Dhaka ০৫:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে দেশ স্বাধীন হতো না, তিনি স্বাধীনতার স্থপতি: আসিফ নজরুল ভারতের স্বাধীনতা দিবসে বেনাপোল-পেট্রাপোলে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ নওগাঁর ধামইরহাট থানা পরিদর্শনে পুলিশ সুপার বিএনপি ৩১ দফা দেয়, পূরণ করে ৩২ দফা পর্যন্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নওগাঁয় খাল খননের উদ্বৃত্ত ১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত ঝিনাইদহে নিখোঁজের তিনদিন পর নদী থেকে রমজানের মরদেহ উদ্ধার দেশমাতার জন্মদিনে শিক্ষকদের অশ্রু মুছতে যাচ্ছি: শিক্ষামন্ত্রী কোটালীপাড়ায় বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিনে বিএনপির আলোচনা ও দোয়া ভারত-বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে : দীনেশ ত্রিবেদী ধানমন্ডি ৩২-এ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে যুবক আটক

নওগাঁয় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিয়ে উত্তেজনা, মুক্তিযোদ্ধাকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার অভিযোগ

খোরশেদ আলম, নওগাঁ প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ১২:১৩:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
  • / 119

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার হাজিনগর ইউনিয়ন পরিষদের উন্মুক্ত বাজেট সভায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমানকে প্রকাশ্যে মাইকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে আলাউদ্দিন নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুর আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে হাজিনগর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের উন্মুক্ত বাজেট সভায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। একইসঙ্গে প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সচেতন মহল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উন্মুক্ত বাজেট সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান। বক্তব্যের শেষদিকে তিনি অসাবধানতাবশত ‘জয় বাংলা’ স্লোগান উচ্চারণ করেন। পরে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে সভাস্থলেই দুঃখ প্রকাশ করেন।

তবে অভিযোগ রয়েছে, এ সময় হাজিনগর ইউনিয়নের মাকলাহাট গ্রামের নইমুদ্দীনের ছেলে আলাউদ্দিন নিজেকে বিএনপির নেতা পরিচয় দিয়ে বিষয়টিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে তিনি ও তার সহযোগীরা বীর মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং তাকে হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

পরিস্থিতির একপর্যায়ে প্রবীণ ওই মুক্তিযোদ্ধাকে সভাস্থলের মাইকে সবার সামনে পুনরায় ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। এতে উপস্থিত সাধারণ মানুষ, সুধীসমাজ ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

এ বিষয়ে হাজিনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফিরোজ মাহমুদ বলেন, আলাউদ্দিন নিজেকে বিএনপির নেতা দাবি করলেও বাস্তবে তার কোনো সাংগঠনিক ভিত্তি নেই। রাজনৈতিক সুবিধা নিতে সে বিএনপির নাম ব্যবহার করছে। অতীতেও তার বিরুদ্ধে ভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আলাউদ্দিন আগে অন্য একটি রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় থেকে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত ছিল বলেও এলাকায় প্রচলিত রয়েছে। বর্তমানে নিজেকে যুবদলের নেতা পরিচয় দিলেও আদতে তিনি যুবদলের কোনো সদস্য নন।

অন্যদিকে অভিযুক্ত আলাউদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে যুবদলের কর্মী বলে দাবি করেন। তবে যুবদলের কোনো পদ বা সাংগঠনিক পরিচয়ের প্রমাণ দেখাতে পারেননি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান বলেন, “আমরা রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন করেছি। মুখ ফসকে ‘জয় বাংলা’ বলার পর আমি সঙ্গে সঙ্গে ভুল স্বীকার করলেও আমাকে সবার সামনে লাঞ্ছিত করা হয় এবং মাইকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা জেনেও এমন হেনস্তার শিকার হব, তা কখনও ভাবিনি।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, আলাউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

নওগাঁয় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিয়ে উত্তেজনা, মুক্তিযোদ্ধাকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ১২:১৩:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার হাজিনগর ইউনিয়ন পরিষদের উন্মুক্ত বাজেট সভায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমানকে প্রকাশ্যে মাইকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে আলাউদ্দিন নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুর আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে হাজিনগর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের উন্মুক্ত বাজেট সভায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। একইসঙ্গে প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সচেতন মহল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উন্মুক্ত বাজেট সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান। বক্তব্যের শেষদিকে তিনি অসাবধানতাবশত ‘জয় বাংলা’ স্লোগান উচ্চারণ করেন। পরে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে সভাস্থলেই দুঃখ প্রকাশ করেন।

তবে অভিযোগ রয়েছে, এ সময় হাজিনগর ইউনিয়নের মাকলাহাট গ্রামের নইমুদ্দীনের ছেলে আলাউদ্দিন নিজেকে বিএনপির নেতা পরিচয় দিয়ে বিষয়টিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে তিনি ও তার সহযোগীরা বীর মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং তাকে হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

পরিস্থিতির একপর্যায়ে প্রবীণ ওই মুক্তিযোদ্ধাকে সভাস্থলের মাইকে সবার সামনে পুনরায় ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। এতে উপস্থিত সাধারণ মানুষ, সুধীসমাজ ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

এ বিষয়ে হাজিনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফিরোজ মাহমুদ বলেন, আলাউদ্দিন নিজেকে বিএনপির নেতা দাবি করলেও বাস্তবে তার কোনো সাংগঠনিক ভিত্তি নেই। রাজনৈতিক সুবিধা নিতে সে বিএনপির নাম ব্যবহার করছে। অতীতেও তার বিরুদ্ধে ভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আলাউদ্দিন আগে অন্য একটি রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় থেকে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত ছিল বলেও এলাকায় প্রচলিত রয়েছে। বর্তমানে নিজেকে যুবদলের নেতা পরিচয় দিলেও আদতে তিনি যুবদলের কোনো সদস্য নন।

অন্যদিকে অভিযুক্ত আলাউদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে যুবদলের কর্মী বলে দাবি করেন। তবে যুবদলের কোনো পদ বা সাংগঠনিক পরিচয়ের প্রমাণ দেখাতে পারেননি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান বলেন, “আমরা রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন করেছি। মুখ ফসকে ‘জয় বাংলা’ বলার পর আমি সঙ্গে সঙ্গে ভুল স্বীকার করলেও আমাকে সবার সামনে লাঞ্ছিত করা হয় এবং মাইকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা জেনেও এমন হেনস্তার শিকার হব, তা কখনও ভাবিনি।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, আলাউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।