহেল রানার বাসা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। রামিসার বাবা-মায়ের আহাজারি ও ক্ষোভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
এইচআরএসএসের তথ্যমতে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসেই ২৯৪ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে অন্তত ৬৮ জন ধর্ষণের শিকার, যাদের মধ্যে ৩০ জনই শিশু ও কিশোরী। এছাড়া ১৩ জন নারী ও কন্যাশিশু গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন ৭৯ জন, যার মধ্যে ৪০ জন শিশু।
অন্যদিকে, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানেও শিশু সুরক্ষার ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে দেশে দুই হাজার ৩৩৯টি শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২০২১ সালে ৭৭৪টি, ২০২২ সালে ৫৬১টি, ২০২৩ সালে ৩১৪টি, ২০২৪ সালে ২৩৪টি এবং ২০২৫ সালে ৪৫৬টি ঘটনা ঘটে। চলতি ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আরও ৯৪টি শিশু ধর্ষণের ঘটনা রেকর্ড হয়েছে।
একইভাবে বেড়েছে শিশু ধর্ষণচেষ্টার ঘটনাও। গত পাঁচ বছরে দেশে অন্তত ৬০৪টি ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিচারহীনতা, দীর্ঘসূত্রতা এবং অপরাধীদের সহজে পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতির কারণেই এ ধরনের অপরাধ বাড়ছে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের আইনজীবী ফাহমিদা আক্তার বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে বিলম্ব, সাক্ষীদের আদালতে হাজির করতে না পারা এবং ট্রাইব্যুনালগুলোর অতিরিক্ত মামলার চাপ বিচার প্রক্রিয়াকে দীর্ঘ করছে। তিনি বলেন, “আলোচিত ঘটনাগুলোর দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে অপরাধীদের মধ্যে ভয় তৈরি হবে না।”
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, “ন্যায়বিচার নিশ্চিতে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতেই হয়। তবে তদন্ত ও সাক্ষ্যগ্রহণে বিলম্বের কারণে বিচার দীর্ঘ হয়।”
এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, “একটির পর একটি শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা প্রমাণ করে শিশু সুরক্ষায় বিদ্যমান ব্যবস্থা কার্যকর নয়। এখনই কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।”
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পল্লবীর শিশু রামিসা হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও তার সহযোগীকে দ্রুত গ্রেফতার করা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।




















